Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের নীরব বিক্ষোভ

কারখানাকেন্দ্রিক সারা দেশেই নিরাপত্তা জোরদার, কাজে যোগদান করে বের হয়ে যান শ্রমিকরা , সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে ও কারখানার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী, গাজীপুর ও সাভারসহ সারাদেশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে কাজ করছেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। তবে বেতন বাড়ানোর ঘোষণার পরও অসন্তোষ কমেনি পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে। গতকাল নীরব বিক্ষোভ করেছেন আশুলিয়া অঞ্চলের ২০-২৫টি কারখানার শ্রমিক। কারখানায় এসেও কাজে যোগ না দিয়ে বের হয়ে গেছেন তারা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ শ্রমিকদেরকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ সদরদফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মজুরি বাড়ানোর ঘোষণার পরও শ্রমিক অসন্তোষ কমেনি। এ জন্য রাজধানীসহ দেশের যেসব এলাকায় পোশাক কারখানা রয়েছে, সেখানে সর্তক থেকে নজরদারি করতে স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পোশাকদারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা কোনো কিছু না বুঝেই কারখানা থেকে বের হয়ে আসছে। যেহেতু সরকার মজুরি বৃদ্ধি করেছে, তাই এখন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। এরপরও যদি শ্রমিকদের কোনো দাবি-দাওয়া থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার জানান, মালিক-শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার পর সোমবার কাজে ফিরতে শুরু করেছে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তবে এরই মধ্যে জামগড়া, নরসিংহপুর ও বেরন এলাকার ২০-২৫টি কারখানার শ্রমিক কাজে যোগদান করেও পরে কারখানা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ওই কারখানাগুলো একদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোতে দল বেঁধে শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে বেলা ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়ায় জামগড়া, নরসিংহপুর ও বেরন এলাকার হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, এনবয় ও উইনডিসহ কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের পর কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে। পরে তারা জামগড়া ছয়তলা এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে কিছু শ্রমিক পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করে কাজ শুরু করে।
আলপনা নামে একজন অপারেটর জানান, ভেতরে কাজ করলেও নিরাপত্তা পাই না, স্টাফরা আমাদেরকে মারধর করে, আবার বাইরে গেলেও একদল লোক আমাদের ওপর হামলা করে। এখন আমরা কী করব বুঝতে পারছি না।
আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রেজাউল হক বলেন, সকালে প্রতিদিনের মতো কয়েকটি কারখানার শ্রমিক রাস্তায় বের হয়ে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় আমরা শ্রমিকদের প্রথমে বুঝিয়ে সারানোর চেষ্টা করি। আমাদের কথায় কিছু শ্রমিক রাস্তা থেকে সরে গেলেও অন্যরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখে সড়কে বসে থাকে। এ সময় আমরা লাঠিচার্জ করে তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেই। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি আমাদের সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিল ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। পরে এর প্রেক্ষাপটে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি গত ১৩ জানুয়ারি রোববার বৈঠক করে ছয়টি গ্রেড সংশোধন করে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়।



 

Show all comments
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, রুটি-রুজির আন্দোলন বল প্রয়েগে দমন করা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়!
    Total Reply(0) Reply
  • Ghotok Ferdous ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    গাড়ী গুলি এরা কেন ভাঙ্গে? গাড়ীর মালিকের কী দোষ?
    Total Reply(0) Reply
  • ahmed ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    গার্মেন্টস মালিকরা আজ এমপি, মন্ত্রী হয়েছে । এই ক্ষমতায় শ্রমিকদের শোষণ নীতি শুরু করেছে । শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন যা কয়েক মাস আগেই সরকার, বিজিএমই ও শ্রমিক পক্ষ মিলে ঠিক করা হয়েছিল, যা শ্রম মন্ত্রণায় অনুমোদন করেছিল । আজ কেন সেই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার জন্য আন্দোলন করতে হবে ? গার্মেন্টস মালিকরা যদি বেতন না বাড়ায় , একযোগে চাকুরী ছেড়ে গ্রামে যেয়ে কৃষি কাজ, মৎস্য চাষ, ছাগল পালন, কুটীর শিল্পের কাজ করেন । এতে অনেক ভালো থাকবেন । তারপর দেখবেন গার্মেন্টস মালিকরা কারখানা কিভাবে চালায় !!
    Total Reply(0) Reply
  • Tanvir ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত দূর্নীতি আর দূর্নীতি। এই নীতির খেসারত দিতে হয় সাধারণ জনগণের। একটা পোশাক শ্রমিক কত টাকা বেতন পায়। কিন্তু সে সেই টাকায় ঢাকা ভালভাবে থাকতে পারে না। তার উপর সে যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হয় তাহলে তো মরার উপর খারার ঘা। একজন এম.পি মন্ত্রী শ্রমিকদের রক্ত ঘাম করার টাকা দিয়ে টয়োটা চড়বে আর সেই শ্রমিক খালি পায়ে হাঁটবে এটা কেমন বিচার। পোশাক উৎপাদন থেকে শুরু করে রপ্তানি করা পর্যন্ত প্রতিটি সেক্টরে দূর্নীতি। সবক্ষেত্রে দূর্নীতি রোধ করতে হবে। তাহলে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আসবে। মন্ত্রী, এম.পি, আমলা, চাপরাশি, পিয়ন সবাই দূর্নীতির সাথে জড়িত। দেখার কেউ নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohamed A Rahman ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    এক কি কোনো স্থায়ী সমাধান আছে? এ সমস্যার সমাধান না হলে কারই মংগল হবে না, অশান্ত পরিবেশ দেশের জন্য অমংগলকর।
    Total Reply(0) Reply
  • রিদওয়ান বিবেক ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    মালিকদের মিলিয়ন পাউন্ড আয় করে দেয়া শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার তাগিদেই কয়টা পেনি বেশি চাচ্ছে যা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    Salary increased to only the workers, not the officers !! I'm an assistant officer, my basic salary is below 9500Tk. Why not increased mine ?
    Total Reply(0) Reply
  • Zulfiqar Ahmed ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    যে দেশে ১৬ ই ডিসেম্বর তারিখেও ডিউটি করতে হয় , সেখানে এমন হওয়া খারাপ কিছু না ।
    Total Reply(0) Reply
  • Sengupta ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    শ্রমিকদের সাথে বিরূপ আচরণ মালিকপক্ষ সবসময় করে। আর যখন বেতন বাড়ানো হয় ঠিক তখনই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন মালিক পক্ষ। কাজের চাপ বাড়িয়েদিয়ে শ্রমিকদের চাকুিরচূত করার ষড়যন্ত্র চলছে। গ্রেডিং কমিয়ে দিয়ে বেতন কম দেওয়ার চেষ্টা চলছে।নতুন করে তালিকা করে শ্রমিকদেরকে ছাটাই করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে মালিকপক্ষ বেতন দিচ্ছে না শ্রমিকদের। এমতবস্থায় একটা সুষ্ঠু সমাধানের প্রয়োজন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md.Al- Mamun ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    বেতন বাড়ানো হয়েছে ঠিক অশুভংকরের ফাকির মতো! শুধু হেল্পার অপাটার ছাড়া আর কেউ লাভবান হয় নি।তাই এদের ইন্ধন দেয়ার জন্য স্টাফ রাই যতেষ্ট। পোশাক শ্রমিক কি শুধু হেলপার অপাটার? এদেরকে যারা পরিচালনা (সুপার ভাইজার -লাইন চিপ এভাবে আরো অনেক আছে) করে তারা কি পোশাক শ্রমিক না? বেতন বাড়ল বেসিক কুমালো কি হাস্যকর ব্যাপার!!
    Total Reply(0) Reply
  • Adison Mollick ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    রাস্তায় শ্রমিক কেন? কারো মাথা ব্যথা নাই। কেন তারা রাস্তায় তাদের ব্যথা কি কেউ বুঝতে চাবে না। তবে মাধা ব্যথা আছে রাস্তায় শ্রমিক থকালে যেমণ: ১. রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। জনগনের চলাচলের অসুবিধা হবে। প্রশাসন ঠিক ভুমিকা রাখতে পারছেনা। সরকারের চাপ আসবে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি। ২ কোম্পানী বন্ধ থাকলে কোম্পানীর ক্ষতি হবে। ব্যবসা বন্ধ হবে। মালিক ক্ষতি গ্রস্ত হবে। মালিকের স্ত্রীরা বিউটি পারলারে গিয়ে ১০০০০ টাকা খরচ করতে পারবে না একদিনে। পাজারো গাড়ি চড়তে পারবে না। এই বিষয় নিযে অনেক মাধা ব্যথা । কিন্তু মাধা ব্যথা নেই যে শ্রমিক যে ঘরে থাকে সেটা স্খাস্থ্য সম্মত নয়। যে খাবার খায় তাও পুষ্টিকর নয়। তারা যে জীবন নিয়ে প্রতি দিন যুদ্ধ করছে তা ভাবার কেই নাই
    Total Reply(0) Reply
  • আন্দালিব ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    গার্মেণ্টস মালিকরা নিজেদের অগাধ বিলাস ব্যাসনের কিছুটা কমিয়ে কি রক্ত পানি করা এই গরীব শ্রমিকদের প্রতি একটু সদয় হতে পারেন না?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পোশাক শ্রমিক

২২ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ