Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

চুল ঝরা ও টাক পড়া

আফতাব চৌধুরী | প্রকাশের সময় : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

চুল নিয়ে আমাদের অনেকের ভাবনার যেন শেষ নেই। নারী বা পুুরুষ হোক চুল পড়ে যাচ্ছে এ কথা শুনলে তিনি আঁতকে উঠবেনই এবং ছুটে যাবেন ডাক্তারের কাছে।
চুলের একটা জীবন চক্র আছে। চুলের এই জীবন চক্র তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। এই ৩টি পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিটি চুলেরই মৃত্যু ঘটে। চুল গজানোর পর শুরু হয় চুলের অ্যানাজেন পর্যায় অর্থাৎ এ পর্যায়ে চুলের বাড়ন্ত অবস্থা থাকে। এরপর সপ্তাহ তিনেক ধরে চুল বুড়িয়ে যেতে থাকে তাকে বলা হয় ক্যাটাজেন পর্যায়। তার পরেই শুরু হয় সর্বশেষ পর্যায় যার নাম টেলোজন পর্ব। চুলের এ পর্যায় হল শুধু বিশ্রামের পর্ব। এই বিশ্রামের সঙ্গে সঙ্গে চুল নড়বড়ে হতে থাকে এবং পাশাপাশি চুলের গোড়ায় নতুন চুল গজাতে শুরু করে। এ বিষয়টাকে তুলনা করা যেতে পারে একটি শিশুর দাঁতের সঙ্গে। শিশুদের দুধ দাঁত যখন নড়তে থাকে তখন তোলা হোক বা না-হোক নিচ থেকে দাঁত গজাবেই। এ ক্ষেত্রে পার্থক্য শুধু এইটুকু দাঁত এমনি পড়ে না, তা তুলতে হয়। কিন্তু চুলের ক্ষেত্রে তা লাগে না। আপনা-আপনিই ঝরে পড়ে যায়। তাই প্রতিদিন চুলের জীবন চক্র ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে যে পরিমাণ চুল আপনার অজান্তেই ঝরে যায় তার পরিমাণ আনুমানিক ১০০ বা তার কিছুটা কম বা বেশি। কাজেই চুল পড়া মানেই রোগ এ কথাটা মোটেই সত্য নয়। প্রতিদিন ১০০টির মতো চুল ঝড়ে পড়ে তেমনি সমপরিমাণ চুল আবার কেশগ্রন্থী থেকে জন্মায়। ফলে মাথায় চুল কমে না, কিন্তু সমস্যা হয় তখনই যদি বেশি পরিমাণ চুল ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। তখন চুলের রোগ হয়েছে চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ মাথায় টাক পড়তে শুরু করবে। অনেকের ধারনা চুল কাটতে বা কমালে চুল ঘন হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এতে উপকার বা অপকার কোনোটিই নেই।
চুল পাকা নিয়ে অনেক-চটকদার কথাও আছে বাজারে। কেউ কেউ দাবি করেন চুল কালো করে দেবেন ওষুধের জোরে। চুল পাকা কোনো রোগ নয়। বয়স হলে চুল পাকবেই। কারণ চুলের গোড়ায় মেলানোসাইট কোষ থাকে। সেখান থেকে মেলানিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থের নিঃসরণ চুল কালোর জন্য দায়ী। যতদিন বয়স কম থাকে ততদিন পর্যন্ত প্রয়োজন মতো রঞ্জক পদার্থ নিঃসরণ হতে থাকে। ফলে চুল থাকে কালো। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে চুল সাদা হয়ে যেতে থাকে। তবে অপ্রাপ্ত বয়সেও চুল পাকতে দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে শারীরিক, মানসিক, পারিপার্শ্বিক ও পারিবারিক কারণ থাকতে পারে। প্রকৃত চুল পাকার মূলত কোনো চিকিৎসা নেই। একে সহজভাবে মেনে নেওয়াই উত্তম। তবে রোগ বা অপুষ্টিজনিত কারণে যদি চুলে পাক ধরে তবে তা সংশোধন করে নিলে উপকার পাওয়া যায়। পাকা চুলের জন্য যারা কলপ বা চুলের কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করেন তারা মনে রাখবেন এই রঙ ব্যবহারের ফলে মাথা অনেকের ক্ষেত্রেই সংস্পর্শজনিত অ্যালার্জি বা একজিমা দেখা যায়। চুল পড়াকে বলে অ্যলোপেশিয়া। চুল পড়ার অনেক রকম ধরন আছে। তার মধ্যে একটি হল অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া। এক্ষেত্রে মূলত পুরুষরাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বংশগত কারণেই মূলত এ ধরনের চুল পড়া রোগ হয়। তবে কেশগ্রন্থির ওপর পুরষালি হরমোনের প্রভাবেও হয়ে থাকতে পারে। আর এক ধরনের চুল পড়া রোগ যেটা কিনা অল্পবয়স্ক অথবা প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ২৫ বছরের নিচে হতে দেখা যায়। সেটি হচ্ছে অ্যালোপেশিয়া এরিয়েটা যা নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে মাথায় একটি অথবা কয়েকটি গোল টাক হতে দেখা যায়।

আফতাব চৌধুরী
সাংবাদিক কলামিষ্ট।



 

Show all comments
  • Dr.kazi mahboob ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৯:৩৩ পিএম says : 0
    Welcome. wishing you happy & healthy life. There is a treatment in homoeopathy. Really this article is so important for everyone. Thanks for sharing. happy new year 2019 wishing you all happiness and success & colourful dreams come true + +
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ