Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘বাবরি’র নিচে মন্দির নয় থাকতে পারে মসজিদ

হাফিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্মতাত্ত্বিক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

ভারতের বিখ্যাত বাবরি মসজিদে ৬ মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ির পর ২০০৩ সালের আগস্টে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে (এএসআই) এলাহাবাদ হাইকোর্টকে জানায়, মসজিদের নিচে একটি মন্দির থাকার প্রমাণ মিলেছে। ১৯৯২ সালেই কর সেবক নামে একদল উগ্রবাদী হিন্দু গোষ্ঠী বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। তাদের দাবি, সেখানে রাম মন্দির ধ্বংস করে এই মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে। এএসআই’র বক্তব্যে সেই দাবি আরও জোরালো হয়। তবে সুপ্রিয় ভার্মা ও জয়া মেনন নামে দুই প্রত্মতাত্ত্বিক তখনই এএসআই’র বিরুদ্ধে খোঁড়াখুঁড়ি শুরুর আগেই পূর্বানুমান ধারণ করার অভিযোগ আনেন। সুপ্রিয় ভার্মা ভারতের জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ব বিভাগের অধ্যাপক। শিব নদর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান জয়া মেনন। তারা আদালতকে জানান, ওই খোঁড়াখুঁড়ি থেকে এমন কোনো প্রমাণ উঠে আসেনি যা এএসআই’র বক্তব্যকে সমর্থন করে।
২০১০ সালে তারা ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি নামে একটি সাময়িকীতে এএসআই’র অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের চাপেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে বৈধতা দিতে ওই বক্তব্য দেয় এএসআই।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৬তম বার্ষিকীতে সুপ্রিম ভার্মা হাফিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের খোঁড়াখুঁড়িতে যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়, সেগুলো মূলত এএসআই-এর আবিষ্কৃত। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বি. আর. মনির নেতৃত্বে হওয়া এই খননে পদ্ধতিগত ত্রুটি হয়েছে। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে এই খননকার্য থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৬ সালে এসে নরেন্দ্র মোদি সরকার এই বি. আর. মনিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক করেছে।
সুপ্রিয় ভার্মাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোনো রামমন্দিরের ওপর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন কোনো প্রত্মতাত্বিক প্রমাণ রয়েছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ নেই। এমনকি আজও কোনো প্রত্মতাত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, বাবরি মসজিদের নিচে মন্দির রয়েছে। কিন্তু কী প্রমাণের ভিত্তিতে এএসআই এমন দাবি করেছিল, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খননকার্য থেকে এএসআই মূলত তিন খন্ড প্রমাণ পেয়েছে। একটি হলো পশ্চিমমুখী দেওয়াল। ৫০টি স্তম্ভের গোড়া। আর কিছু স্থাপত্য খন্ড। পশ্চিমমুখী দেওয়াল মূলত একটি মসজিদের বৈশিষ্ট্য। এই দেওয়ালের সামনে ফিরেই মুসলমানরা নামাজ আদায় করেন। এটি কোনো মন্দিরের বৈশিষ্ট্য নয়। মন্দিরের বৈশিষ্ট্য পুরোই আলাদা। অপরদিকে যে ৫০টি স্তম্ভের গোড়ার কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণই ভুয়া। আমরা আদালতের কাছে বহুবার এই অভিযোগ করেছি। আমাদের যুক্তি হলো, তারা যে জিনিসকে স্তম্ভের গোড়া বা ভিত্তি বলছে, তা মূলত ভাঙা ইটের খন্ড। এগুলোর ভেতরে মাটি। এসবের ওপর কোনো পিলার দাঁড় করানো একেবারেই সম্ভব নয়।
তৃতীয় প্রমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আর্কিটেকচারাল কিছু অংশবিশেষ। তারা বলছে যে, ৪০০-৫০০ টুকরো পাওয়া গেছে। এগুলো মূলত যেকোনো ভবনেরই অংশ হতে পারে। এগুলোর মধ্যে ১২টিকে তারা বলছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ১২টি খন্ড খননের সময় পাওয়া যায়নি। এগুলো মূলত মসজিদের মেঝের ওপর পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে নেয়া হয়েছে। সেখানে একটি মূর্তিসদৃশ ছিল, সেটাকে বলা হচ্ছে কোনো স্বর্গীয় জোড়া! কিন্তু সেটাকে সত্য ধরলেও সেখানে শুধু একজন পুরুষ, একজন নারীর প্রতিকৃতির মতো আছে, তা-ও অর্ধভাঙা। আর কিছুই সেখানে নেই! একটি মন্দির, যেটি কিনা প্রস্তর মন্দির বলে দাবি করা হচ্ছে, সেসব মন্দিরে আরও অনেক বেশি মূর্তি বা প্রস্তরে খোদাই করা জিনিস থাকার কথা। কিন্তু এমন কিছুই পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই প্রস্তরের কোনো তারিখ নির্ণয় করা যায় না। এসব প্রস্তর যেকোনো সময়ের হতে পারে। এর সঠিক বয়স নির্ণয় করার কোনো উপায় নেই। অর্থাৎ এটি কোনো রাম মন্দিরের কিনা, তার কোনো প্রমাণই নেই। আর যেসব পিলারের গোড়া রয়েছে, সেগুলো আমার মতে স্পষ্টতই ১২ থেকে ১৫শ’ শতাব্দীর সময়কার। এএসআই নিজেও বলছে না, এসবের বয়স কতদিন। সুকৌশলে তা এড়িয়ে সংস্থাটি শুধু বলেছে যে, মসজিদের নিচে একটি মন্দির আছে। ব্যাস!



 

Show all comments
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
    বাবরী মসজিদ পুনঃ নিরমান করতে দেয়া উচিত ।
    Total Reply(0) Reply
  • শাহিন khan ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
    এএসআই হল ভারতে একটি সন্ত্রাসি সংঘটন
    Total Reply(0) Reply
  • md.samshuddin ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    জানি মোরা কিছুই নাই, তবুও কিছু পেতে চাই। অন্তসারশুন্যতার মাঝে মোরা পুনঃজন্মায়।
    Total Reply(0) Reply
  • Hasib ctg ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    খুবই দুঃখের খবর,,,,,,
    Total Reply(0) Reply
  • Azizul Hoque ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    This is india, can do anything for own interest.
    Total Reply(1) Reply
  • Maruf ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫১ এএম says : 0
    এই মিথ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট লোকগুলোকে আইনের আওতায় আনা হোক
    Total Reply(0) Reply
  • আমিন মুন্সি ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫১ এএম says : 0
    বেদনাদায়ক...অথচ এই মিথ্যাকে কেন্দ্র করে কতগুলো প্রাণ ঝরেছে....
    Total Reply(0) Reply
  • নিয়ামুল ইসলাম ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
    আর এস এস জংগিরা পারে খালি চিতকার করে ইতিহাস বানাতে আসলে যার কোন ভিত্তিই নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahbubur Rahman ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
    মিথ্যা চাপা থাকে না
    Total Reply(0) Reply
  • Tofayel Bhuiyan ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
    "মরিয়া প্রমান করিলাম- আমি সতী"!! আল্লাহর গজব এই পৌত্তলিকদের উপর আসবেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Ayon Ahsan ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
    Masjid ta vangai chilo eder mul uddesso
    Total Reply(0) Reply
  • Komol Das ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
    Islam is peaceful location in world BJP terrorism party
    Total Reply(0) Reply
  • Prince Riaz ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    বিজেপি সরকার বেশি বারাবারি করে...ভারতকে ভুলে গেলে চলবেনা মুসলমানদের হাত ধরেই ভারত স্বাধীন হয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • Nazrul Mamun ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    প্রমাণিত হয়েছে, গোমূত্র পানকারীরা মিথ্যের ওপর চলে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Muhib ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
    আল্লাহর দুনিয়ায় কি তখন জায়গার এতো অভাব পড়ছিলো যে মন্দির ভেঙে ওখানেই মসজিদ বানানো লাগবে, ঐটা ছিলো উগ্রবাদী সিবসেনাদের মসজিদ ভাংার একটা বাহানা মাত্র। আসলে মসজিদ ভাংার জন্য একটা কারণ তো দেখাতে হবে আর সেজন্যই উগ্রপন্থীরা কারণ বের করছে যে ওখানে রামমন্দির ছিলো। আজকে এটা পরিষ্কার হলো যে, ওখানে কোন মন্দিরই ছিলো না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Mohiuddin ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৫ এএম says : 0
    আমার প্রিয় বাবরি মসজিদ ভাঙার পেছনে বিজেপির সাজানো নাটক ছিল,এটিই প্রমাণিত হল।
    Total Reply(0) Reply
  • Sultan Masud ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৫ এএম says : 0
    ও আল্লাহ মোদীর এখন কি হবে? ভোটাস্ত্র তো প্রকাশ হয়ে পড়ল,আমার হিন্দুত্ববাদী বন্ধুরা দেখ সত্য কখনো ছাপা থাকে না। আর এসএস সঙ্গ নেতারা কি জবাব দেবে বাবরী মসজিদ ভেঙে রাম লীলা করার স্বপ্ন কি উচিত ছিল?
    Total Reply(0) Reply
  • Ashraful Islam ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৬ এএম says : 0
    আল্লাহ উত্তম বিচারপতি
    Total Reply(0) Reply
  • Feroze Ahmed ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৬ এএম says : 0
    সম্রাট বাবর এতটা অভাগা ছিলেন না যে মন্দির এর উপর মসজিদ করবে।জায়গা তখন কম ও ছিলো না।এটা একটা সাজানো নাটক মাএ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mostafizur Rahman ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৬ এএম says : 0
    আল্লাহ ওদের শাস্তি একদিন দিবেই
    Total Reply(0) Reply
  • MD Atahar ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ৮:৫৯ পিএম says : 0
    Masjid toiri hok
    Total Reply(0) Reply
  • md Al Amin ১১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১১:০৮ পিএম says : 0
    Akhane masjid e toiri hok.
    Total Reply(0) Reply
  • Ozil sabed ১২ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০:১২ এএম says : 0
    ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনো কারো ক্ষতি করে নিজের লাভ চাইবেনা।আর ভারতের ভাবা উচিৎ একদিন ইসলামি ভারতকে স্বাধীন করেছিলেন।।
    Total Reply(0) Reply
  • আব্দুল হালিম ১২ জানুয়ারি, ২০১৯, ৮:০০ এএম says : 0
    মন্দির ভেংগে মসজিদ করবে মোসলমান, এতটা নীচু মনের অধিকারী মোসলমান নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Solaiman al asadi ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:২৩ এএম says : 0
    সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই----
    Total Reply(0) Reply
  • Solaiman al asadi ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:২৪ এএম says : 0
    সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই----
    Total Reply(0) Reply
  • Arn ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:১২ পিএম says : 0
    ভারত শুধু ইতিহাসকে বিকৃতি করতে পারে। তাছাড়া আর কিছুই করতে পারে না
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

১৭ অক্টোবর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন