Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদন বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখান করছি।
গতকাল বুধবার বন্দরনগরীর দেওয়ানবাজারে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, এটি বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে একটি প্রতিবেদন। নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য-গবেষণার কথা বলে টিআইবি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে তাদের আর বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে কোনো অমিল নেই। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র। মন্ত্রী টিআইবি’র অতীতে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, বেশিরভাগ প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ত্রুটিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। টিআইবি’র বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে টিআইবির গ্রহণযোগ্যতা এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণ চাইলে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরা মনে করি বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন সংস্থা থাকা প্রয়োজন যেগুলো বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করে। আশা করি টিআইবি তাদের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সব সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট অপেক্ষাকৃত অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এ নির্বাচন দেশে-বিদেশে সর্বক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছে। যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য এসেছিলেন তারা এ নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র নির্বাচনের পর বিজয়ী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন জোট ও আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এমনকি পাকিস্তানও অভিনন্দন জানিয়েছে। অথচ টিআইবি গবেষণার কথা বলে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, ইতিপূর্বে বিএনপি যে বক্তব্য রেখেছিল সেটির সঙ্গে বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে সেটির সঙ্গে টিআইবির এই প্রতিবেদনের কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
টিআইবি সবসময় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে এবং বলে তাদের গবেষণা প্রসূত প্রতিবেদন। তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখতে পেয়েছি, তারা যে গবেষণার কথা বলে, সে গবেষণাগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো সঠিক গবেষণা নয়। এর আগে টিআইবি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সে প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক কানাডার আদালতে মামলা করে হেরে যায়। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির কল্পকাহিনী সাজানোর জন্য তাদের উচিৎ ছিল জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। উচিৎ ছিল এ ধরনের মনগড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা, যেটি তারা করেনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে ৮০০ প্রার্থীকে ৩০০ আসনে মনোয়ন দিয়েছে। বিএনপির এ মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদনে কোন বক্তব্য নাই। এ নির্বাচন যে অপেক্ষকৃত শান্তিপূর্ণ হয়েছে সে বিষয়টিও টিআইবি’র প্রতিবেদনে নাই। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মী খুনের বিষয়টিও টিআইবি’র প্রতিবেদনে আসেনি। এতে প্রমাণ হয় প্রতিবেদনটি একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। টিআইবিকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না করে উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ