Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সঙ্ঘাতময় নির্বাচন রাজশাহী অঞ্চলে

রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

আরো একটি সঙ্ঘাতময় ম্যানেজড নির্বাচন দেখলো রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। প্রাণ ঝরলো দুটি। দফায় দফায় হামলায় ভোট বন্ধ হচ্ছিল বার বার। কেন্দ্র গুলোয় সকাল থেকেই বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। আবার কোথাও এজেন্টদের কেন্দ্রের কাছেও যেতে দেয়া হয়নি। অধিকাংশ কেন্দ্র দখলে ছিল সরকার কর্মীদের। নগরীর আশেপাশের বেশকিছু সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় এমন চিত্র। সকালে নগরীর আহম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেবার খবরে বিএনপি প্রার্থী মিনু এসে তাদের বসিয়ে দেন। প্রায় প্রত্যেক কেন্দ্রের আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে স্লোগান দিয়ে মিছিলের মহড়া দিতে দেখা যায়। এতে করে আতঙ্কিত ছিল ভোটাররা। বেশীরভাগ কেন্দ্রে উপস্থিতি তেমন ছিলনা। আবার কোথাও উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছুক্ষণের জন্য ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল্ মিজানের মোড়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট বন্ধ ছিল সাময়িকভাবে। ছোট বনগ্রাম এলাকায় বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ককটেল ছুড়তে গিয়ে শিশির নামে ওয়াকার্স পার্টির কর্মী আহত হয়। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। দুপুরের পর অধিকাংশ কেন্দ্রে ছিল ফাঁকা ফাঁকা ভাব। নগরীর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, শাহমখদুম হাইস্কুল, ইসলামীয়া কলেজ, জিয়াউর রহমান স্কুল কেন্দ্রে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। ৩০ নং ওয়ার্ডে মহিলা দল নেত্রী দিনার বানুকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়। বহু কেন্দ্রে এমনই ঘটনার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।
বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে সব নির্বাচনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম আর গণগ্রেফতার করে বিএনপিকে কোনঠাসা করে রেখেছে। ভোটের দিন তারাই তান্ডব চালিয়েছে। দুপুর একটার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী আবু হেনা নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন বেশকিছু দিন ধরে বর্তমান এমপি এনামুলের ক্যাডার, পুলিশের ওসি নাসিম আর পুঠিয়া সার্কেলের এএসপি সুমন দেব হামলা গ্রেফতারের মাধ্যমে পুরো বাগমারায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। তারা গতকাল ছিল আরো বেপরোয়া। এলাকার সাধারণ মানুষ বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকদের জীবন বাঁচাতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
রাজশাহী সদর আসনের প্রার্থী মিনু অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে রাতের বেলা একদফা ভোটের বাক্স ভরার পর দিনের বেলা মহড়া দিয়ে বাক্স ভরছে। মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজশাহীর দূর্গাপুরের ঝালুকা, আমগাছিসহ প্রায় ভোট কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোক ছাড়া আর কাউকে কেন্দ্রের কাছে ভিড়তে দেয়নি। দুপুরের আগে ভোট দেয়া শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে এর সত্যতা মেলে।
নাটোরের সবকটি কেন্দ্রে একছত্র দাপট ছিল সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের। অনেক কেন্দ্রে ভয়ে ভোটাররা যেতে পারেননি। সব নিয়ন্ত্রিত ছিল। যারা গেছেন তারা ভয়ে ভয়ে। আর বলেছেন আমরা আপনাদের লোক। কেউ কেউ হাতে সরকারী দলের প্রার্থীর লিফলেট নিয়ে যায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ