Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

তানোরে দুঃস্থ নারীদের টাকা আত্মসাৎ!

তানোর (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

রাজশাহীর তানোরে ভিজিডি কার্ডধারী উপকারভোগী দুঃস্থ নারীদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক শফিকুল ইসলাম, দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) প্রকল্পের ম্যানেজার আব্দুল মোতালেব ও মাঠকর্মী এমদাদুল হক যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার পাঁচন্দর ইউপি কার্যালয়ে ভিজিডি উপকারভোগী নারীদের সঞ্চয়ের টাকা কম দিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে হিসাব রক্ষক শফিকুল ইসলাম দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) প্রকল্পের ম্যানেজার আব্দুল মোতালেব ও মাঠকর্মী এমদাদুল হক। এ সময় বিক্ষুব্ধ নারীরা তাদের ইউপি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে টাকা ফেরত ও তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এদিকে তানোরের ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বিপুল সংখ্যক উপকারভোগীদের কাছে থেকে মাথা পিছু ৩শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা করে কেটে নিয়ে বিরাট অঙ্কের টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, তানোরের পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর-কুন্দাইন গ্রামের জালাল উদ্দীনের স্ত্রী মনোনয়ারাকে ৫ হাজার টাকার জায়গায় ৪ হাজার ৪৪৫ টাকা, বেলাল উদ্দীনের স্ত্রী নুরনাহারকে ৪১৪১ টাকা, মহির উদ্দীনের স্ত্রী শামিমাকে ৪১২৫ টাক, আলমের স্ত্রী পারুলকে ৪২০০ টাকা ও মাতিনের স্ত্রী নাজমাকে ৪২০০ টাকা এভাবে প্রতিটি সদস্যর কাছে থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী ভিজিডি কার্ডধারী উপকার ভোগী নারীরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা পায়। এ জন্য মাথা পিছু তাদের দুশ’ টাকা করে সঞ্চয় জমা দিতে হয় দুই বছরে ২৪ মাসে ৪ হাজার ৮শ’ টাকা সঞ্চয় জমা এবং দুই বছর পর মুনাফাসহ মাথা পিছু ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা রয়েছে। আর এসব টাকা উত্তোলন করেন দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) প্রকল্পের মাঠকর্মী এমদাদুল হক। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী সোমবার পাঁচন্দর ইউপির ভিজিডি কার্ডধারী ৪৭১ জন নারীকে সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিটি সদস্যদের কাছে থেকে মাথা পিছু ৩শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা করে কেটে নেয়া হয়। এদিকে টাকা কেটে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এসব নারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অন্যদিকে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে তারা টাকা দেয়া বন্ধ করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এ সময় তারা টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, তিনি পরিষদের বাইরে আছেন। তিনি বলেন এসব টাকার সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই এটা সংশ্লিষ্ট এনজিওর বিষয়।
এব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন পাশ বইয়ে তাদের টাকা জমা কম দেখানো হয়েছে তাই তাদের টাকা কম দেয়া হয়েছে এটার দায় সংশ্লিষ্ট এনজিওর। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এনজিওর উপজেলা ম্যানেজার আব্দুল মোতালেব বলেন, এটা আমাদের ভুল হয়েছে তবে টাকা আমরা তাদের ফেরত দিয়েছি। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধূরী মুহা. গোলাম রাব্বী বলেন,তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন