Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

প্রথম জানাজা সংসদ ভবনে দাফন বনানীতে

ঢাকায় সৈয়দ আশরাফের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফের লাশ তার বাসায় আনার পর প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে আত্মীয়-স্বজন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, শুভাকাংঙ্খী ও সাধারণ মানুষ সন্ধ্যা থেকে ২১ বেইলি রোডে জড়ো হন। লাশ আসার পর কান্নায় বাসার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অনেকে হাতে ফুল নিয়ে এসেছেন। এরপর রাত ৯টার পর বেইলি রোডের বাসা থেকে তার লাশ সিএমএইচে নিয়ে রাখা হয়। সৈয়দ আশরাফ গত ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।
বেইলি রোডে সৈয়দ আশরাফকে শেষবারের মতো দেখতে আসা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিকভাবে তার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সত্যিই তাকে ভোলা যাবে না। আদর্শের দিক থেকে তিনি কখনো সরে আসেনি। তিনি সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই তাকে আওয়ামী লীগসহ অন্য কেউ ভুলতে পারবে না। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে সৈয়দ আশরাফের লাশ নিয়ে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘মেঘদূত’ উড়োজাহাজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর বেইলি রোডে তার সরকারি বাসভবনে নেয়া হয়।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গার্ড অব অনারসহ তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা, বেলা ২টায় ময়মনসিংহ আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে তার লাশ আবারও ঢাকায় আনা হবে। বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল সৈয়দ আশরাফের লাশ হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমান বন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামানোর পর সেখানে গ্রহণ করেন তার ভাই সাফায়েত উল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান নওফেল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য আসলামুল হক, সাদেক খানসহ দলের আরও অনেক নেতাকর্মী। সৈয়দ আশরাফের ইন্তেকালে তার বেইলি রোডের সরকারি বাসায় খোলা হয়েছে শোক বই।
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ। দেশে ফিরে শপথ নিতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছিলেন মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু তা আর হলো না। অগণিত নেতাকর্মী আর শুভানুধ্যায়ীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সবার প্রিয়ভাজন আশরাফ।



 

Show all comments
  • Mohammed Kowaj Ali khan ৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
    ওর মুখটা একবার দেখাবেন। আর সে বলিলো সে মোসলমান নয় তবে কে পড়ে তার জানাজা? সে কোন দলের ছিলো দেখিতে হইবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আওয়ামী লীগ


আরও
আরও পড়ুন