Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

লন্ডনের নতুন মেয়র সাদিক খান

ইউরোপের কোন রাজধানীর প্রথম মুসলিম মেয়র

প্রকাশের সময় : ৮ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : প্রথম মুসলমান হিসাবে লন্ডনের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান। পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এই নেতা শুধু লন্ডনেরই নয়, ইউরোপের কোন রাজধানী শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র। সাদিক খান তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী কোটিপতি জ্যাক গোল্ডস্মিথের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন। সাদিক পেয়েছেন ১৩ লাখ ১০ হাজার ১৪৩ ভোট। বিপরীতে জ্যাক স্মিথ পেয়েছেন ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ ভোট। পরাজিত জ্যাক গোল্ডস্মিথ পাকিস্তানের ক্রিকেট হিরো থেকে রাজনীতিবিদ ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমার ভাই।
সাদিক খানের বাবা ছিলেন একজন বাস ড্রাইভার। তিনি পাকিস্তান থেকে ব্রিটেনে আসেন অভিবাসী হয়ে। লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি একজন মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। সাদিক খানের জন্ম লন্ডনে ১৯৭০ সালে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় কনজারভেটিভ পার্টির তরফ থেকে সাদিক খানের মুসলিম পরিচয়কে সামনে এনে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। এমনকি সাদিক খানের সাথে উগ্রপন্থীদের যোগাযোগ আছে বলে প্রচারণা চালায় কনজারভেটিভ পার্টি। খোদ ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পর্যন্ত সাদিক খানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে এর কোন প্রভাব তৈরি হয়নি।
লন্ডনের একটি বাংলা সাপ্তাহিকের সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন সাদিক খানের বিজয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বহু সংস্কৃতির শহর হিসেবে লন্ডনের যে পরিচিতি আছে, এই জয় সে পরিচয়কে আরো জোরালো করবে বলে তিনি মনে করেন।
সাদিক খানের বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষরা নেতিবাচক প্রচারণা চালালেও তিনি সেটি করেনি বলে উল্লেখ করেন মি: চৌধুরী। নির্বাচনী প্রচারণায় সাদিক খান তার কর্মসূচী তুলে ধরেছেন।
মি: চৌধুরী বলেন, সাদিক খান ধর্মীয় বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি লন্ডনবাসীর জন্য কী করতে চান সেটি তুলে ধরেছেন। লন্ডনের আবাসন সমস্যার সমাধান, পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি না করা এসব বিষয়ে সাদিক খান তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এই বিজয়কে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের জন্যও একটি বিজয় হিসাবে দেখা হচ্ছে। মি: করবিন গতবছর লেবার পার্টির দায়িত্ব নিয়েছেন। নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক খান বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়লাভের পর উৎফুল্ল সমর্থকদের সামনে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সাদিক খান বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিক্ত বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং আমি এতই গর্বিত যে লন্ডনবাসী আজ ভয়ের বদলে আশাবাদ এবং বিভাজনের বদলে ঐক্য বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয়ভীতি আমাদের নিরাপদ করবে না, এটা কেবল আমাদের দুর্বলই করবে এবং ভয়ের রাজনীতিকে আমাদের শহরে স্বাগত নয়।
বৃহস্পতিবার সারা ব্রিটেনে আঞ্চলিক নির্বাচনে অন্যত্র বিপর্যয়ের পর লন্ডনে এই বিজয় লেবার পার্টির জন্য বেশ স্বস্তি বয়ে এনেছে। সাদিক খানকে অভিনন্দন জানিয়ে লেবার পার্টি নেতা করবিন বলেন, লন্ডনকে সবার জন্য একটি মানানসই শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার সঙ্গে আমরা অবিলম্বে কাজ শুরু করবো।
সাদিক খানের এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে লন্ডনের মেয়র পদে কনজারভেটিভ পার্টির ৮ বছরের কতৃত্বেরও অবসান ঘটলো।
বিদেশ থেকে প্রথম যারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের অন্যতম নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও। এক টুইটে তিনি বলেন, লন্ডনের নবনির্বাচিত মেয়রের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
প্যারিসের মেয়র এ্যান হিডালগো এক বার্তায় বলেন, সাদিক খানের মানবিকতা ও প্রগতিশীলতাবাদের সুফল লন্ডনবাসী পাবে।
সাদিক খানের নিজ এলাকা দক্ষিণ লন্ডনের স্থানীয় ব্যবসায়ী শেহজাদ সিদ্দিকি বলেন, নানা বৈশিষ্ট্য সাদিক খানের মধ্যে রয়েছে। তিনি একজন মুসলিম, একজন অভিবাসী এবং তিনি শ্রমজীবী শ্রেণী থেকে এসেছেন তাই তিনি শ্রমজীবী শ্রেণীর সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝবেন। দক্ষিণ লন্ডনেই সাদিক খানের জন্ম ও বেড়ে উঠা। এখান থেকেই সমাজকর্মী, মানবাধিকার আইনজীবী হয়ে উঠেন এবং এখান থেকেই তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও নির্বাচিত হন। এখন তিনি গোটা লন্ডনেরই মেয়র নির্বাচিত হলেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, উইকিপিডিয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ