Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সংসদ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

| প্রকাশের সময় : ৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। মন্ত্রীসভা গঠন ও সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক এ ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। সংসদ সদস্য হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সম্পদ বানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা মনে করবেন না। এ ক্ষমতাকে জনগণের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করবেন। তিনি আরও বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকবেন। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এখানে ক্ষমতাকে কেউ ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করবেন না। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেন। এর মাধ্যমে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবেই তার কাছ থেকে এ বক্তব্য প্রত্যাশিত এবং এজন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক এ বক্তব্য প্রত্যেক সংসদ সদস্য হৃদয়ঙ্গম করে পালন করবেন।
আমরা দেখেছি, বর্তমান সরকারের বিগত দশ বছরের শাসনামলে কতিপয় সংসদ সদস্য নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ততা, নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গঠন, দায়িত্বহীন ও বিতর্কিত বক্তব্যসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগও ছিল কারো বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সরকারকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। জনগণের মধ্যেও চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের রাজনীতিও কোনঠাসা অবস্থার মধ্যে পড়ে। ফলে সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলোর তেমন কোনো প্রতিকার হয়নি। এ অবস্থার মধ্য দিয়েই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দল পুনরায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে। বিপরীতে সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দলের অনুপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের সাত সংসদ সদস্য শপথ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় পার্টিও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিগত সংসদের মতোই সে বিরোধী দল এবং সরকারের অংশীদার হবে। তার সিদ্ধান্তের ফলে গত সংসদের মতোই অকার্যকর বিরোধী দল নিয়ে সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত সরকার ও বিরোধী দল একাকার অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের ওপরই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে সরকারি দলকে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। সংসদের বাইরে এবং ভেতরে তাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। বলা যায়, একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলকে বিরোধী দল ও সরকারি দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। নিজ দলের ভুল-ত্রুটি আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় দলের সভায় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার তাকিদ সকল সংসদ সদস্যর মধ্যে থাকতে হবে। তাদের কোনো ধরনের বিতির্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে যাতে সাধারণ মানুষ দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যে না পড়ে এবং সরকার সমালোচনার মুখোমুখি না হয়, এ ব্যাপারে তাদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে, তারা জনপ্রতিনিধি। জনগণের সেবা করাই তাদের মূল দায়িত্ব। তারা শপথও নিয়েছেন ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে। ক্ষমতা প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি লাভ করার জন্য তারা নির্বাচিত হননি।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্পষ্টতঃই ঘোষণা করেছেন, ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ এ দুনিয়া চিরস্থায়ী বাসস্থান নয়। প্রাকৃতিক নিয়মেই জন্মের পর সকলকেই বয়োবৃদ্ধের দিকে ধাবিত হতে হয়। যারা কর্মজীবনে সফল তাদের কাজ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় হয়ে থাকে। আমাদের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা সিনিয়র সিটিজেন এবং জীবনের এই শেষ অধ্যায়েও তারা দেশ ও জনগণের সেবার জন্য রাজনীতি করেন। এক্ষেত্রে তাদের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে হবে। জনগণ যাদের ক্ষমতায় বসায় তাদের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে বেশি। দেশ পরিচালনা ও জনগণের সেবার ক্ষেত্রে তাদের সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দেশকে যেমন এগিয়ে নেয়, তেমনি দেশের মানুষের কাছে তা অনুসরনীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করব, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা দেশে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। দেশের রাজনীতিতে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষকে ভয়-ভীতিহীন পরিবেশ উপহার দেবেন। মানুষ আগে ভীতিমুক্ত, নির্ভয় ও নিরাপদ জীবন প্রত্যাশা করে এবং সুশাসনের পরিবেশ চায়। তারপর অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা ভাবে। ভীতিযুক্ত পরিবেশের মধ্যে কখনোই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন