Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

সঞ্চয়পত্রে টিন-এনআইডি বাধ্যতামূলক হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়কর সনদ (টিআইএন) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বন্ধে এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। শিগগিরই নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক শামসুন্নাহার বেগম বলেন, সঞ্চয়পত্র খাতে টিআইএন অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। শিগগিরই এনবিআরের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি করা হবে। তিনি বলেন, কোন শ্রেণির ব্যক্তিরা সঞ্চয়পত্র কিনছেন, সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সঞ্চয় অধিদফতর কোনও গবেষণা করেনি। ফলে সমাজের কারা বা কোন শ্রেণির ব্যক্তিরা সঞ্চয়পত্র বেশি কিনছেন, তারও হিসাব নেই। তবে ১৮ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশের যেকোনও সুস্থ নাগরিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন বলেও জানিয়েছেন সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক শামসুন্নাহার বেগম।
এদিকে সম্প্রতি সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকে সঞ্চয়পত্র খাতে টিআইএন সনদ ও এনআইডি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু সঞ্চয়পত্রের ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, সেহেতু এর সঙ্গে টিআইএন লিঙ্ক যুক্ত করার সুযোগও থাকবে।
তিনি বলেন, টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করলে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও সরকারের রাজস্ব বাড়বে। আবার সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তাও কমে আসবে।
ধারণা করা হচ্ছে, কালো টাকার একটা বড় অংশ সঞ্চয়পত্র খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। এতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মূলত সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার নিম্ন-মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলো চালু করে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো-পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং তিন বছর মেয়াদি ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি।



 

Show all comments
  • Moshiur Rahman ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৮ এএম says : 0
    যারা সঞ্চয় পত্র কিনতে চায় বা কিনবে তাদের কে এনআইডি ও টিআইএন নম্বর দিতে হবে। আগে লাগতো না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Saiful Islam Rashel ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
    এন আই ডি আগে লাগতো, টিন নতুন
    Total Reply(0) Reply
  • Jihan Emon ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
    লাভের উপর ট্যাক্স কেটে রেখে তারপর বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়,টিন লাগার কারনটা আমিও ক্লিয়ার না, হয়তো ভেরিফাই করতে চাচ্ছে ট্যাক্সপেয়ার কিনা, আর যদি বার্ষিক আয়কর রির্টানে এই বাবদ আবার ট্যাক্স কাটে তাহলেতো একই টাকার দুইবার করে ট্যাক্স দেয়া হয়ে যাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Saiful Islam Rashel ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
    সরকার লভ্যাংশ হতে আগেই ট্যাক্স কর্তন করতো। নতুন করে টিন দিতে হবে কিনা তা সার্কুলার দেখলে বুঝা যাবে। তবে এটা হলে ক্রয় এর লিমিট এর অতিক্রম ঠেকানো সম্ভব হবে
    Total Reply(0) Reply
  • Shirin Sharmin ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    অামার প্রশ্ন হচ্ছে,এক্ষেত্রে কি টেক্স দিতে হতো না? অার অাগে যারা করেছে,তারাও কি TIN যুক্ত করবে এবং ট্যাক্স দিবে? অাপনি যেটুকু বলেছেন ওটুকু অামিও বুঝি৷
    Total Reply(0) Reply
  • Moshiur Rahman ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
    বার্ষিক ইনকাম ট্যাক্স বিবরনীতে উল্লেখ না করে অনেকেই কর ফাঁকি দিতেন। পরবর্তী বিবরনীতে সেটা উল্লেখ করতে হবে। মুলত অপ্রদর্শিত অর্থের (কালো টাকা) বিনিয়োগ বম্দে এই পদক্ষেপ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ