Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

৩০ ডিসেম্বর তামাশা হয়েছে, নির্বাচন হয়নি

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

৩০ ডিসেম্বর দেশে কোন নির্বাচন হয়নি বরং নির্বাচনের নামে তামাশা, প্রহসন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিজেরা প্রত্যক্ষ করেছে তারা দেখেছে যে, এটা নির্বাচন হয়নি, এটা তামাশা হয়েছে, প্রহসন হয়েছে এবং এই প্রহসনটা একটা নিষ্ঠুর প্রহসন। ক্রুয়েল মোকারি যে মানুষের লিগ্যালিটিকে হত্যা করা। গতকাল (বুধবার) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মরহুম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জনগণের ভোটাধিকার হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রত্যাখান করেছে। এটা আওয়ামী লীগ কেনো করলো অনেকেই এই প্রশ্ন করেছেন? তারা বলেন- গত ১০ বছর বছর ধরে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, যেভাবে খুশি দেশ পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষায় উন্নয়ন হয়েছে। তাহলে নির্বাচনে এভাবে সমস্ত জনগণকে বঞ্চিত করে তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজনটা কি ছিলো?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা যেটা করেছে এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা এদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলের একটি। তাদের একটা অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে, সেই অতীত হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের অতীত, স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার অতীত এবং সবসময়ে সামনে থাকবার একটা অতীত রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনের ফলে আওয়ামী লীগের জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। আজকে আমার মনে হয় না এমনকি আওয়ামী লীগের যারা সমর্থক তারাও পর্যন্ত বলেছেন আমি আমার ভোটটা দিতে পারলাম না কেনো? কারণ তারা ভোট দিতে পারেনি। এটা সমগ্র দেশের চিত্র। আওয়ামী লীগের স্বভাবজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট তারাই হচ্ছে মালিক আর জনগণ হচ্ছে তাদের প্রজা। সেকারণে কখনোই তারা জনগণের অধিকারকে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।
ঐক্যের কোন বিকল্প নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ভোটবিহীন সরকারকে পরাজিত করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের সেতুবন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি কথা আপনাদেরকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা যে কথাই মনে করুন না কেনো ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। ২০ দলীয় জোট যখন গঠন হয় তখন একই কথা ছিলো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যখন গঠন হয় তখন এই একই প্রশ্ন এসছে। ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে সেতুবন্ধন সেটাই বিএনপি তৈরি করেছে। সেটার অবশ্যই ঐতিহাসিকভাবে প্রয়োজন ছিলো এবং প্রয়োজন আছে। আমরা মনে করি এখন আরো বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে, সেই দায়িত্ব হচ্ছে কোনো মতেই হতাশার কোনো জন্ম না হয় তার জন্য সজাগ থাকা এবং প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে সচেতনভাবে জাতীয় ঐক্যকে আরো বেশি দৃঢ় করা। কেউ যদি মনে করে থাকেন যে, একা বা এককভাবে ভয়াবহ দানবের সঙ্গে সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক বিজয় লাভ করবেন, তাহলে আমার সোজা কথা তিনি সঠিক সত্যটা উপলব্ধি করতে পারছেন না। এটাই বাস্তবতা। আজকে ভয়াবহ দানবের সঙ্গে যারা আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধবংস করে দিচ্ছে, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে ধবংস করেছে, গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধবংস করেছে তাদের পরাজিত করতে হলে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সেই জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়ে আপনাকে সেই বিজয় অর্জন করতে হবে। ঐক্যের বিষয় বিভিন্ন প্রশ্নের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেক প্রশ্ন আছে। রাজনীতি করলে প্রশ্ন থাকবে। প্রশ্ন থাকলে তো রাজনীতি হবে না। রাজনীতির চর্চার প্রয়োজন আছে। কোন পরিস্থিতিতে কোন পর্যায়ে কোন উদ্যোগ সঠিক কি বেঠিক সেই বিষয়ে আলোচনা আছে। সেই আলোচনাগুলোর জন্য ফোরাম রয়েছে। আমরা আশা করবো যে, সেসব ফোরামগুলোতে বিষয়গুলো সঠিকভাবে আলোচনা হবে।
নতুন প্রজন্মের প্রতি প্রত্যাশা রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বন্ধুগণ হতাশ হবেন না। আমি জানি আমাদের অনেকের বয়স হয়ে গেছে, সত্তর উর্ধব বয়স অনেকের। আর বোধ হয় কিছুই হবে না। অবশ্যই হবে। হতাশাই তো শেষ কথা হতে পারে না। কারণ আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে, আমাদের সামনে নতুন প্রজন্ম আছে। তাদের সামনে বিরাট ভবিষ্যত আছে। তারা আরো বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হবে, আরো বেশি করে দেশ তারা ভালোবাসবে। দেশকে ভালোবেসে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমি একটা কথা প্রায়ই বলি- এটাকে আমার যেন একটা দর্শন মনে হয়। রবি ঠাকুরের ‘দুরন্ত আশা’ কবিতার শেষের দুইটি ছত্র প্রায় মনে হয়। যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ-মন্থরে, সব সঙ্গীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া। তবু বিহঙ্গ ওরে বিহঙ্গ মোর এখনই অন্ধ, বন্ধ করো না পাখা- এটাই হচ্ছে মূল কথা। পাখা বন্ধ করবেন না। এগিয়ে যাবেন। সূর্য উদয় হবেই। সামনের যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সেটা আপনার, আপনাদের।
জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এসএমএম শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এএসএমএস আলম, নওয়াব আলী আব্বাস খান, শফি উদ্দিন ভুঁইয়া, মাওলানা রুহুল আমিন, সেলিম মাস্টার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন সরকার, কাজী মো. নজরুল, ভাসানী স্মৃতি ফোরামের কামরুল হুদা ও মরহুম নেতার মেজ ছেলে মইনুল রাব্বি চৌধুরী প্রমূখ।
সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম কাজী জাফর আহমদ ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।



 

Show all comments
  • Kamal Uddin ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৪৪ এএম says : 0
    ১০০%সত্য জনগনের ভোটগনের ভোটের অধিকার পূর্নপ্রতিষ্ঠা করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে পূর্ননির্বাচন দিয়ে দেশের জনগনকে তাদের মত প্রকাশের অধিকার ফিরিয়ে দিন
    Total Reply(0) Reply
  • Rafique ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৩৫ এএম says : 0
    যারা বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বার ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নিবা'চন স্বচোক্ষে দেখেছেন তাদের জীবনে আর কখনো নাটক বা সিনেমার আভিনয় দেখার প্রয়োজন নাই
    Total Reply(0) Reply
  • পারভেজ হোসেন ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:২৬ এএম says : 0
    গণতন্ত্র মুক্তি পাক সৈরাচার নিপাত যাক । ভোট চোরের বিচার চাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই ..
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rashid ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:২৪ এএম says : 0
    যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ও রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হলো বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। আসল কথা হলো ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ‘নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে’, আর যারা নিজেদের সরকার বলে দাবি করছে তারা ‘অবৈধ’।
    Total Reply(1) Reply
  • Ismail Hossain ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৪৬ এএম says : 0
    আর আপনারা বসে বসে সেই তামাশা উপভোগ করেছেন। তের দিন পরে ১৪ জন নিয়ে এক বিশাল মিছিল করলেন
    Total Reply(0) Reply
  • Eakub Sharif ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৪৭ এএম says : 0
    ৩০ ডিসেম্বর তামাশা দিবস পালন করুম
    Total Reply(0) Reply
  • Nahid hasan ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ৫:৩৬ পিএম says : 0
    নির্বাচন তো ভালই হয়নি এটা সবাই জানে, আর কতই এসব প্যাচাল পারবেন এখন এসব প্যাচাল বন্ধ করে দেশের জন্য কিছু করেন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ