Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা ও বিশ্লেষণ চলছেই। নির্বাচন নিয়ে যে সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভিযোগ ও বিতর্ক বহুদিন চলতে থাকবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা দেশ পরিচালনায় সকলের সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিরূপ আচরণ পরিহারের কথা বলেছেন। এমনকি নির্বাচনোত্তর বিজয় মিছিল পরিহারেরও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতাদের এমন নির্দেশনা অনেকেই অমান্য করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের উপর আগ্রাসী ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনের পরের ৪দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু মানুষ রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়। ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথিত অপরাধে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৪ সন্তানের জননীর গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। দাউদকান্দিতে নির্বানোত্তর সহিংসতায় ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। দক্ষিনের জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এক কৃষকের মাছের ঘের দখল করে নিয়েছে বলে গতকাল প্রকাশিত খবরে জানা যায়।
অনেকটা একপাক্ষিক নির্বাচনেও সহিংসতায় বেশকিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সর্তকর্তা সত্তে¡ও এ ধরনের ঘটনা খুবই অপ্রত্যাশিত। যদিও নির্বাচনের পর এমন ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকেই সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জননিরাপত্তার বিশেষ উদ্যোগ নেবে, এটাই ছিল সকলের প্রত্যাশিত। শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীরই সরকারি দলের ক্যাডারদের হামলার শিকার হচ্ছে না, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারীদলের অন্তর্দলীয় কোন্দলও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে নোয়াখালীতে যুবলীগের দুই গ্রæপের মধ্যে সংর্ঘষ এবং লক্ষীপুরে যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘটিত সংর্ঘষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৭ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া দেশের আরো বেশকিছু স্থানে সংর্ঘষের ঘটনায় মানুষ হতাহত হয়েছে। ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকার পরাজিত প্রার্থী বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা উস্কে দেয়া ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নৌকার প্রার্থী কাজী জাফর উল্যাহ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহী প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবং প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষপাতের কারণে এই যদি হয় সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতার কর্মীদের অবস্থা, তাহলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা কি অবস্থায় থাকতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। নির্বাচনের পর এমনকি আওয়ামী লীগ কর্মীদের পুলিশের উপর চড়াও হতেও দেখা গেছে লক্ষীপুরে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভ‚মিকা পালনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
নির্বাচনোত্তর সহিংসতা নির্বাচনের আগের অবস্থারই ধারাবাহিকতা মাত্র। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাত এবং অনেকটা সরকার দলীয় ক্যাডারের ভ‚মিকার কারণে নির্বাচনের আগে দেশে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছিল। পুলিশি ধরপাকড় ও হামলার শিকার হয়েছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হাজার হাজার নেতাকর্মী। নোয়াখালীতে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীও পুলিশের অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। এখনো ধানের শীষের বেশ কয়েকজন প্রার্থী জেলে এবং হাসপাতালে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সুবর্ণচরে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ইতিমধ্যে অন্তত ৩জনকে আটক করা হলেও মামলার এজাহারে বিভ্রান্তিকরভাবে মূল আসামীকে ছাড় দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কাউকে ছাড় না দেয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দিয়ে অন্যদের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে আইনী ব্যবস্থাকে যেন আই-ওয়াশে পরিনত করা না হয়। নির্বাচনোত্তর সংঘাত-সহিংসতা পরিহারে আওয়ামী লীগের নীতিগত দিক নির্দেশনা অবশ্যই প্রশংসনীয়। যে সব দলীয় নেতা-কর্মী দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অমান্য করেই সহিংসতা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গায়েবি মামলা ও অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে মাদক, জঙ্গিবাদসহ কোনো অভিযোগেই বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড চলতে পারে না। নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলনিরপেক্ষ ভ‚মিকা প্রয়োজন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টলারেন্স


আরও
আরও পড়ুন