Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

হাসিনা এমন নির্বাচন না করলেও পারতেন

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

টানা প্রায় ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিস্ময়কর কাজ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম ও সবচেয়ে কম উন্নত দেশের অন্যতম এ দেশটিতে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা প্রায় ১৫০ ভাগ। চরম দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষের হার শতকরা ১৯ ভাগ থেকে কমে এসেছে প্রায় ৯ ভাগে। তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো- সরাসরি কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে ঝুঁকে যাওয়া ও এমন একটি নির্বাচন, যাতে শেখ হাসিনার দল জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই জয় পেয়েছে। শতকরা ৯৬ ভাগ জয় পাওয়া এক অসম্ভব ব্যাপার। এসব তার অর্জনকে খর্ব করেছে।
৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের কয়েক মাস ও সপ্তাহ আগে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বিরোধী দলগুলোকে ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা থেকে শুরু করে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের গ্রেফতার, তাদের সমর্থকদের ওপর নজরদারি ও বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিষ্ঠুর ব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ‘আগ্রাসী অথবা ভীতিকর’ কোনো উপাদান পোস্ট করা হলে জেলের বিধান রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ জন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার এক রিপোর্টে বর্ণনা করেছে বিচার ব্যবস্থা (ইনটিমিডেটেড জুডিশিয়ারি) অথবা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ নেই এমন “একটি আতঙ্কের পরিবেশ নিয়ে। এমন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজমান সমাজের উচ্চকিত কণ্ঠ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত”।
ডিসেম্বরে দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যত সর্বত্র স্বৈরতন্ত্রের বিভ্রান্তি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন, একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ হলো একটি প্রান্তিক (পেরিফেরাল) বিষয়। তিনি বলেছেন, ‘যদি আমি খাদ্য, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারি সেটাই হলো মানবাধিকার। বিরোধীরা বা নাগরিক সমাজ অথবা আপনার এনজিওরা যা বলছে- তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি আমার দেশকে জানি এবং আমি জানি কিভাবে আমার দেশের উন্নতি করতে হয়।’
শেখ হাসিনার বয়স এখন ৭১ বছর। তিনি তার দেশকে জানেন- এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। তাকে ১৯৭৫ সালে যখন হত্যা করা হয় তখন হাসিনা ছিলেন দেশের বাইরে। ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিতে। তারপর থেকে তিনি এর নেতৃত্বেই আছেন। তার দল এবং আরেকজন শক্তিধর নারী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রতিবাদ করে ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এর ফলে শেখ হাসিনাকে একটি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নতুন ক্ষমতার মেয়াদ দেয়া হয়। গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে জেল দেয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। শেখ হাসিনা আরো এক দফায় ক্ষমতায় ফিরেছেন, যা এরই মধ্যে কার্যত একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে প্রস্তুত তারা।
কিন্তু কেন? যখন জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিয়েছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও শেখ হাসিনা ভালোভাবে বিজয়ী হবেন তাহলে কেন অপ্রয়োজনীয় নির্বাচনী ফল তৈরি করা হলো? এখন শেখ হাসিনার কতৃত্ববাদী পদ্ধতি (অথরিটারিয়ান মেথড) ও নিস্পেষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ কলঙ্কিত করবে তার প্রতিটি অর্জনকে। তার সমালোচক, যারা নির্বাসনে গেছেন অথবা আন্ডারগ্রাউন্ডে গেছেন, তারা শুধু আরো বেশি কঠোর হয়ে উঠবেন। তার বিদেশি সমর্থক যারা আছেন তারাও আরো সতর্ক হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সবচেয়ে বড় সিঙ্গেল-কান্ট্রি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং একই সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি। যেসব সহিংসতা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল, যা প্রচারণা ও ভোটকে কলঙ্কিত করেছে, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য একই রকমভাবে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত গতিবিধি বলে দেয়, এমন মৃদু ভর্ৎসনায় তিনি পাল্টে যাবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের নেতারা ব্যবসা করছেন এবং এ দেশে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য উল্লসিত, শেখ হাসিনাকেও তার মিত্রদের তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত, মানবাধিকার বহির্জাগতিক কোনো আরোপিত সংস্কৃতি নয়। এটা হলো উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
(যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সম্পাদকীয়র অনুবাদ)

 



 

Show all comments
  • Sajid Ahmed Alamin ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫০ এএম says : 0
    ছোট বেলায় যখন বাংলা মুভি দেখতাম তখন মনে করতাম রিনাখানই বড় শয়তান।এখন দেখি না?? ওটা মুভি ছিল আসল শয়তান তো দেশের মানুষকে জালিয়ে খাচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Nur Mostafa Sumon ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫১ এএম says : 0
    অতবড় জয়ের কারণ তো ৩ টি! প্রথম কারণ,রাত! দ্বিতীয় কারণ,ডাকাত!! তৃতীয় কারণ,বিভিন্ন বাহিনীর হাত!!!
    Total Reply(1) Reply
    • MUSA ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ৮:২৮ এএম says : 0
      sob e fols
  • Sumon Ahmed ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫১ এএম says : 0
    বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন স্বচ্ছ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে বলে মনে হয় না। নির্বাচনের দিন কখনো মনে হচ্ছিল নৌকা জিতবে আবার একটু পরই মনে হচ্ছিল আওয়ামী লীগ জিতবে ।
    Total Reply(0) Reply
  • Shiria Shova ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫২ এএম says : 0
    ৩০ তারিখ নির্বাচন ছিল না, লীগদের Rag day ছিল
    Total Reply(0) Reply
  • Chowdhory Jashim ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫২ এএম says : 0
    পৃথিবীর সব দেশে এরকম নির্বাচন দরকার রাত্রে ভোট হবে দিনে শুধু গননা,কোন দেশে যদি সন্বব না হয় তাহলে আমাদের দেশ থেকে নুরুল হুদাকে নিয়ে যাবেন,তারপর দেখবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Alam ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫২ এএম says : 0
    আওয়ামিলীগ বিছার মানি কিন্তু তালগাছ আমার? ইলেকশন এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন সুস্থ নির্বাচন উপহার দিবেন? কিন্তু এমন‌ নির্বাচন হয়েছে এটা ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে? ইলেকসান‌ ছিল ৩০ তারিখ ভোট ডাকাতি হয়েছে ২৯ তারিখ রাতে?
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rahman ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৩ এএম says : 0
    আমিও একমত, এমন নির্বাচনের কোন দরকার ছিলনা,! বললেই পারতেন আমার বাবার দেশ, যা ইচ্ছা করবো, কিছু বললেই জামাত, বিএনপি, জঙ্গি, শুধু চেতনা আওলারাই কথা বলতে পারবে, আর সবাই রাজাকার ।
    Total Reply(0) Reply
  • Nazrul Islam ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৩ এএম says : 0
    কোটি কোটি টাকা নিরবাচনের নামে জনগনের টাকা খরচ না করে আওয়ামী আবার ক্ষমতায় এই ঘোষণা দিলেই হত।
    Total Reply(0) Reply
  • Selina Yesmin Shelly ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৩ এএম says : 0
    ভাই। এই ঢিলে কথায় চিড়া ভিজবে না। প্রতি মূহুর্তে ভয় নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। পারলে ভোট ডাকাতদের কবল থেকে উদ্ধার করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Ronok Mahmud ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৪ এএম says : 2
    বাংলাদেশের জনগণ যদি এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহলে অবশ্যই তারা রাজপথে নেমে আন্দোলন করতো.. সরকারের পতন চাইতো.. কই তা তো দেখি না.. সবার মুখে একই কথা দেশের উন্নয়ন চাই দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ চাই... উন্নয়নের জোয়ার বইছে বাংলাদেশে এই জোয়ার বয়ে চলবে
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Golam Kibria ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৪ এএম says : 0
    নির্বাচন কমিশনকে অবস্যই প্রকাশ্যে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন কেননা তারা চোখ থাকিতে অন্ধত্ব বরন করে রাস্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় সহায়তা করেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mizanur Rahman Himel ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:৫৪ এএম says : 0
    ৩০ তারিখ দিন সাড়া দিব নৌকায় ভোট দিন। তাই হয়েছে আর এটা তো হওয়ার কথাই ছিল.......যে দেশের সরকার দলের লোক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সে দেশে আবার আমাদের মত আম- জনতার ভোট লাগে নাকি.....? যা করার প্রশাসন আর সরকারি তো করেছে..... শুধু দুঃখ একটাই ভোট টা দিতে পারলাম না........
    Total Reply(0) Reply
  • Shaukaut ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ৪:২৮ এএম says : 0
    Shobai gane jodí gire banglar unnoyon thik thakbe tai América birup chintaylagche kivhabe take tarde unnoyonke kuloshito kora hay.kintu sharabissho jane ekhon 71 shal no y ekhon shobai Hasinar shathe caché karon ekhon bangalira área pichiee thakte hay na.
    Total Reply(0) Reply
  • Jashim Uddin ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ৭:১৮ এএম says : 0
    কিছুদিন আগে নসিম হিজাজির লেখা "কিং সাইমনের রাজত্ব" বইটি পড়ে ছিলাম যাতে এমনটাই লেখা আচে
    Total Reply(0) Reply
  • miraj ২১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:১০ পিএম says : 0
    Thnks doinik inqilab .such venture for news..
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন