Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।

পাওয়া গেল অতিপরিবাহী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

কেব্লের মধ্যে দিয়ে চলাচলে বিদ্যুৎকে বাধা পেতে হয় পদে পদে। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘রেজিস্ট্যান্স’। বাধার ফলে তারের মধ্যে দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের অনেকাংশ হারিয়ে যায়। অপচয় হয় বলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এই অপচয় ঠেকাতে প্রয়োজন বিদ্যুৎ অতিপরিবাহী পদার্থ। যার ভেতর চলাচলে বাধা পাবে হবে না বিদ্যুৎ। গত এক শতাব্দি ধরে এই অতিপরিবাহী পদার্থ বানাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে, খোঁজ মিলল একটি অতিপরিবাহী পদার্থের। যা ঘরের তাপমাত্রাতেই হয়ে উঠবে অতিপরিবাহী। যা দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণের জন্য তার বানালে বিদ্যুতের কোনও অপচয় হবে না। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও অনেকটা কমে যাবে। কমবে উষ্ণায়নের আশঙ্কাও।
এর আগে যত অতিপরিবাহী আবিষ্কার হয়েছে সেগুলো সবই রাখতে হয় শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অনেক নীচে। যা দিয়ে তার বানানো নম্ভব নয়। এই প্রথম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অতিপরিবাহী কোনও পদার্থ পাওয়া গেল। এই আবিষ্কারের গবেষণাপত্র বের হতে চলেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ। গবেষকদলের নেতৃত্বে রয়েছেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ‚পদার্থবিজ্ঞানী রাসেল হেমলে। তিনি জানিয়েছেন, ল্যান্থানাম মৌলের সঙ্গে হাইড্রোজেন মৌল মিশিয়ে তারা ওই অতিপরিবাহী পদার্থটি বানিয়েছেন। যার নাম- ‘ল্যান্থানাম হাইড্রাইড’। যা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও অতিপরিবাহী হয়ে ওঠে। কাজটা খুব সহজে করা যায়নি। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ল্যান্থানাম পরমাণুর সঙ্গে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলিকে জোড় বাঁধানোর জন্য প্রচুর চাপ প্রয়োগ করতে হয়। যে চাপের পরিমাণ ২০০ গিগা-প্যাসকেল, যা বায়ুমন্ডলের স্বাভাবিক চাপের ২০ লক্ষ গুণ। তার ফলেই যৌগটি হয়ে উঠেছে অতিপরিবাহী। তাতে দেখা গিয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (যাকে আমরা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলি) ওই পদার্থটি হয়ে ওঠে আক্ষরিক অর্থেই, অতিপরিবাহী।
২০১৫ সালে জার্মানির মেইনঝেতে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর কেমিস্ট্রির পদার্থবিজ্ঞানী মিখাইল ইরেমেটস ও তাঁর সহযোগী গবেষকরা এই অতিপরিবাহিতার সন্ধান পেয়েছিলেন কঠিন অবস্থায় থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড থেকে। তবে তা ঘরের তাপমাত্রায় পাওয়া সম্ভব হয়নি। কঠিন হাইড্রোজেন সালফাইডে অতিপরিবাহিতা দেখা গিয়েছিল শূন্যের নীচে, ৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। তারও আগে এই অতিপরিবাহিতা দেখা গিয়েছিল ল্যান্থানাম, বেরিয়াম, ও কপারের অক্সাইডে। পরে একই ধর্ম দেখা গিয়েছিল ইট্রিয়াম, বেরিয়াম ও কপারের অক্সাইড ও পারদের একটি জটিল অক্সাইড যৌগেও। তবে সব ক্ষেত্রেই শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রার অনেক নীচে নামার পরে অতিপরিবাহিতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (টিআইএফআর)-এর কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক, ভাটনগর পুরস্কার জয়ী বিজ্ঞানী প্রতাপ রায়চৌধুরী বলছেন, অতিপরিবাহী পদার্থের গবেষণায় এই আবিষ্কারকে একটি মাইল স্টোন বলা যায়। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অতিপরিবাহী পদার্থের খোঁজ পাওয়ার জন্য ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু তেমন একটা সাফল্য আসেনি। এ বারের আবিষ্কারকে সেই অর্থে ব্রেক থ্রু। এই প্রথম ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনও পদার্থের মধ্যে অতিপরিবাহিতার সন্ধান মিলল। এর ফলে, এক দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। সূত্র: ডেইলি সায়েন্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিদ্যুৎ


আরও
আরও পড়ুন