Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫, ১৭ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

জিয়ারতে সোনার মদিনা (সা:)

মুফতি মাওলানা এহসানুল হক মোজাদ্দেদী | প্রকাশের সময় : ১০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ইসলাম-পূর্ব যুগে মদিনা শরীফের নাম ছিল ইয়াসরিব। রাসুলে কারিম (সাঃ) এর হিজরতের পর এই শহরের নাম হয় মদিনাতুন্নবী বা নবীজির শহর। এখন বলা হয় মদিনা। সোনার মদিনা, প্রাণের মদিনা। মুমিন মুসলমানদের প্রাণের ভূমি। মদিনা শরীফ হলো নবীজি (সাঃ) এর প্রিয় শহর; শান্তির নগর। রাসুলে কারিম (সাঃ) বলেন, ‘যে আমার রওজা জিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।’ (বায়হাকী : ৩৮৬২)। তিনি আরও বলেন, যে হজ করল কিন্তু আমার রওজা জিয়ারত করল না; সে আমার প্রতি জুলুম করল। (ইবনে হিব্বান, দারা কুতনী, দায়লামী শরিফ।) ফকিহগণের মতে, হাজিদের জন্য মদিনা শরিফ জিয়ারত করা সুন্নত। পাকিস্তানের প্রখ্যাত মুফতি আল্লামা ইউসুফ ইসলাহি তার আসান ফিকাহ গ্রন্থে লিখেছেন, হাজি সাহেবদের জন্য রওজা শরিফ জিয়ারত করা ওয়াজিব।জান্নাত প্রত্যাশী প্রতিটি মুমিন মুসলমানদের অন্তর সর্বদা উন্মুখ হয়ে থাকে নবী পাক (সাঃ) এর রওজা মোবারক যিয়ারত ও পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারা দেখার জন্য। হুজুর পাক (সাঃ) এর রওজা পাকের সবুজ গম্বুজ তো বেহেশতের একটি নিদর্শন যা দর্শনে কেবল চক্ষু পবিত্র হয় না, প্রশান্তিতে ভরে ওঠে মানব হৃদয়। সবুজ গম্বুজের চতুর্দিকে রহমতের এমন স্রোতধারা প্রবাহমান, যার প্রবনে কার না অবগাহন করতে ইচ্ছে করে। কার না মন চায় হৃদয় উজাড় করে বাদশাহর বাদশাহ কমলীওয়ালা নবীকে (সা:) কে সালাতু সালাম জানাতে! কারণ এখানেই শুয়ে আছেন সুলতানে মাদীনা, রাহমাতুল্লিল আলামীন, হায়াতুন্নাবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমাদ মোজতবা (সা:)।
জান্নাতী নিশান রওজা পাকের যিয়ারতে রয়েছে অধিক পূণ্য ও ফজিলত। যা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা সমর্থিত ও উত্তম ইবাদত হিসেবে গণ্য। রওজা পাকের যিয়ারতের ফজিলত কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
আল কুরআনের দৃষ্টিতে
আল-কুরআনে রওজা পাকের যিয়ারতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, (হে মাহবুব!) যদি তারা নিজেদের আত্মার উপর জুলম করে তাহলে যেন তারা আপনার দরবারে আসে, অত:পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং রাসুল (সাঃ) ও যদি তাদের জন্য ক্ষমা চেয়ে সুপারিশ করেন তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও দয়ালু পাবে। (সুরা নিসা, আয়াত : ৬৪)
হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে
রওজায়ে আতহার যিয়ারতে নবী করীম (স:) ইরশাদ করেছেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (স:) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার রওজা যিয়ারত করল তার জন্য আমার শাফায়াত (সুপারিশ) ওয়াজিব হয়ে গেল। (বায়হাকী) আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে মদীনার উপস্থিত হয়ে আমার যিয়ারত করবে কিয়ামত দিবসে আমি তার পক্ষে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব। (বায়হাকী) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে , যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ শরীফ হজ্জ করল অথচ আমার যিয়ারত করল না, মূলত সে আমার উপর জুলুম করল। (ইবনু হিব্বান,দারা কুতনী, দায়লামী,)
রওজা পাক যিয়ারতের আদব
রাসুল (সা:) এর রওজা পাক হাজারো বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তার শান ও মর্যাদা মহান আল্লাহ প্রদত্ত। এই মহিমান্বিত পূণ্যস্থান যিয়ারতে আদব বজায় রাখা ঈমানের দাবী। আসুন জেনে নিই রওজা শরীফ যিয়ারতের আদব।
দেহ-মনে পবিত্র হয়ে, সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে, খুশবু লাগিয়ে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে যিয়ারত করা উচিত। রিয়াজুল জান্নাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসায় বিগলিত হয়ে আল্লাহর হাবিবের প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করা। খুব আদবের সঙ্গে বিনয়ের সুরে ‘আস-সালাতু আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ’ বলে সালাম পেশ করা। তারপর হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত উমর (রা.) এর প্রতি সালাম পেশ করা ও তাদের মাজার যিয়ারত করা। নম্র, বিনয়াবনত হৃদয় নিয়ে যিয়ারত করা। রওজা পাকে উচ্চ আওয়াজে কিছু না বলা। নবী করীম (স:)কে হায়াতুন্নবী মেনে রওজামুখী হয়ে তাঁর উসিলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। নবী প্রেমে সিক্ত হৃদয়ে দুই নয়নের অশ্রু ঝরানো। বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করে দোয়া করা।
হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত উমর (রা.) এবং জান্নাতুল বাকীসহ সহ সকল সাহাবী, উম্মাহাতুল মুমেনীন, সারা বিশ্বের মুসলিম নর-নারীর জন্য দোয়া করা। অবশেষে এই বলে দোয়া করা যে, হে আল্লাহ আমার এই যিয়ারত যেন শেষ যিয়ারত না হয়। বারবার যেন রওজা শরীফ যিয়ারত এবং প্রিয় নবী (সা:) এর দীদার নসিব হয়। আমিন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ