Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বন্দিতে ঠাসা কারাগার

* চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ * পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কন্ট্রোল রুম চালু

বিশেষ সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ধারন ক্ষমতার তিনগুন বেশি বন্দী অবস্থান করছে দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগারে। বছরের বেশির ভাগ সময়ে দ্বিগুণসংখ্যক বন্দী অবস্থান করলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ অভিযানের কারণে বন্দীর সংখ্যা এখন প্রায় একলাখ। একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের ৬৮ কারাগারের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও বন্দিদের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে কারা অধিদপ্তর। নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কারাভ্যন্তরে বা কারাগারের বাইরের কারা সংশ্লিষ্ট যে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এই কন্ট্রোল নাম্বারে সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতান জানান, দেশের ৬৮ কারাগারে আটক প্রায় ৯৮ হাজারের অধিক বন্দির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারাভ্যন্তরে নির্বাচন নিয়ে বা যে কোনো প্রকার নাশকতার সৃষ্টি কিংবা পরিকল্পনাও যেন না করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম নিতে সংশ্লিষ্টদের অধিদপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র ব্যাপক গ্রেফতার করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের অধিকাংশই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বলে দাবি করে আসছে দলগুলো। তারা একে নির্বাচনের আগে দলের শক্তি খর্ব করতে উদ্দেশ্যমূলক গ্রেফতারও বলছেন। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তাদের কাছে মাদক মামলায় আটকরাই বন্দি হয়ে আসছে সবচেয়ে বেশি। একটি হিসাব দেখাচ্ছে গত সাত দিনে বেড়েছে চার হাজার ৯৫২ জন কারাবন্দি। এরা সবাই ঐক্যফ্্রন্টের নেতা-কর্মী। কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫ জেলা কারাগারে মোট বন্দী ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার ৭১৪ জন। ঢাকায় ৪ হাজার ৫৯০ জন ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে বন্দী আছেন ১১ হাজার ৩২৫।

কারা অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কারাগারগুলোতে সব সময় ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি বন্দী থাকে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকায় প্রতিদিন বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, বগুড়া, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, রাজশাহী, গাইবান্ধা, যশোরসহ বেশ কয়েকটি জেলার কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের বন্দী সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গত সাত মাস ধরে দেশের কারাগারগুলোতে ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার বন্দী সংখ্যা ওঠানামা করে। এখন বর্তমানে কারাগারে বন্দী রয়েছে প্রায় এক লাখ।

কারা কর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ধারণ ক্ষমতার অধিক বন্দি থাকায় তাদের ঘুমানোর জায়গা, বালিশ, টয়লেটের ব্যবহারসহ নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ভোট উপলক্ষে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী আটক হয়ে কারাবন্দী। গত ৮ নভেম্বর, তফশীল ঘোষণার পর হতে গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ৯ হাজার ২০২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতিটি কারাগারে রিজার্ভ ফোর্স বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজরদারি করতে ভেতরে ও বাইরে সব ডেপুটি জেলারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ২৪ ঘণ্টা পরিদর্শন, প্রতিটি কারাগারের ওয়াচ টাওয়ার টহল ও কারাগারের ভেতরে-বাইরে কারারক্ষীদের মাধ্যমে নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করা ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা, কারা এলাকার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, কারাভ্যন্তরে ও বাইরে নিজস্ব কারা গোয়েন্দাদের তৎপর থাকা, বন্দিদের কারাভ্যন্তরে চলাচলের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা, বন্দির স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর নজরদারি বৃদ্ধিসহ সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব প্রকার ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুমের সাহায্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ