Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

পদত্যাগ করলেন মালয়েশিয়ার রাজা

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম | আপডেট : ১২:১২ এএম, ৮ জানুয়ারি, ২০১৯

সিংহাসনে আরোহণ করার মাত্র দু’বছর পরেই পদত্যাগ করলেন মালয়েশিয়ার রাজা পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি। বলা হয়েছে, তার এই পদত্যাগ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। মালয়েশিয়ায় রাজার ক্ষমতার মেয়াদ ৫ বছর। তা পূরণ হওয়ার তিন বছর আগেই সুলতান মুহাম্মদের এমন সিদ্ধান্তে হতভম্ব সাধারণ মানুষ। খবর আল জাজিরা।
গণ বছরে নিজের থেকে ২৪ বছরের ছোট রাশিয়ান বিউটি কুইন ওকসানা ভোয়েভোদিনাকে বিয়ে করে এমনিতেই তিনি মালয়েশিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় সুলতান মুহাম্মদের বয়স ছিল ৪৮ বছর। আর তিনি যাকে বিয়ে করেন তার বয়স ছিল ২৪ বছর। গণ বছর নভেম্বরে তাদের বিলাসী বিয়ের আয়োজন করা হয়। ওই বছরের শুরুতে ওকসানা ভোয়েভোদিনা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি সুদ‚রপ্রসারি। বিয়ের আগে তিনি মডেলিং করেছেন চীনে ও থাইল্যান্ডে। নিজের বিয়ে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সুলতান। নীরব থাকে রাজপ্রাসাদও। ‘কাউন্সিল অব রুলারস’ এর তরফ থেকেও এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার জাতীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিনিস্টার পার্লামেন্টারি সিস্টেম ধারার সরকার ব্যবস্থায় পরিচালিত মালয়েশিয়ায় রয়েছে প্রতীকী রাজতন্ত্র। ১৯৫৬ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশের থেকে মুক্ত হওয়ার পর দেশটির রাজ্যগুলোর অস্তিত্ব বিলোপ করে ৯ মালয় রাজ্যের রাজার সমন্বয়ে গঠন করা হয় ‘কাউন্সিল অব রুলারস’। এই কাউন্সিলের সদস্যরাই নিজেদের ভোটে পর্যায়ক্রমে এক একজনকে রাজা নির্বাচিত করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছর মেয়াদে উত্তর-প‚র্বাঞ্চলীয় মালয় রাজ্য কেলানতানের শাসক সুলতান মোহাম্মদ পঞ্চম দেশটির ১৫তম রাজা নির্বাচিত হন।
বারনামার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নতুন রাজা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য সোমবার মালয়েশিয়ার ৯ প্রদেশের ৬ শাসক জাতীয় প্রাসাদে বৈঠক করেছেন। অপর তিন শাসক কেন উপস্থিত হননি তা জানা যায়নি। সিংহাসন শ‚ন্য হওয়ার পর চার সপ্তাহের মধ্যে ভোটাভুটির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।১৯৮১-২০০৩ পর্যন্ত টানা ২১ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাহাথির। ওই সময়ে মাহাথিরের অন্যতম বিরোধীতাকারী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ। ১৯৮১-২০০৩ সময়কালে মালয়েশিয়ার প্রাদেশিক শাসকদের ক্ষমতা খর্ব করেন মাহাথির। ১৯৮৩ সালে নতুন প্রনয়ন করা আইনে ‘কাউন্সিল অব কিংস’এর ভেটো দেওয়া ও অনুমতি প্রত্যাহারের ক্ষমতা বাতিলের উদ্যোগ নেন। ওই সময়েই ওই কাউন্সিলের রাজাদের সঙ্গে প্রথম তিনি বড় ধরনের মতবিরোধে জড়ান। এক দশক পর তাদের ক্ষমতা আরও খর্ব করেন মাহাথির। সে সময়ে বাতিল করা হয় ভ্রমণের সময়ে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ থেকে রাজাদের দায়মুক্তির আইন।
২ জানুয়ারি ‘আইনের শাসন’ শিরোনামে লেখা লেখা এক ব্লগ পোস্টে মাহাথির বলেন, রাজারা আইনের উর্ধ্বে নন। তিনি লেখেন, ‘রাজা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবার জন্যই আইন সমান। আইনে এমন কোনও বিধান নেই যে কেউ আইনের শাসনের বাইরে থাকেব। রাজাদেরও অবশ্যই আইন মানতে হবে। আইনের আইনের ভয়ানক লঙ্ঘন ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া যাবে এই ভুল বিশ্বাসে কাউকে অন্যায় করতে দেখা খুবই বিরক্তিকর।’
মাহাথিরের পোস্টের পর শুক্রবার স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ স্ট্রেইট টাইমস জানায় বুধবার রাতে অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেছে কিংস অব কাউন্সিল। ওই বৈঠকে রাজতন্ত্র বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানালেও তা সুলতান মোহাম্মদ সংশ্লিষ্ট কিনা তা জানানো হয়নি। এরপরই মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদ থেকে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাজপ্রাসাদ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাউন্সিল অব রুলারস যে সুযোগ দিয়েছিলেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন সুলতান মুহাম্মদ। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, রাজা হিসেবে সুলতান মুহাম্মদ দু’মাসের মেডিকেল ছুটিতে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে কাজে যোগ দেয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ