Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন

প্রত্যাখ্যান সিইসির ঢাকা উত্তরের নির্বাচন মার্চে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। একই সাথে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ায় আগামী মার্চ মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিইসি।
গতকাল বুধবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) সাংবাদিকরা টিআইবির গবেষণার রিপোর্ট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আপনারা কেবল পত্রপত্রিকার ওপর নির্ভর করেছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এনকোয়ারি কমিটিসহ সবার কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। এ ধরনের অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। টিআইবি বলেছে– নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল লজ্জাকর? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অসৌজন্যমূলক মন্তব্য। এ ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা ছিল লজ্জাজনক টিআইবির এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অসৌজন্যমূলক বক্তব্য। লজ্জাজনকর এ কথাগুলো বলা ঠিক হয়নি। টিআইবির এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, গণমাধ্যম, আমাদের কর্মকর্তা, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। এমন হয়নি। টিআইবি যেরকম বলেছে তার সত্যতা নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসনে গবেষণা করে তার মধ্যে ভোটের আগের রাতে ৩৩টি আসনের এক বা একাধিক কেন্দ্রে সিল মেরে রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। সিইসি আরো বলেন, মার্চে শুরু হওয়া উপজেলা পরিষদের মাঝেই এ নির্বাচন করা হবে। তবে এ বিষয়ে কমিশনে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে পুন:তফসিল করা হবে। বসতে হবে সবার সঙ্গে। তাড়াতাড়ি করে ফেলবো। উপজেলা নির্বাচন প্রভাব ফেলবে না। এর মাঝখানেই করে ফেলব। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিয়ে মার্চের প্রথম থেকে পাঁচ ধাপে উপজেলা নির্বাচন করা হবে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি ডিএনসিসি (নতুন ১৮টি ওয়ার্ডেসহ) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওপর স্থগিতাদেশ দেন আদালত।
একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন, ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া আসনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাথে এবার নতুন করে যুক্ত হলো উচ্চ আদালতের রায়ে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়দ পদে উপ-নির্বাচন। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া এই পদটিতে নির্বাচন কমিশন ভোটের তফসিল ঘোষণার পর সিটির সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে করা রুল খারিজ করে হাইকোর্ট খারিজ দেয়ায় নতুন করে ভোট আয়োজনে আর কোনো বাঁধা নেই বলেই মনে করছেন ইসি সংশ্লিষ্টরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সহ ইসির দায়িত্বশীলরা কেউ বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও রিট খারিজের রায়ের পর গতকাল বুধবার বিকেলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। রায়ের কপি ইসিতে আসার পর এবিষয়ে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ধার্য্য রেখে তফসিল দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ওই তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তফসিলের কার্যকরিতার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তাদের আবেদনের ওপর শুনানি করে গতবছর ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাই কোর্ট বেঞ্চ নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। ওই নির্বাচনের তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়। হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে গেলে সেখানে হাই কোর্টের দেয়া রুল ‘দ্রুত নিষ্পত্তির’ আদেশ আসে। পরে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার বিষয়টি রুল শুনানির জন্য বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চে ওঠে। কিন্তু রিটকারী বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কেউ আদালতে না থাকায় আদালত রুল খারিজ করে দেয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষে আদালতে উপস্থিত আইনজীবী কাজী মাইনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন হতে আইনগত কোনো বাধা এখন নেই। তবে বাদীপক্ষ চাইলে রুলটি আবার পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারে। এ বিষয়ে বাদীপক্ষ ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভুঁইয়া বলেন, তার মক্কেল এই রিট চালাতে আর আগ্রহী নন। সে কারণে এনিয়ে আর এগুনো হয়নি। রিটকারীর অনাগ্রহের কারণেই আদালত ডিসচার্জ অব ডিফেন্স (ডিডি) অর্ডার দিয়েছে। ফলে নির্বাচন পরিচালনার জন্য আর কোনো বাধা থাকছে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ধার্য্য রাখা হয়েছিল। মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিন ছিল ১৮ জানুয়ারি, প্রত্যাহার ১৯ জানুয়ারি, যাচাই-বাছাই ২১-২২ জানুয়ারি ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ জানুয়ারি ধার্য্য করা হয়েছিল।



 

Show all comments
  • Mahamud ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ৯:২২ পিএম says : 0
    Cieysi is a rabish and protarok pa chata dalal o kutta
    Total Reply(0) Reply
  • miraj ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০:২৭ এএম says : 0
    nirbachon comision is a ..... . ..... for the bangladesh......
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ