Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য কি আদালত অবমাননা নয় প্রশ্ন নজরুল ইসলাম খানের

প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আদালত অবমাননা কিনাÑএমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী বললেন যে হাইকোর্টে রায় যেটা হয়েছে, এটা সংবিধান পরিপন্থী। এখন আদালত সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেন। তাও কোন ব্যাপারে? সংবিধানের একটি সংশোধনীর ব্যাপারে। এটা (আইনমন্ত্রীর বক্তব্য) আদালত অবমাননা হচ্ছে না?
আমি মনে করি, আদালতের এটা বিবেচনা করা দরকার যে আদালতের রায়কে যখন বলা হয় সংবিধান পরিপন্থীÑএর চেয়ে বড় আর কী বলা যাবে? এটা বিবেচনায় নেয়া উচিত।
একটি রিট আবেদনে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, সংসদের মাধ্যমে বিচারকগণের অপসারণ প্রক্রিয়া ইতিহাসের একটি দুর্ঘটনা।
গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংসদের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে দেওয়া এই রায় আপিল বিভাগে টিকবে না। রাষ্ট্রপক্ষ এখন আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা আইনি পথেই যাব। আমরা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করব না।
উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। ওই সংশোধন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবীর একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ সংসদের ওই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে রায় দেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামিক পার্টির মরহুম চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুুল মোবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
সামরিক শাসক এরশাদের শাসনমালের কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা বলি স্বৈরাচারী এরশাদ আমল। এখন যা চলছে, এ তো চলেনি তখন। এত গুম-খুন, এত মিথ্যা মামলা, এত হয়রানি, এত লোক কারাগারেÑস্বৈরাচার আমলেও হয়নি। তারপরও বলি আমরা তাদেরকে সামরিক স্বৈরাচার। সেই আমলে অষ্টম সংশোধন যেটা তারা (এরশাদ সরকার) করেছিল, সেটা আদালত বাতিল করে দিয়েছিলেন। তখন আমরা যারা আন্দোলন করছিলাম ৭ দলীয় জোট। তখন আরেকটা ছিল ১৫ দলীয় জোট। শেখ হাসিনা ১৫ দলীয় জোটের নেত্রী ছিলেন। আমরা সবাই তখন দাবি করেছিলাম যে সরকারের পাস করা আইন আদালত বাতিল করে দেয়, ওই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই।
তিনি বলেন, আমরা অষ্টম সংশোধনীর সময়ে কি মিথ্যা বলেছিলাম, না ভুল বলেছিলাম। খালি আমরা নই, যারা আজকে ক্ষমতায় আছেন তারাও বলেছিলেন। যদি এটা সঠিক হয়, তাহলে এখন ষোড়শ সংশোধনী যে আদালত অবৈধ ঘোষণা করে দিলেন, তা হলে এই সরকারের কী হবে? এর জন্য তো অন্য যুক্তি দরকার নেই।
আমরা নিজেই দাবি করেছি একসময়ে যদি কোনো সরকারের পার্লামেন্টে গৃহীত কোনো আইন যদি আদালত বাতিল করে দেয়, তাহলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার থাকে না। আমরাই বলেছি তখন। তা এখন এটা যে বাতিল করে দিল এখন কী হবে? এর জবাব তো তাদের দেয়া দরকার। হয় বলতে হবে ওই সময়ে যেটা বলছিলাম সেটা ভুল ছিল, আর না হয় বলতে হবে কথা ওইটা ঠিকই ছিল। অতত্রব আমরা পদত্যাগ করলাম।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, অত্যাচারী শাসন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জনগণের কষ্ট বাড়ে। বিশেষ করে এর বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট একটু বেশি হয়। ক্ষতি হয় দেশের। তবে আমরা বলতে পারি, অত্যাচার যত দীর্ঘায়িত হয়, অত্যাচারীর পতন তত করুণ হয়, তত দুর্ভাগ্যজনক হয়।
আমরা কারো শত্রু নই। আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কাজেই আমরা আশা করব যে, অত্যাচার-নিপীড়ন বন্ধ হোক এবং সেটা সংক্ষিপ্ত হোক। যাতে করে পরিণতি করুণ না হয়। আমরা দেশের স্বার্থেই এটা চাইব। কারণ শেষ বিচারে ক্ষতিটা হয় দেশের, দেশের মানুষের। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও জোট হিসেবে আমরা চাইব, এই পরিবর্তনটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমেই হোক।
ইসলামিক পার্টির মরহুম নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুুল মোবিনের বর্ণাঢ্য সংগ্রামী ও গণতন্ত্রী মনা জীবনস্মৃতি তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান।
পরে মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল হয়।
ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি আব্দুুস সালাম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ড. ঈসা সাহেদী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, পিপলস লীগে সৈয়দ মাহবুব হোসেন, মুসলিম লীগের কাজী আবুল খায়ের, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, আফসার উদ্দিন আহমেদ, মাহমুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন