Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সাতক্ষীরায় বেড়েছে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

সাতক্ষীরা থেকে আবদুল ওয়াজেদ কচি | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়রিয়া ওয়াডে ৫টি বেডের বিপরিতে ৪০টি রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ১৯ মাস বয়সীর শিশুর সংখ্যা বেশি। তবে ২২ থেকে ৩৬ মাস বয়সের শিশু কম ছিলো না। সবচেয়ে বড় সমস্যা পর্যাপ্ত পরিমান বেড না থাকায় এই ওয়ার্ডের কোমলমতি শিশুদের প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে বারান্দায় বিছানা পেতে সেবা নিচ্ছেন। অপর দিকে হাসপাতালে নির্ধারিত শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া জর, কিডনি, শ্বাস কষ্ট জনিত রোগী ভর্তি রয়েছে ৩৭টি।

এছাড়া নবজাত শিশুদের পরামর্শ কেন্দ্র শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশু রয়েছে ১২ জন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রায় ২২ লক্ষাধিক জনগনের চিকিৎসার অন্যতম কেন্দ্র হলেও চিকিৎসক সঙ্কটের কারনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলাবাসীর। বিশেষ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের কোন নির্ধারিত চিকিৎসক এই হাসপাতালে নেই।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামছুর রহমান স্বেচ্ছায় সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামছুর রহমান জানান, শীতকালে কোল্ড ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অধিক হারে বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন শীতে রান্না খাবার ভাল থাকে যেনে সকালের খাবার দুপুরে বা রাতে খাওয়া হয়। এতে ভাইরাজ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার শিশুদের শুকনো খাবার টোস, কেক, ড্রাইকেক, চিফস এবং ভাজা জাতীয় মুখরোচক খাবারে মধ্যেও কোল্ড ডায়রিয়া হয়ে থাকে। যাহা বমির মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তিতে পাতলা পায়খানায় পরিনত হয়। এতে আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে শিশুরা, তবে ভয়ের কারন নেই যথাসময়ে চিকিৎসা প্রদান করলে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

সিভিল সার্জন ও হাসপাতালে তত্ত¡বধায়ক ডাঃ রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া বেড ও চিকিৎসক সঙ্কট, শিশু চিকিৎসকের ব্যাপারে বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করা হচ্ছে এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড ও জায়গা বৃদ্ধির জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার ভূক্তভোগী রোগীর অভিভাবকরা সাতক্ষীরায় দ্রুত শিশু চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসক প্রদানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন