Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১০ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত এক, আহত ১০

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বাসা বাড়ি-গাড়িতে হামলা, ৩ তলা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:৪৫ পিএম | আপডেট : ১:৪৬ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮

 

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও পুলিশসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। নিহত ইসরাইল (১৯), রাজঘর গ্রামের সায়েদুল ইসলামের পুত্র। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মহাজোট প্রার্থী র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী রাজঘর ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে আওয়ামীলীগ-বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্থানসীয়রা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে গাড়ির পেছনের কাঁচা ভেঙ্গে ফেলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাটিপেটা ও গুলি নিক্ষেপ করেন। এসময় ওই যুবক নিহত হন। এতে
ইসরাইলসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। রাজঘর সরকারি প্রাথকিম বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায় জানান, পৌনে ১১টার দিকে মহাজোট প্রার্থী এ আসনে আসার পরপর দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়। এ আসনে ছয়টি কক্ষের মধ্যে দুটি থেকে দুটি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ১৩টি বই শেষ হয়েছিল। তবে পৌনে ১১টা থেকেই ভোট গ্রহন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, সোয়া ১১টায় পুনিয়াউটে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের কর্মীদের সাথে ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালায়। অর্ধশত ককটেল নিক্ষেপ করে। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৩ তলা বিশিষ্ট ভষ্মীভূত হয়। বাড়ির সামনে রাখা ২ টি মাইক্রোবাস আগুনে পুড়িয়ে দেয়। হামলাকারীরা বেশকিছু ককটেল নিক্ষেপ করে। ১৫টি ককটেল অবিষ্ফোরিত ককটেল বাড়ির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। অন্যদিকে, সদর উপজেলার জগৎসার গ্রামে ও মজলিশপুর আনন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হয়েছে। সকালে শহরের নিয়াজ মোহাম্মদ স্কুল ভোট কেন্দ্রে ৮/১০টি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এদিকে সকালে ১০টার মধ্যে বেশ কিছু কেন্দ্রে শান্তিপূন ভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রের ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সরাইল উপজেলার নোঁয়াগাও পূব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঈনউদ্দিন মঈন যান। এসময় তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে সিংহ মার্কার প্রতীক প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এসময় কেন্দ্রের বাইরে থাকা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার (সিংহ) লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশে ১৫-২০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন মঈন ও তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহার লাবনীসহ ১০জন আহত হন।
মঈনউদ্দিন মঈন অভিযোগ করে বলেন, এ আসনের ২৫টি কেন্দ্রে সিংহ মার্কার লোকজন ব্যালটে সিল মেরেছে। তবে জিয়াউল হক মৃধা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আশুগঞ্জে সকল কেন্দ্র দখল করে রাখা হয়েছে।
ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, রাত দুইটার দিয়ে সিংহ মার্কা প্রতীকের লোকজন এসে গলায় ছুরি ধরে বিশটি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ২০টি ব্যালট বইয়ে দুই হাজার ভোট ছিল।
স্ট্রাইকিং ফোর্সের নেতৃত্বে থাকা সহাকারি কমিশনার ও নির্বাহী হাকিম হাবিবা খানম জানান, ২০টি ব্যালট পেপারে থাকা দুই হাজার ভোট বাতিল ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) এর আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডিআইজি (অবঃ) আব্দুল খালেক ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষনা দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ