Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

রিয়াল-বার্সার অম্ল-মধুর রাত

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

এ যেন বার্সেলোনা ভক্তদের ‘সবকিছু পাওয়ার’ রাত। লা লিগার প্রধান দুই প্রতিদ্ব›দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও সেভিয়া পয়েন্ট হারিয়েছে। আর রিয়াল মাদ্রিদ তো ঘরের মাঠে রিয়াল সোসিয়াদাদের কাছে হেরেই গেল। সেই সুযোগে গেটাফেকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে পরিষ্কার ব্যবধানে নিজেদের এগিয়ে নিয়েছে বার্সেলোনা।
পরশু রাতে বার্সা প্রথম সুখবরটা পায় রামোন সানচেস পিজুয়ান স্টেডিয়াম থেকে। যেখানে সেভিয়া-অ্যাটলেটিকো ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়। বেন ইয়াদেরের গোলে সেভিয়া এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধেই সেই গোল শোধ দেন অঁতোয়ান গ্রিজম্যান। তাতে পয়েন্ট তালিকায় দুই দলের মধ্যে ব্যবধানটা ২ পয়েন্ট বজায় থাকে। আর দুই ও তিনের দল যথাক্রমে অ্যাটলেটিকো ও সেভিয়ার সঙ্গে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় বার্সা। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের গোলে গেটাফেকে ২-১ গোলে হারিয়ে সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তাছাড়া গেটাফের মাঠে তারা খেলতে নামে সোসিয়াদাদের মাঠে চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী রিয়ালের ২-০ গোলে পরাজয়ের খবর নিয়ে।
এদিনের পরাজয়টা ছিল বার্নাব্যুর দলের জন্য বেশ বিব্রতকর। বছরের শুরুটাও সান্তিয়াগো সোলারি হলো টানা দুই ম্যাচে হোঁচট খেয়ে। শুরুটা হয় ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ২-২ ড্র করে। এবার ঘরের মাঠে পরতে হয়েছে পরাজয়ের মাল্য। অবাক করার বিষয় হলো ভালো খেলেই এদিন জয় পায় সোসিয়াদাদ। ১৫ বছর পর বার্নাব্যুতে জয়ের দেখা পেল দলটি।
ম্যাচ শুরু না হতেই বার্নাব্যু সমর্থকদের স্তব্ধ করে পেনাল্টি গোলে সোসিয়াদাদকে এগিয়ে নেন উইলিয়ান জোসে। ঘড়ির কাটা তখন কেবল দুই মিনিট পেরিয়েছে। ডি বক্সে মিকাইল মেরিনোকে কাসিমিরো ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথমার্ধে করিম বেনজেমা ও ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে সমতায় ফেরা হয়নি রিয়ালের। দ্বিতীয়ার্ধে কাজটা কঠিন হয়ে যায় লুকাস ভাসকেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি লালে পরিণত হলে। তখনো আধাঘণ্টার খেলা বাকি।
মাদ্রিদের বুকে চূড়ান্ত আঘাত হানেন বদলি খেলোয়াড় রুবেন পার্দো। দারুণ পাল্টা আক্রমণে হেডের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুন করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে কোনভাবেই সফরকারী রক্ষণ গলাতে পারেননি ক্রুস-মদরিচ-ইসকোরা। গোড়ালির ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না গ্যারেথ বেল।
এই পরাজয় রিলকে আবারো নামিয়ে দিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। তার মানে, তাদের অবস্থান এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এরিয়ার বাইরে! আগের রাতে ভ্যালেন্সিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজ সেরে রাখা আলাভেস সেই সুযোগে চারে উঠে এসেছে। রিয়ালের সঙ্গে এখন বার্সার পয়েন্ট ব্যবধান ১০। অ্যাটলেটিকোর চেয়ে বার্সা এগিয়ে ৫ পয়েন্টে। লিগ অবশ্য এখনো মাঝপথেও আসেনি।
রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের হতাশা বেড়ে যায় পরের ম্যাচেই বার্সার জয়ে। ম্যাচের ২০তম মিনিটে ক্যারিয়ারের ৩৯৯তম লা লিগা গোলের দেখা পান মেসি। গোলের ‘চার’শ’ পুরনের সহজ সুযোগও পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু তার সামনে কখনো গেটাফে গোলরক্ষক ছিলেন সুপারম্যানের ভুমিকায়। কখনো গোলরক্ষকের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন মেসি নিজে। সুযোগ হাতছাড়ার মিছিলে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও জেরার্ড পিকেও। তবে ৩৯তম মিনিটে সুয়ারেজের করা গোলটি ছিল চোখে লেগে থাকার মত। মেসির ফ্রি-কিক ক্রস ভালোমত বিপদমুক্ত করতে পারেনি সোসিয়াদাদ। ডি বক্সের বাইরে থেকে বুলেটগতির ভলিতে সেই বল জালে পাঠান উরুগুয়ান তারকা। লিগে এটি তার ১২তম গোল। মেসির ১৬টি। লিগের ১৬টি দলের চেয়ে এখন মেসি-সুয়ারেজের মিলিত গোলের সংখ্যা বেশি!
প্রথমার্ধেই জাইমি মাতার গোলে ব্যবধান কমায় গেটাফে। দ্বিতীয়ার্ধে জাল আবিষ্কার করতে পারেনি কোন দলই। এই অর্ধের শুরুর দিকে বেশ ভুগতে হয় বার্সাকে। বেশ কয়েকবার কাতালান সমর্থকদের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ফাঁকা জাল পেয়েও তারা সমতায় ফিরতে পানেনি। সেই দিক দিয়ে বার্সার জয়টা ছিল স্বস্তিরও।

লা লিগার শীর্ষ ৬
দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল ব্যব. পয়েন্ট
বার্সেলোনা ১৮ ১২ ৪ ২ ৩০ ৪০
অ্যাট. মাদ্রিদ ১৮ ৯ ৮ ১ ১৩ ৩৫
সেভিয়া ১৮ ৯ ৬ ৩ ১৩ ৩৩
আলাভেস ১৮ ৯ ৪ ৫ ৩ ৩১
রিয়াল মাদ্রিদ ১৮ ৯ ৩ ৬ ৩ ৩০
রিয়াল বেটিস ১৮ ৭ ৫ ৬ ০ ২৬



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিয়াল-বার্সার মধুর রাত
আরও পড়ুন