Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

বেপরোয়া হামলার মুখে নিরাপত্তাহীন ড. মঈন

১০ হামলায় আহত অর্ধশত

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে | প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে গিয়ে নরসিংদীর পাঁচ আসনের বিএনপির প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মহাসঙ্কটে রয়েছে। প্রার্থী ও তাদের ভোটকর্মীরা ঘর থেকে বের হলেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যখন তখন হামলা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকেরা। সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছেন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। নির্বাচনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ছোট বড় কমবেশি ১০টি হামলার শিকার হয়েছেন ড. মঈন খান এবং তার ভোটকর্মীরা।
কয়েকদিন আগে নরসিংদীতে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ড. মঈন খান নিজেই বলেছেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা থাকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। তার জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী ড. মঈন খান ও তার ভোট কর্মীদের উপর সর্বশেষ হামলা হয়েছে গত রোববার পলাশের পারুলিয়া, তারগাও ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। পারুলিয়ায় গণসংযোগ চলাকালে পলাশ থানা পুলিশ সেখানে হামলা চালিয়ে ড. মঈন খানের ভোটকর্মীদেরকে ব্যাপক মারধর করেছে। এই হামলার ঘটনা পলাশের ইএনওকে জানাতে গিয়ে তার কার্যালয়ের ভিতরে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ড. মঈন খানের ব্যক্তিগত সহকারী মিল্টনকে পিটিয়ে আহত করেছে। ড. আবদুল মঈন খান তার ভোট কর্মীদেরকে নিয়ে তারগাঁও গ্রামে আজিজ মেম্বারের বাড়িতে গেলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়। এর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ম বেলাবো এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। কিছুদিন পূর্বে পাঁচদোনা এলাকায় গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
পলাশ থানা যুবদলের সভাপতি নিসার খান জানান, একদিকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী, অপরদিকে পুলিশ। দ্বিমুখী বাধার কারণে পলাশে ধানের শীষের প্রচার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে সোহেল নামে পলাশ থানার একজন এসআই ধানের শীষের ভোটকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাধার সৃষ্টি করছেন। তার আচরণ আওয়ামী লীগের ভোটকর্মীর চেয়েও বেপরোয়া বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। পলাশে বিরোধী প্রার্থী ও ভোট কর্মীদের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে তা নজিরবিহীন। এখন শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করাই বাকি রয়েছে। তিনি দুঃখ করে বলেন, পলাশ আসনে দুজন প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ একজন চিকিৎসক। পক্ষান্তরে ড. আব্দুল মঈন খান একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ তথা একজন পদার্থবিজ্ঞানী। রাজনৈতিকভাবে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ স্থায়ী কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য। তিনি পলাশ আসনে কয়েক বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, ততবার তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। তার সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা নিয়ে এলাকায় কোন প্রশ্ন নেই। ড. আবদুল মঈন খানের পিতা মরহুম আব্দুল মোমেন খান ছিলেন একজন ডাকসাইটে সিএসপি অফিসার। সাধারণ মানুষ ধারণা করেছিল এই আসনে যেহেতু দুজন প্রার্থীই শিক্ষিত সেহেতু এখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অথচ নরসিংদী জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে পলাশে। যিনি আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ও পদার্থ বিজ্ঞানী ড. আবদুল মঈন খান। যার লোকেরা আক্রমণ করছে তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি আহত লোকদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। এক প্রশ্নে জবাবে যুবদল নেতা নিসার খান জানান, পুলিশ যেখানে নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেখানে মামলা করব কার কাছে। পলাশের এসব হামলার কথা নির্বাচন কমিশনার থেকে জানানো হয়েছে। তারা কেউ কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পারুলিয়া ও তারগায়ের ঘটনা নিয়ে ডক্টর মঈন খান গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন যাওয়ার কথা এছাড়া। নরসিংদীর অন্যান্য ৪টি আসনের প্রার্থীদের অবস্থা একেবারেই লেজে-গোবরে। কোন প্রার্থীই মাঠে ভোট চাইতে পারছেন না। কারাগারে বন্দি নরসিংদী সদর আসনের প্রার্থী কারণ কবির খোকন ভোটের বদলে এখন মুক্তি চাইছেন। দৌড়ের উপর রয়েছেন, শিবপুর মনোহরদী ও রায়পুরার প্রার্থীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ