Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫, ১৬ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

জনপ্রিয় হচ্ছে শীতকালীন তরমুজ চাষ

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শীতকালীন তরমুজ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। বেশি দামে জমিতেই তরমুজ বিক্রি করতে পারায় কৃষকরাও বেজায় খুশী। পীরগঞ্জের উৎপাদিত তরমুজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি দাম পাওয়ায় আগামীতে শীতকালীন তরমুজ চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার রনশিয়া গনেশ ফার্ম এলাকার কৃষক সোহেল রানা জানান, তিনি এবার দানাজপুর এলাকায় ৪ একর জমিতে শীতকালীন তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
তিনি জানান, শীতের শুরুতেই ঢাকার এক ব্যবসায়ী ৬ লাখ টাকায় তার ক্ষেতের তরমুজ কিনে নিয়েছেন। গত ভাদ্র মাসে তিনি ওই জমিতে সুইট ব্লাক বেবী-২ জাতের তরমুজ চাষ করেন। মাত্র ৬০ দিনের মাথায় জমিতে তরমুজ বড় আকার ধারণ করলে ঢাকার ওই ব্যবসায়ী ক্ষেত থেকেই কিনে নেন। ব্যবসায়ী সানোয়ার জানান, ইতোমধ্যে ৬ ট্রাক তরমুজ ঢাকায় পাঠিয়েছেন। কয়েক দিন আগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া এখানকার তরমুজ ৬০/৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন দাম কিছুটা কমে গেছে। তারপরও লাভ হবে বলে জানান সানোয়ার।
এদিকে দানাজপুর চৌরঙ্গী বাজারের সার বীজ ব্যবসায়ী আলিমউদ্দীন জানান, তিনিও এবার ৫ একর জমিতে শীতকালীন তরমুজ চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে সাড়ে ৮ লাখ টাকায় জমিতে থাকা অবস্থায় তরমুজ বিক্রি করেছেন।
তিনি জানান, বক্রি হলেও ওই ব্যবসায়ী জমি থেকে তরমুজ তুলেননি। একেকটি তরমুজের ওজন হবে ৩ থেকে ৪ কেজি। গত মঙ্গলবার দানাজপুর এলাকায় আলিম উদ্দীনের চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কালো রঙের শত শত তরমুজ পাতার আড়ালে মাটিতে রয়েছে।
তিনি জানান, তার মতো জাবরহাট ও বৈরচুনা ইউনিয়নের আরও অনেক কৃষক এবার শীতকালীন তরমুজ আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেড়েছে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে শীতকালীন তরমুজ চাষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, এবার পীরগঞ্জ উপজেলার ৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাবরহাট ও বৈরচুনা ইউনিয়নে বাম্পার ফলন হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ফলন হয়েছে ভাল। কৃষকরা ভাল দামও পেয়েছেন। আশা করা হচ্ছে আগামীতে শীতকালীন তরমুজের আবাদ আরও বাড়বে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ