Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি নির্বাচনী এলাকায় নানা অভিযোগ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ২১টি নির্বাচনী এলাকার ৬২ লাখ ৩০ হাজার ভোটার গতকাল একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়া নিয়ে যথেষ্ট আশাহত হয়েছে। ব্যাপক উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় সকাল ৮টায় দক্ষিণাঞ্চলের ২ হাজার ৬৭৭টি কেন্দ্রের ১৩ হাজার ৩৯৭টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও কোথাও ঐক্য ফ্রন্টের পোলিং এজেন্ট ছিল না। গত কিছুদিনের ধরপাকড়ে অনেক এজেন্ট গ্রেফতার হবার পরে অবশিষ্টরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ধানের শীষের প্রার্থীদের। শনিবার রাতভরও বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি হানা দেয় আইন-শৃংখলা বাহিনী। এর পরেও যেসব এজেন্ট গতকাল কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই মারধর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল-৫ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার ভোট নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও বল প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন। শনিবার গভীর রাতে তার বাসায়ও পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী তল্লাশি চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সারোয়ার আর কোন দিন দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ারও ঘোষণা দেন। এর পরপরই বরিশাল-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর তার নির্বাচনী এলাকা হিজলা-মেহেদিগঞ্জে সব পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়াসহ অনিয়ম-অব্যবস্থা ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ভোট বয়কটের ঘোষণা দেন।
গতকাল বরিশাল মহানগরীর অনেক কেন্দ্রেই সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনেকটা ঢিলেঢালাভাবেই ভোটগ্রহণ হতে দেখা গেছে। আবার অনেক কেন্দ্রে ভিড়ও ছিল ছোট-বড়। তবে কোন কোন কেন্দ্রে ভোটাররা গিয়ে ভোট দিতে পারেননি, তার ভোটটি আগেই কে বা কারা দিয়ে দেয়ার কারণে। বরিশাল মহানগরীর অনেক কেন্দ্র থেকেই বিকেল ৫টার মধ্যেই নৌকা প্রতীকের বিজয় মিছিলও বের হতে দেখা গেছে।
তবে একদিকে শৈত্যপ্রবাহ, অপরদিকে গত কয়েক দিন ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজিরবিহীন তৎপরতায় অনেক মানুষই এলাকার বাইরে থাকায়ও ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। গত কয়েক দিনের আতঙ্ক আর উদ্বেগ গতকালের ভোটের উৎসবকে আগেই ম্লান করে দিয়েছে। তার পরেও বেলা বাড়ার সাথে কিছু ভোটার ভোট কেন্দ্রে গেছেন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের ১৭৪টি কেন্দ্রের ৮৯৫টি বুথের প্রায় কোথাও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় একই চিত্র দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি সংসদীয় আসনের দু’হাজার ৬৭৭টি কেন্দ্রের ১৩ হাজার ৩৯৭টি বুথের।
এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার ২১টি আসনে ১২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। তবে শেষ দিকে এসে দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকাতেই জাপা প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে পড়ার ঘোষণা দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ