Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

একমাত্র তুরস্কই শান্তি আনতে পারে সিরিয়ায় : এরদোগান

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত : ট্রাম্প

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ায় একমাত্র তুরস্কই শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন তিনি। সোমবার মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে এরদোগান এ দাবি করেন। এতে তিনি বলেন, গত মাসে সিরিয়া থেকে ২ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে সঠিক কাজটিই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরদোগান বলেন, বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অবশ্যই অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। যাতে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সিরিয়ার জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। তিনি বলেন, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থায়ী সেনাবাহিনী রয়েছে তুরস্কের এবং একমাত্র তার দেশই ক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্য করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাসদস্য প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মাঝে তুর্কি এই প্রেসিডেন্ট এসব মন্তব্য করলেন। কেননা সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেয়া বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে বিপরীত তথ্য পাওয়া গেছে। কীভাবে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে সেব্যাপারে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। সোমবার ট্রাম্পে বলেছেন, যথাযথ গতিতেই সিরিয়া ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। এর আগে খবরে বলা হয়, সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তবে সতর্কতার সঙ্গে এবং সঠিক সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জানান এরদোগান। সোমবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে তার কলামটি প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে এরদোগানের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাতের আগের দিন তুর্কি প্রেসিডেন্টের লেখা এই কলাম প্রকাশিত হলো। এতে সিরিয়া থেকে আইএস-সহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোগান। তিনি বলেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রতাহ্যারের ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সিরিয়ার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সতর্কতার সঙ্গে এবং সঠিক অংশীদারদের সহযোগিতা নিয়ে এটি কার্যকর করতে হবে। এরদোগান বলেন, ন্যাটোতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা পাঠানো তুরস্ক হচ্ছে একমাত্র দেশ যাদের সেই এই কাজ সম্পাদনের শক্তি এবং অঙ্গীকার রয়েছে। অপরদিকে, সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের সমালোচকদের একহাত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেছেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যেই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সিরিয়া থেকে সরে যাওয়ার পাশাপাশি একইসঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। দূরদর্শিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের আগে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, সেনা প্রত্যাহার এমনভাবে করা হবে যেন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে ‘পুরোপুরি আশ্বস্ত’ করা যায়। এর আগে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে পরাজিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহীদের সুরক্ষায় তুরস্কের কাছে নিশ্চয়তা চান জন বোল্টন। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেনা প্রত্যাহারের আগে ইসরাইলসহ মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন তিনি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প প্রশাসনের এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আইএসকে পরাজিত করা এবং তারা যেন পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, ফের কোনও হুমকি হয়ে উঠতে না পারে তার নিশ্চিতের পরই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এ অঞ্চলে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্রদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আইএসের বিরুদ্ধে অন্য যারা (সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী) লড়াই করেছে তাদের প্রতিও খেয়াল রাখা হবে। আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা, রয়টার্স,এএফপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিরিয়া

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ