Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

চট্টগ্রাম বন্দরে ফের রেকর্ড

রফিকুল ইসলাম সেলিম : | প্রকাশের সময় : ২ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

২০১৯ সালে বছরের প্রথম দিনে দেশের অর্থনীতিতে সুখবর আনলো চট্টগ্রাম বন্দর। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে দেশের প্রধান এই বন্দর। সদ্য সমাপ্ত ২০১৮ সালে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৯ লাখ তিন হাজার ৯৯৬ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়। যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে নয় কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন। আর বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া করেছে তিন হাজার ৭৪৭টি।

নতুন ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন, ইয়ার্ড সম্প্রসারণসহ বন্দরের নানামুখী উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু বন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। গেল বছর কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। আর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি প্রায় নয় শতাংশ। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দর আরও বেশি গতিশীল হওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

গতিশীলতা বাড়ায় কমে গেছে জাহাজ ও কন্টেইনার জট। বন্দর জেটি এবং বহির্নোঙ্গরে এখন নেই পণ্য খালাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ জাহাজের সারি। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ায় আমদানি-রফতানিতে গতি আসছে। কমে আসছে আমদানি-রফতানি ব্যয়ও। দ্রত সময়ে পণ্য খালাস হচ্ছে। তার সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বহির্বিশ্বে বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আগের বছরের তুলনায় তিন লাখ ৪০ হাজার ৯৯৬ টিইইউএস বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এ বছর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় সর্বমোট ২৯ লাখ তিন হাজার ৯৯৬ টিইইউএস। তার আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৬৩ হাজার। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ৮.৮৮ শতাংশ। এ বছর চট্টগ্রাম বন্দরে নয় কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন পণ্য (বাল্ক কার্গো) হ্যান্ডলিং হয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২.৯৮ শতাংশ। তিনি বলেন, তিন হাজার ৭৪৭টি জাহাজ আসা-যাওয়া করেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে কোন জট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন জাহাজের গড় অবস্থানকালও অনেক কমে এসেছে। আরও বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা এবং গতিশীলতা আরও বাড়বে।

গেল বছর চট্টগ্রাম বন্দরে ৬টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়। এ কারণে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন মাত্রা এসেছে। পহেলা ডিসেম্বর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে দৈনিক ভিত্তিতে নতুন রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। আমদানি-রফতানি মিলিয়ে ওইদিন ১১ হাজার ৪৬ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয় বন্দরে। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। নভেম্বরে মাসভিত্তিক রেকর্ডের পর ওইদিন দৈনিক সর্বোচ্চ রেকর্ড হ্যান্ডলিং হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ নতুন নতুন হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন, নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতায় এসব রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগও এ গতিশীলতার পেছনে কাজ করেছে।

আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবছরই বাড়ছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। বিগত ২০১৭ সালে রেকর্ড পরিমাণে আমদানি-রফতানিমুখী কন্টেইনার ওঠানামা হয়েছে। গত ২০১৬ সালে হ্যান্ডেল হয় ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার। ২০১৫ সালে ২০ লাখ ২৪ হাজার, ২০১৪ সালে ১৭ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার। প্রসঙ্গত শিপিং বাণিজ্যে কন্টেইনারযোগে পরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় ৪২ বছর পূর্বে ১৯৭৬ সালে। তখন মাত্র ৬টি কন্টেইনার ওঠানামা (হ্যান্ডলিং) দিয়েই এর সূচনা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন