Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

চমক দেখানো বসুন্ধরার প্রথম

জাহেদ খোকন | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ঘরোয়া ফুটবলের নতুন শক্তি বসুন্ধরা কিংস। পেশাদার লিগের দ্বিতীয়স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের গত আসরে সেরা হয়েই এবার প্রিমিয়ারে খেলার সুযোগ পেয়েছে দলটি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার আগেই মৌসুম সূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলে চমক দেখানো শুরু বসুন্ধরার। আর এবার মৌসুমের দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের শিরোপা জিতে সবাইকে চমকে দেয় নবাগত দলটি। অভিষেক আসরেই সেরা। ঘরোয়া ফুটবলে এমন কৃতিত্ব দীর্ঘদিন পর দেখলেন দর্শকরা।
গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ২-১ গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতে নেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে অমিমাংসিত থাকলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়। যেখানে সাফল্য পায় বসুন্ধরা। বিজয়ী দলের হয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মার্কোস ভিনিসিয়াস ও স্থানীয় ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া একটি করে গোল করেন। শেখ রাসেলের পক্ষে এক গোল শোধ দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল ওদোইন।
এ যেন রোমান সম্্রাট জুলিয়াস সিজারের সেই বিখ্যাত প্রবাদ ভিনি, ভিডি, ভিসি’র (এলাম, দেখলাম, জয় করলাম) মতো। চার ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রায় বিনা বাধায় পন্টুস রাজ্য দখলের পর রোমের সিনেটকে ওই তিন শব্দে জয়ের খবর জানিয়েছিলেন সিজার। ঘটনাটি খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭ সালের। দুই হাজারেরও বেশি বছর পেরিয়ে প্রবাদে পরিণত হওয়া কথাটি মনে করিয়ে দিলো বসুন্ধরা কিংস সঙ্গে ফরোয়ার্ড মতিন মিয়াও। বসুন্ধরা ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলে এবং স্বাধীনতা কাপের শিরোপা জিতে জানিয়ে দিলো ঘরোয়া ফুটবলের নতুন শক্তি তারা। আর মতিন মিয়া শেখ রাসেলের বিপক্ষে ফাইনালে জয়সূচক গোলটি করে জানালেন, তার প্রতিভা নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই। ‘খ্যাপ’ খেলার কারণে অনেক গঞ্জনা সইতে হয়েছিল মতিনকে। এমনকি শাস্তিও পেয়েছিলেন। তবে তার প্রতিভা নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না কোচদের। সেই প্রতিভা আবারো বিকাশ করলেন এই ফরোয়ার্ড। এক গোলেই নায়ক বনে গেলেন। নিজ দল বসুন্ধরাকে প্রথম শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিলেন মতিন মিয়া। মৌসুম সূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ঢাকা আবাহনীর কাছে ৩-১ গোলে হেরে শুরুতেই শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ হলেও দ্বিতীয় টুর্নামেন্টে ঠিকই ঘুরে দাঁড়ালো তারকা সমৃদ্ধ বসুন্ধরা কিংস। স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে শেখ রাসেলকে হারিয়ে যার প্রমাণ দিলো তারা।
শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকা বসুন্ধরার বিপক্ষে কাল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাতœক ফুটবল উপহার দেয় শেখ রাসেল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বসুন্ধরা। তবে প্রথম সুযোগটি পায় রাসেলই। ম্যাচের ৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আরিফুল ইসলামের পাসে পোস্টের খুব কাছ থেকেই আক্রমণ শানান শেখ রাসেল ডিফেন্ডার খালেকুর জামান। কিন্তু বল অল্পের জন্য গোলবার খুঁজে পায়নি। শুরুর দিকেই দু’টি কর্ণার আদায় করে নিয়ে যেখানে এগিয়ে যাবার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলো শেখ রাসেল, সেখানে ১৬ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের জাদুকরি শটে গোল করে বসুন্ধরাকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মার্কোস ভিনিসিয়াস (১-০)। যা ছিলো মৌসুমের সেরা গোলগুলোর একটি। আচমকা গোলে হতবাক হয়ে যান শেখ রাসেলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাও। ২৯ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে শেখ রাসেলকে বঞ্চিত করেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল ডি সিলভার ডান পায়ের কোনকোনি শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। তবে প্রথমার্ধের যোগকরা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) সমতায় ফিরে শেখ রাসেল। এই তাদের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল ওদোইন যে গোলটি করেন, সেটি অনেকটাই মার্কোসের গোলের কার্বণ কপিই বলা যায়। সতীর্থর পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কোনাকোনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন রাফায়েল (১-১)। সমতায় থেকে দু’দল বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্যদিয়ে। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রাফায়েল ডি সিলভা পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন কিন্তু বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। ৭৬ মিনিটে শেখ রাসেলের আরো একটি সুযেগ নষ্ট হয়। এসময় রাফায়েল ডি সিলভার ক্রসে রাফায়েল ওদোইন পা ছোঁয়াতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা অমিমাংসিতভাবেই শেষ হয়। ফলাফল নির্ধারণের জন্য রেফারি সুজিত ব্যানার্জি চন্দনকে ম্যাচ নিয়ে যেতে হয় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেই জয় সূচক গোলের দেখা পায় নবাগত বসুন্ধরা। ম্যাচের ৯৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের ভেতর থেকেই কোনাকুনী শটে গোল করেন অর্ধকোটি টাকার পারিশ্রমিকে বসুন্ধরায় আসা মতিন মিয়া (২-১)। মিনিট তিনেক পর ফের গোল পেতে পারতো বসুন্ধরা। কিন্তু তিনবারের প্রচেষ্টাতেও শেখ রাসেলের গোলরক্ষক রানার দেয়াল টপকাতে পারেননি বসুন্ধরার বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকার মিডফিল্ডার কলিন্দ্রেস। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে স্বাধীনতা কাপের শিরোপা ঘরে তোলে বসুন্ধরা।
ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের অধিনায়ক ও ম্যানেজারের হাতে ট্রফিসহ ৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি তুলে দেয়া হয়। রানার্সআপ শেখ রাসেল পায় ট্রফি ও ৩ লাখ টাকার প্রাইজমনি। ফাইনালে উঠতে না পারলেও টুর্নামেন্টের ফেয়ার প্লে-ট্রফি পেয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্কোস ভিনিসিয়াস। আর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। চারটি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরষ্কার পান আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড পল এমিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন