Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

তিন বছর পর টঙ্গী থেকে আরও একজন গ্রেফতার

জুলহাস-তনয় হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে আসাদুল্লাহ (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার আসাদুল্লাহ সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছিল। প্রায় তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসায় জুলহাস ও তনয় হত্যার শিকার হয়েছিলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকান্ডের পরপরই নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল-ইসলাম দায় স্বীকার করেছিল। প্রথমে ডিবি মামলাটি তদন্ত করে। পরবর্তীতে সিটিটিসি তদন্তে নেমে হত্যার বিস্তারিত রহস্য উদঘাটন করে। মনিরুল বলেন, হত্যাকান্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে ১৩ জন সম্পৃক্ত ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল সাতজন। যার মধ্যে পাঁচজন কিলার গ্রুপের ও বাকি দু’জন ছিল ইন্টেলিজেন্সের। গ্রেফতার চারজনের মধ্যে আসাদুল্লাহ ও আরাফাত কিলার গ্রুপের আর ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের হলো যাবের ওরফে জুবায়ের ও সায়মন। ঘটনার দিন তারা টঙ্গী থেকে ঢাকায় এসে হত্যা মিশনে অংশ নেয়।
মনিরুল বলেন, আসাদুল্লাহর বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক শেষ করে যশোর পলিটেকনিকে পড়াশুনা করে। তারা বাবাও জামায়াতের নেতা ছিলেন। আনসার আল-ইসলামে যোগ দেওয়ার পর আসাদুল্লাহ সামরিক শাখার দাওরা প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিল। সে বাড্ডা, আশকোনা, গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় আস্তানা তৈরি, বাসা ভাড়া নেয়ার পদ্ধতি, নিরাপত্তার বিষয়, ডে-অ্যাম্বুশ, সম্মানজনক মৃত্যু, চাপাতি চালানো, পিস্তল চালানো, টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করার এলাকা রেকি এবং হত্যার সময় ও স্থান নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এর আগে ২০১৬ সালে উত্তর বাড্ডার সাতারকুলে পুলিশকে হামলা করে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল আসাদুল্লাহ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের আছিয়া নিবাস ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাতেই জুলহাসের ভাই মিনহাজ মান্নানের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মার্কিন রাষ্ট্রদূত


আরও
আরও পড়ুন