Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান শি’র

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার দেশের সেনাবাহিনীকে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে যা যা দরকার তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। শি বলেছেন, বাড়তি চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মুখে চীনের সেনাবাহিনীকেই দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন তাদের সামরিক বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি জোর দিচ্ছে। শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক বাহিনীর প্রতি শি-র এই নির্দেশনা বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান শি সেনাবাহিনীকে নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৌশল পর্যালোচনা এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি ও তা চালিয়ে নেয়ার দায়িত্ব নিতে বলেছেন। “বিশ্ব আজ এমনই এক বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি, গত এক শতাব্দীতেও যা দেখা যায়নি। সমৃদ্ধির জন্য চীন কৌশলগত সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যেই আছে,” চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) এ সাধারণ সম্পাদককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সিনহুয়া। শি জরুরি অবস্থায় সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর সক্ষমতা অর্জন, যৌথ অভিযানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন ধরনের বাহিনীর বিকাশের ওপরও জোর দিয়েছেন। এর আগে বুধবার চীনের এ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তার দেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা রুখতে ও ‘একীভূতকরণের’ লক্ষ্য অর্জনে তাইপের ওপর বলপ্রয়োগের অধিকার রাখে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের নিরাপত্তা সুরক্ষা দিতে এশিয়া রিঅ্যাসিউরেন্স ইনিশিয়েভ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করার প্রতিক্রিয়াতেই শি ওই কথা বলেন। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসেবেই দেখে। অন্যদিতে তাইপের জনগণের একাংশ বেইজিং থেকে স্বাধীন হতে চায়। স্বাধীনতাপন্থি ওই অংশটি তাইওয়ানের সর্বশেষ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর চীনের সঙ্গে তাদের বিবাদ আরও প্রকাশ্য হয়।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে জানানো হয়, শীর্ষ সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চীনের জন্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে চীনের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রয়োজনে কাজ করে যেতে হবে। সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে নতুন যুগের জন্য কৌশল পরিকল্পনা করতে হবে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি ও যুদ্ধ চালানোর জন্য দায়িত্ব নিতে হবে। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গত ১০০ বছরে বিশ্ব যে পরিবর্তন দেখেনি, সে ধরনের বড় পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব। চীন তার উন্নতির জন্য কৌশলগত সুযোগের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে দ্রুত সাড়া দিতে হবে। তাদের যৌথ অপারেশন সক্ষমতা হালনাগাদ করতে হবে এবং নতুন ধরনের যুদ্ধসেনা প্রতিপালন করতে হবে। গত বুধবার চীনা প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তাইওয়ান অবশ্যই চীনের অংশ হিসেবে থাকবে। স্বাধীনতা উসকে দেওয়া কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না। তার ওই কথার পর এবার সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এশিয়া রিঅ্যাসুরেন্স ইনিশিয়েটিভ অ্যাক্ট ইন্টু ল’তে স্বাক্ষর করে তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর চীনা প্রেসিডেন্ট এ কথা বললেন। রয়টার্স ও সিনহুয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন