Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪

পুনঃনির্বাচনের দাবি অযৌক্তিক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পুনরায় নির্বাচনের দাবি মোটেও সাংবিধানিক নয় এবং এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক। জনগণ ভোট দিয়েছে তাই জনগণকে এভাবে অসম্মান করার কোনও অধিকার ঐক্যফ্রন্টের নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সাবেক পরিচালক জাফরোল হাসানের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নারী শিক্ষা নিয়ে আল্লামা শফীর দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গতবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এটি ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। শফী সাহেব একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তাঁকে শ্রদ্ধাভরে বলতে চাই, তার এসব উক্তি দেশে যে ইতিবাচক উন্নয়ন হচ্ছে তার বিপরীতে যাবে। তাই এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করলে ভালো হবে।
তিনি বলেন, আল্লামা শফী যা বলেছেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। ব্যক্তিগত অভিমত যার যার থাকতেই পারে। কিন্তু তাঁর এসব বক্তব্য বর্তমান সরকারের দেশ পরিচালনায় বা নীতির কোন পরিবর্তন আনবে না। শেখ হাসিনার সরকার নারী অধিকারের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেটা আরও দৃঢ় হবে এবং আরও এগিয়ে যাবে। এটাই এই সরকারের নীতি ও বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দিতে না পারলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কোন মূল্য থাকবে না। তাই আইনি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য সংস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থার অধীন লিগ্যাল এইড অফিসারের সকল শূণ্যপদ পূরণ করা হবে। জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এক্ষেত্রে টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচারকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এসময় তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই সাক্ষ্য আইন এবং বৈষম্য বিরোধ আইন উত্থাপনের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিকাশ কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব গোলাম সারওয়ার, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইনমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন

মার্শাল আর্টে দেশসেরা কুরআনে হাফেজ নাসির

img_img-1660499623

তিনি পবিত্র কোরআনের হাফেজ। হেফজ শেষ করে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে। পড়াশোনার পাশাপাশি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাফেজ মোহাম্মদ আলীমুজ্জামান নাসির আগ্রহী ছিলেন শরীরচর্চায়। মার্শাল আর্ট ভালো লাগত তাঁর। মাদরাসার ছাত্র হয়ে মার্শাল আর্ট পছন্দ করার কথা বলতে পারছিলেন না কাউকেই। সাহস করে একদিন বড় ভাইকে কথাটা জানালে ভাই তাকে সমর্থন দেন। বড় ভাইয়ের চেষ্টায় ২০১৭ সালের দিকে ঢাকায় মেজবাহ আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হন নাসির। সেখানে এস এম মেজবাহ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন কঠোর অনুশীলন। নাসিরের প্রতিভা দেখে মেজবাহ উদ্দীন তাঁকে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেন। সে ম্যাচটি হারেন নাসির। এরপর তাঁকে হারাতে পেরেছেন খুব কম খেলোয়াড়। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে এখন তিনি মার্শাল আর্টে দেশসেরা। গত ৫ থেকে ৮ আগস্ট চার দিনব্যাপী ঢাকার পুরানা পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশন শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল স্মৃতি জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এতে গোপালগঞ্জ স্পোর্টি ক্লাব, ঢাকা ক্রীড়া সংস্থা, নরসিংদী ক্রীড়া সংস্থা, বরিশাল ক্রীড়া সংস্থা, নোয়াখালী ক্রীড়া সংস্থা, গাজীপুর ক্রীড়া সংস্থা ও রংপুর ক্রীড়া সংস্থার ৬০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সবাইকে পেছনে ফেলে দেশসেরা হন নাসির। গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে চারটি সোনা, পাঁচটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের কিশোরগঞ্জের নেহাল পার্কে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় কুংফু প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি জেলার ৬৫ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক পান নাসির। এরপর গত মার্চে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় তাইচি কুংফু প্রতিযোগিতায় ১৮টি জেলার ২০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হন তিনি। নিজের সাফল্যের মূল কৃতিত্ব পরিবারকেই দিলেন নাসির। বললেন, এই কৃতিত্বের পেছনে আমার বাবার অবদান অনেক। বাবা সব সময় আমাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার বড় ভাইও আমাকে নানা ধরনের সহযোগিতা করেছেন। মেজবাহ স্যার নিজের ছেলের মতো আমাকে গড়ে তুলেছেন। তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। নাসির আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য মার্শাল আর্ট শেখা খুবই জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখা, মনোবল বাড়ানো, আত্মরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ জন্যই আমি মার্শাল আর্ট পছন্দ করতাম। কিন্তু জাতীয় প্রতিযোগিতায় এত বেশি পদক পাব, কখনো ভাবিনি। নাসিরের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী খোকন। বলেন, ছেলেটা আমাদের খায়েরহাট গ্রাম আর পুরো গোপালগঞ্জ জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এ জন্য আমি এবং আমার ইউনিয়নবাসী আনন্দিত ও গর্বিত। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে কুরআনে হাফেজ নাসির।  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ