Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ১৫ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

মৌলভীবাজারে বাড়ছে শীতের তীব্রতা

এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

গত কয়েকদিন থেকে কনকনে হিমেল বাতাস ও শীতের তীব্রতায় মৌলভীবাজারের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতের কারণে জেলায় সকল কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বাহির হচ্ছেন না।
পৌষের মাঝামাঝি থেকেই শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। দিনের বেলা সূর্যের তাপে তেমন শীত অনুভ‚ত না হলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই ঠাণ্ডার তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। রাত যতই গভীর হয় ঠাণ্ডা ততই বাড়তে থাকে। এ অবস্থা চলে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত। রাতে গরম কাপড়ের অভাবে ছিন্নমূল মানুষসহ বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে এ জনপদের মানুষ তীব্র শীতের কবলে পড়েছেন। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষজন। ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। যতই দিন যাচ্ছে তাপমাত্রা ততই নিচের দিকে নামছে। পৌষের শেষে এসে যেন হামলে পড়েছে শীত। ভোরে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষগুলো। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। বিশেষ করে চা বাগান অধ্যুষিত উপজেলার চা বাগানগুলোতে এবং গ্রামগুলোতে শীতের কাঁপুনি বেশি।
জেলার বাইক্কাবিল, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর ও কাউয়াদিঘি হাওর আর অন্যদিকে চা বাগান ও পাহাড়। সবমিলিয়ে এখানকার নিম্ন আয়ের নৃতাত্তি¡ক গোষ্ঠীর সদস্য, চা শ্রমিক ও হাওর পাড়ের জেলেরা শীতে কাবু হয়ে গেছেন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে।
টাকা-পয়সার অভাবে শীতবস্ত্র কিনতে পারছেন না বাগানের অসহায় চা বাগানের শ্রমিকরা। শীতবস্ত্রের অভাবে প্রাত্যহিক ভোরে শীতের তীব্রতার জন্য কাজে যেতে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে তাদের। চা বাগান এলাকার চা শ্রমিকেরা সকালের দিকে গাছের পাতা, কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।এদিকে ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। রোগব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধবয়সী পর্যন্ত সবাই। সর্দি-কাশিসহ ঠান্ডা জনিত রোগ দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণেই এসময়টাতে সর্দি-কাশির প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথেই বাড়ছে মাঝারি ধরনের শৈত প্রবাহ শুরু হয়। ফলে সন্ধ্যা নামতেই বাহির ছেড়ে ঘরে ফিরছেন লোকজন।
শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তেতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। জেলার উপর দিয়ে গত কয়েক দিন থেকে বইছে মাঝারি ধরনের শৈত প্রবাহ।
আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া সহকারি মো. জাহেদুল ইসলাম মাসুম। তিনি বলেন, দিন দিন তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। মাঝারি ধরনের শৈত প্রবাহ পড়ছে এই অঞ্চলে। আগামী সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে এবং শৈত প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সকাল ও রাতের বেলা খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার দিনের বেলায়ও যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। টানা কয়েকদিনের শীতের তীব্রতায় মধ্য ও নিম্নবৃত্তের মানুষ গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন। হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা নিতে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ছে। যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিু রোগীর সংখ্যা বেশি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ