Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫, ১৭ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

সিটি-পিএসজির ভিন্নরকম বিস্ময়

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম


পরশু ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলে জায়ান্টদের লিগ কাপের রাত। রাতটা ঐতিহাসিক করে রেখেছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। টানা ব্যর্থতার শেকল ভেঙে বছরের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদও। তবে বিষ্ময় উপহার দিয়ে বিদায় নিয়েছে টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর ঘরের মাঠে রিয়াল সোসিয়াদাদের হার। এরপর থেকে চলছিল রিয়াল কোচ সান্তিয়াগো সোলারির মুÐুপাত। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়, যত খারাপ ফলই করুণ না কেন মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বার্নাব্যুতেই থাকছেন আর্জেন্টাইন কোচ। ক্লাবের আস্থার প্রতিদান দিয়ে আবার ঘুঁরে দাঁড়িয়েছে সোলারির দলও। কোপা দেল রে’র শেষ ষোলর প্রথম লেগের ম্যাচে পরশু লেগানেসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মাদ্রিদের দলটি। গোল করে ও করিয়ে মন কেড়েছেন তরুণ ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র।

অবশ্য এদিনও শুরুর দিকে হতাশ করছিলেন ক্রুস-রামোস-কাসিমিরো-বেনজেমা-ভাসকেজেদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী রিয়াল। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের শততম গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেন দলপতি সার্জিও রামোস। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নির্ভার রিয়াল ভালো খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ৬৮ মিনিটে ভাসকেজকে দিয়ে গোল করানোর পর ৭৭ মিনিটে নিজে গোল করেন ভিনিসিউস। তার বদলি হয়ে মাঠে নামেন ম্যান সিটি থেকে সদ্য বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়া ১৯ বছর বয়সী ব্রাহিম দিয়াজ। এই ম্যাচ দিয়েই রিয়ালের জার্সিতে অভিষেক ঘটল স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের। বুধবার লেগানেসের মাঠে হবে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি।
কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে রিয়ালের জন্য দ্বিতীয় লেগের দরকার হলেও কারাবাও কাপের (লিগ কাপ) ফাইনালে নাম লেখাতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি না খেললেও চলবে ম্যাস সিটির। ঘরের মাঠে প্রথম লেগেই যে কাজটা সেরে ফেলেছে সিটিজেনরা। তৃতীয় সারির দল বার্টন অ্যালবিয়নকে নিয়ে শ্রেফ ছেলেখেলা করেছে ওটামেন্ডি, সিলভা, মাহরেজ, সানে, সেজুসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী সিটি। নিজেদের মাঠ ইতিহাদে বার্টনকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে গার্দিওলার দল! ইংলিশ লিগ কাপের প্রায় দেড়’শ বছরের ইতিহাসে সেমিফাইনালে কোন দল এর আগে এত বড় জয় পায়নি। গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারে অবশ্য একই ব্যবধানের জয় আছে একটি, বার্সেলোনার হয়ে কোপা দেল রেতে ২০১১ সালে।

৩৭ মিনিটেই চার গোল করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় সিটি। গোল উৎসবের দিনে একাই চার গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, একবার করে স্কোরবোর্ডে নাম লেখান ডি ব্রইনা, জিনচাঙ্কো, ফডেন, ওয়াকার ও মাহরেজ। অবাক করা বিষয় হলো পুরো ম্যাচে একবারো রেফারিকে পকেট থেকে কোন কার্ড বের করতে হয়নি।
রিয়াল ও সিটির মত জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও। কিন্তু লিগ ওয়ানের তলানীর দল গুইনগাম্পের কাছে শেষ ১০ মিনিটে দুই গোল খেয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে আসরের টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। নেইমার-এমবাপে-ডি মারিয়া-সিলভাদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দল নিয়েও পেরে ওঠেনি লিগ ওয়ানের চ্যাম্পিয়নরা। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে অপরাজিত থাকা দলটি অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে হেরেছে বলে মনে করেন দলটির কোচ টমাস টুখেল।

পিএসজির পরাজয়ের মূল কারণ ডি বক্সে রক্ষণভাগের তিনটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল। সেই সুবাদে পাওয়া তিন পেনাল্টির প্রথমটি মিস করেন কিংবদন্তি ফরাসি ডিফেন্ডার লিলিয়ান থুরামের ছেলে মার্কাস থুরাম। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে তার পেনাল্টি গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গুইনগাম্প। এর আগে ৫৯ মিনিটে করা নেইমারের গোলটি দুই মিনট বাদেই পেনাল্টি থেকে শোধ করেন ইয়ানি এন’গাবাকোতো। দারুণ জয়ে সেইমফাইনালে উঠল মোনাকোর দলটি।
রেনির বিপক্ষে চমক উপহার দিয়ে শেষ আটে ওঠে গুইনগাম্প। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ ড্র হওয়ার পর ২২ পেনাল্টি শুট আউটে ৮-৭ গোলে জিতেছিল তারা!


রিয়াল মাদ্রিদ
ডিফেন্ডার হয়েও ক্যারিয়ারের এক’শ গোলের দেখা পেয়ে গেলেন সার্জিও রামোস। এর মধ্যে ৮০টি রিয়ালের জার্সিতে, সেভিয়ার হয়ে ৩টি ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ১৭ গোল করেছেন রামোস।

ম্যান সিটি

১৯৮৭ সালের পর এই প্রথম এক ম্যাচে আটের অধীক গোল করল ম্যান সিটি ।
চলতি মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ চার স্তরে প্রতি দুই ম্যাচে কমপক্ষে সাতটি করে গোল করল সিটি।

পিএসজি
টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ৪৯ ম্যাচ পর ফরাসি লিগ কাপে পরাজয়ের মুখ দেখল

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ