Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

মধুর আমার মায়ের হাসি

প্রকাশের সময় : ১০ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গত ৮ মে ছিলো বিশ্ব মা দিবস। সবাইকে মা দিবসের শুভেচ্ছা। বরাবরের মতো এবারও আপনাদের পাঠানো লেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের মা দিবস সংখ্যাটি। পরিসরের স্বল্পতার জন্য সব লেখা আমাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হয়নি। সে জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। আপনাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনায়
বিভাগীয় সম্পাদক
মহিলা
দৈনিক ইনকিলাব


ইসলাম ধর্মই মাতৃদিবসকে গৌরবান্বিত করেছে

পরম করুণাময় মহান আল্লাহর মনোনীত ও প্রদত্ত ধর্ম ইসলাম। এ ধর্মের ভালো-মন্দ, ভূত-ভবিষ্যৎ সবকিছুই মহাবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ কোরানুল কারীম ও হাদিস শরিফ দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত। মহাপ্রজ্ঞাময় গ্রন্থে রয়েছে মানব জীবনের যাবতীয় উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট কর্মকা-ের দিকনির্দেশনা। প্রবল পরাক্রান্ত মহাশক্তিশালী আল্লাহ যখন পৃথিবীতে মানব জাতি সৃষ্টি করতে মনস্থ করলেন, তখন তিনি তাঁর সৃষ্টি কৌশলে মানবাত্মা সৃষ্টি করে আরশে আজিমের নিচে রেখে দিলেন। তথা হতে ক্রমান্বয়ে জীব-জগতে মাতৃগর্ভে প্রেরণ করেন। পরে সন্তান রূপে মাতৃক্রোড়ে শোভা পায়। মোটের ওপর ধরাধামে সন্তানের আবির্ভাব একমাত্র মায়ের দ্বারাই সম্ভব। সন্তানের আগমন ও অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য অন্য কোনো বিকল্প নেই। সন্তানের অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে মায়ের অবদান, অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়। বিশেষত মাতার কষ্ট অনেক বেশি হয়ে থাকে। মাতা দীর্ঘ দশ মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। এরপর প্রসবকালে অসহনীয় প্রসব বেদনার পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। মাকে আরো কত যে কষ্ট সহ্য করে সন্তান লালন-পালন করতে হয়, তা মা ব্যতীত অন্য কেউ কল্পনাও করতে পারে না। আবার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুই বছর দুগ্ধ পানের কঠিন কাজও সমাধা করতে হয়। দিনে-রাতে সন্তানের মলমূত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়। আবার নিজে ময়লাযুক্ত বিছানায় শুয়েও সন্তানকে পরিষ্কার বিছানায় শুইয়ে রাখেন। সামান্য একটু কান্নার শব্দে ¯েœহময়ী মা ব্যাকুল হয়ে পড়েন, যতক্ষণ সন্তান সুস্থ হয়ে না ওঠেন, ততক্ষণ পর্যন্ত মায়ের দুই চোখে ঘুম আসে না। এ সম্বন্ধে মহাবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ কোরানুল কারীমে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যরে বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌঁছেছে তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ, আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎ কাজ করি। (সূরা : আল-আহকাফ-১৫) আরো আছে, আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। (সূরা : লোকমান-১৪)। আল হাদিসে ও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম নবী (সা.) বলেছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। এই অমিয় বাণীতেই মায়ের শ্বাশত মর্যাদার মূল্যায়ন হয়। যা ইসলাম শুরুর লগ্ন থেকে প্রলয় দিবস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আমরা মুসলমানরা যে পদ্ধতিতে মাতৃদিবস পালন করি, তার সঙ্গে অন্য কোনো জাতির তুলনা হতে পারে না। কারণ আমরা মুসলমানরা আজীবন মায়ের পদতলে জান্নাত, কোরানুল কারীম ও হাদিস পাকের শ্বাশত বাণীকে ঐকান্তিকভাবে গ্রহণ করে মায়ের সেবায় আত্মনিয়োগ করি। আল হাদিসে বর্ণিত, যদি কোনো সন্তান পিতা-মাতার প্রতি ¯েœহার্দ্র নয়নে তাকায়, তবে তার আমলনামায় একটি মঞ্জুর হজের সওয়াব পাবে। এমনকি যদি কয়েকবার তাকায়, তাতেও নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না। তাতেই আমরা মুসলমানরা বয়োবৃদ্ধ মাতা-পিতার মনোতুষ্টির জন্য সদা সর্বদা সচেষ্ট থাকি। পৃথিবীতে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে, যেখানে পিতামাতার দোয়ায় সন্তান সাফল্যম-িত হয়েছে। হযরত বায়োজিদ বোস্তামী মায়ের দোয়াতেই অলিকুল শ্রেষ্ঠ হতে পেরেছিলেন। কথিত আছে, হযরত বায়োজিদ বোস্তামী মাতৃ আদেশ পালন করেত গিয়ে সারা রাত মাটির পাত্র হাতে দাঁড়িয়ে মায়ের ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়ে ছিলেন। মা ছেলেকে এভাবে দেখে জিজ্ঞেস করল, কি হে বাবা! তুমি সারা রাত কি এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলে? পুত্র জবাব দিল, মা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত হবে, সেজন্যে সাড়া দেইনি। মমতাময়ী মা পুত্রের এহেন মাতৃভক্তি দেখে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং তার দোয়া মঞ্জুর হলো। কিন্তু মুসলমানদের সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের মাতৃভক্তিতে দিন-রাত তফাৎ। তারা মাতৃদিবস পালন করে। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাকে নির্জন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দায়িত্ব পালন করে। সুধী সমাজ ভেবে দেখুন, যে সময় মানুষ বয়সভারে ভারাক্রান্ত হয়ে অন্যের সাহায্য প্রার্থী হয়, সে সময় পাশ্চাত্যের সুসভ্য বলে কথিতরা অসহায় পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়ে মাতৃদিবস পালন করে। ভাঁওতাবাজি আর কাকে বলে।
য় মোঃ আবদুল হক মোল্লা
ষোলঘর, চাঁদপুর
মায়ের প্রতি সম্মান
পৃথিবীতে একটি মাত্র প্রিয় শব্দ ‘মা’ যা ভাবতেই প্রতিটি মানুষের হৃদয় গহীনে এক অনন্য পবিত্র ভালোবাসার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। নারী জীবনের সর্বোচ্চ সার্থকতাই যেন এই শব্দের মাঝে লুকায়িত। একজন নারী যখন মাতৃত্বের স্বপ্নকে আলিঙ্গন করেন তখন থেকেই নিজেকে তার সন্তানের জন্য উৎসর্গ করার স্বপ্ন দেখেন। এই উৎসর্গে তার ঘাম ঝড়ানো কষ্ট যেন কিছুই নয়। কিন্তু হায়, আজকের বর্তমান সভ্যতায় সন্তানরা যেন নিজেকে বাবা-মার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। যে সময় চিন্তা বাবা-মার ভালোবাসাকে ঘিরে থাকার কথা সেখানে তারা প্রেম-ভালোবাসা, পরকীয়া, হত্যা-ধর্ষণের মাঝে লিপ্ত হয়ে জীবনের পরিসমাপ্তি করছে। কখনো এমনও দৃশ্য প্রতীয়মান হয়, যেন নতুন পুত্রবধূর আগমনে আদরের সন্তানের কাছে উৎসর্গময়ী ‘মা’ হয়ে উঠে এক অনাকাক্সিক্ষত ব্যক্তি। এ যেন পুত্রবধূর দ্বারা ঝিনুক হতে মুক্তা কেড়ে নেয়ার শামিল। ভাববার বিষয়, যে পুত্রবধূর আগমনে মমতাময়ী ‘মা’ নামক শব্দটির মর্যাদার হানি হয়, তিনিই আবার মা হবার স্বপ্নে বিভোর থাকেন। এসবই কি মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসার সম্মান? না, কখনোই নয়, এই পাপের প্রায়শ্চিত করতে গিয়েই প্রতিটি পুত্রবধূ, প্রতিটি মায়ের মাতৃত্বের আনন্দই একসময় সন্তান দূরে সরে যাবার বেদনায় বিষাদে পরিণত হয়। তাই প্রতিটি নারীকে শুধু মা হবার স্বপ্ন নয়, দেখতে হবে এক আদর্শ মা হবার স্বপ্ন। মা-কে সম্মান করে, ন্যায়নীতি তথা ধর্মীয় জীবন অনুসরণে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে আদর্শ মা হবার। তবেই সন্তান ও মায়ের ভালোবাসার প্রকৃত সম্পর্ক টিকে থাকবে অনন্তকাল। আমরা সবাই যেন মা-কে ভালোবেসে হৃদয় মন্দিরে সর্বোচ্চ আসন দিতে পারি, দয়াময় আমাদের সে তৌফিক দান করুন, আমীন।
য় তৌহিদা রুমানা
রাজশাহী
‘মা’ দিবসে মায়ের গুরুত্ব
নারীর পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে। মা এক বেহেশতি শব্দ। এ শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক অনাবিল আনন্দ। সন্তানের মুখের মা ডাক মাকে করে তোলে মহীয়সী ‘মা’ হন অনন্যা।
একজন সন্তান জন্ম নেয়ার পর নানা সুখ স্বপ্নে মা বিভোর হন। সন্তানের আধো কথা ও হাঁটি হাঁটি পায়ের সঙ্গে মায়ের স্বপ্নও বাড়তে থাকে কেউ তার সন্তানকে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বড় অর্থনীতিবিদ, কেউ ব্যারিস্টার আবার কেউ কেউ চিন্তা করেন তার সন্তান বড় হয়ে সমাজের হর্তাকর্তা হবেন। সন্তানকে আমাদের দেশে সমাজের একজন করে গড়ে তুলতে হলে, আমাদের কি করা উচিত কিভাবে আমাদের সন্তান প্রতিপালন করা উচিত, কিভাবে আমাদের সন্তান প্রতিপালন করা উচিত সেই সম্বন্ধে আমি এক ‘মা’ আপনাদের কিছু বলতে চাই। সন্তানের নৈতিক শিক্ষাটা খুবই জরুরি। ছোটবেলায় তাকে ভালমন্দ, শিক্ষা দিতে হবে। স্কুলে পাঠানোর আগেই তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে দিতে হবে। বড়দের শ্রদ্ধা করা ছোটদের ভালবাসতে শিখতে হবে। কাজের লোক হলেও তার সঙ্গে ভদ্রতাজনিত ব্যবহার শিখাতে হবে। আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার, কুশল বিনিময় শেখাতে হবে। এই সব আচরণ বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগেই শেখাতে হবে। এর পর আমি মায়েদের কথা বলবো। সমাজে আমরা তিন ধরনের মা দেখতে পাই যেমন : শিক্ষিত কর্মজীবী মা, শিক্ষিত গৃহিণী মা এবং অশিক্ষিত গৃহিণী ও অশিক্ষিত কর্মজীবী মা। শিক্ষিত কর্মজীবী মার কাছে আমার অনুরোধ আপনার বাসায় বাচ্চাদের সার্বক্ষণিক সাহচর্য দেয়ার জন্য আপনার মা, শাশুড়ি, বোন, ননদের মধ্যে থেকে কাউকে নির্বাচন করুন। কাজের লোকের কাছে বাচ্চা কখনও ভাল থাকে না। গৃহিণী মা তার সার্বক্ষণিক সাহচর্য ও তদারকি দিয়ে বাচ্চাদের আনন্দে ভরিয়ে রাখেন। এরা পড়াশুনায় আনন্দ খুঁজে পায়। তবে এদের মধ্যে আবার অনেকে বাচ্চাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বগুণে গুণান্বিত করার জন্য প্রত্যেক বিষয়ের জন্য এক এক জন করে গৃহ শিক্ষক রাখেন, এটা অনুচিত। এর ফলে বাচ্চাদের উপর প্রচ- মানসিক চাপ পড়ে। শেষের দিকে এরা একদম পড়াশোনা করতে চায় না, এর প্রতি অনীহা দেখা দেয়। তাই সাবধান! আপনি একজন শিক্ষিত মা হিসাবে আপনার বাচ্চাকে তার পড়াশোনার কর্মটি খুব আনন্দের সহিত শিক্ষা দিতে পারেন। আপনার শিশু এতে উপকৃত হবে বেং ভবিষ্যতে একজন সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। আর আপনি দেখবেন যে কোন কঠিন বিষয়ও আপনি সহজে শিখিয়ে ফেলতে পারবেন। একটু আদর ¯েœহ দেখাবেন কেমন যাদুর মত কাজ করে। আজকের মায়েদের ব্যস্ত জীবনে শিশুরা আদর-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত। আমরা শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই যার যার জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। বাচ্চাদের আমরা ভালবাসি কিন্তু তাদের সঠিকভাবে সময় দিতে পারি না। আর যেটুকু সময় আমরা পাই সেই সময়টুকুতে আমরা বাচ্চাদের সঙ্গ দেয়ার পরিবর্তে কঠিন শাসনের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে রাখি। এজন্য আজকের শিশুরা বিপথে চলে যাচ্ছে। শিশুদের সঠিক পথে চালাতে এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মায়েদের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। পোশাকে, কথাবার্তায়, চালচলনে হতে হবে মার্জিত।
য় মরিয়ম হোসেন
ঢাকা।
‘মা’ আমার মা
মা একটি ছোট শব্দ। এই ছোট্ট ‘মা’ শব্দতেই পুরো পৃথিবীর তথা সৃষ্টিকুলের সকল মধু, শান্তি, মায়া, মহব্বত, রহমত, বরকত, পুণ্য সবই জড়িত। মা তোমাকে আমি ছোট্ট মনে করছি না। ধরতে গেলে মা-ই বড়। ভালোবাসা, প্রেম, মতব্বত শিখিয়েছেন তো মা-ই। আমাকে কাজে-অকাজে অমন করে সাড়া দিতে ... শিখিয়েছেন তো মা-ই। মা পথ দেখিয়েছেন, আর আমি চলছি সে পথ ধরে। লোকে ভাবছে কি খামখেয়ালি, বিশ্রি লোভী আমি, আমার চলার খবর মা জানতেন, আর সে খবর আমি জানিÑ এমন একদিন আসবে যেদিন লোকে আমার কথা ভেবে দুই ফোঁটা সমবেদনার অশ্রু ফেলবেই, আমি কিন্তু তা দেখতে পাব না। কারণ সেদিন আমি থাকবো দুঃখ-কান্নার সুদূর পাড়ে। মা তুমি তো মরে শান্তি পেয়েছ বা পাবে!! কিন্তু কি অশান্তির আগুন জ্বালায়ে দিয়ে গেলে আমার প্রাণে। এই যে একটি মেয়েকে বউ বানিয়ে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেলে। এর জন্য দায়ী কে? মা তুমি তো আমার মনের শান্তির জন্য ওই মালা পরিয়ে দিয়ে গেলে। ওই মালা হয়েছে আমার জ্বালা, কোথাও পালিয়ে টিকতে পারছি না। মা লোহার শিকল ঢলে যাওয়ার ক্ষমতা আমার আছে, কিন্তু ফুলের শিকল ঢলে যাওয়ার ক্ষমতাই নাই যে আমার। মা, যা কঠোর, তার উপর কঠোরতা সহজে আসে কিন্তু যা কোমল, নমনীয়Ñ তাকে আঘাত করবে কে? তারই জ্বালা যে সইতে পারছি না মা। ‘মা’ তুমি আমাকে/আমাদের ক্ষমা কর। মন খুলে দোয়া কর সৃষ্টিকর্তার কাছে, সুখে-শান্তিতে ও পরহেজগারীতে। পায় যেন আমার/আমাদের জীবন।

য় মো. জুলফিকার আলম (মুকুল)
খাগড়াছড়ি, পার্বত্য জেলা
কোর্ট রোড, খাগড়াছড়ি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।