Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

ইউরোপের গবেষকদের ভুল ধারণা

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

পাশ্চাত্যের গবেষকদের লেখা, বক্তৃতা ও দলিল-দস্তাবেজ পর্যালোচনা করলে যে চিত্রটি চোখের সামনে ভেসে উঠে তা হলো এই যে, তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে-খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম পৈঠায় আরব তথা বহির্বিশ্বে ইসলামের দ্রুত প্রচার ও বিকাশের মুখ্য কারণ ছিল এই যে, তাতে আরবের অধিবাসীদের খাহেশাতে নফসানী পরিপূরণের যাবতীয় উপায়-উপকরণ মওজুদ ছিল। পূর্ব থেকেই আরবরা ছিল যুদ্ধ-বিগ্রহ, লুটতরাজ ও ঝগড়াপ্রিয় জাতি। ইসলাম এ সকল কর্মকাণ্ডকে জিহাদ এবং গণিমতের আকারে পরিবর্তন করে দিয়েছিল। আরবরা ছিল জৈবিক চাহিদা ও যৌনক্ষুধা পরিপূরণ ও নিবারণের জন্য খুবই আগ্রহী এবং পাগলপ্রায়। ইসলাম তাদেরকে চারজন স্ত্রী গ্রহণ এবং অগণিত দাসী-বাঁদি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আরবদের মাঝে দুনিয়ার সাথে সম্পর্কহীনতা মূলত মনোবৃত্তি পোষণ করার অভাব ছিল না।
এরপরও ইসলাম রুহবানিয়াত বা বৈরাগ্য প্রথাকে নিকৃষ্ট বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, ‘লা রুহবানিয়তা ফিল ইসলাম।’ অর্থাৎ ইসলামে বৈরাগ্য বলতে কিছুই নেই। সুতরাং এহেন অবস্থায় আরবদের সামনে জীবন-জিজ্ঞাসার কী উপাদান অবশিষ্ট ছিল, যা তাদেরকে ইসলামগ্রহণ হতে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে? ফলে, যা হওয়ার তাই হয়েছে। আরবরা এবং তাদের দোসররা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং একটি পৃথক শক্তির রূপ পরিগ্রহ করেছে।
কিন্তু তাদের এ ধারণা সর্বতোভাবে ভুল এবং নিরর্থক ও বিদ্বেষপ্রসূত। ইসলামে জিহাদ এবং স্ত্রীদের সংখ্যা নির্ণয় ও দাস-দাসীদের সঙ্গে আচার-ব্যবহার প্রসঙ্গে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, ইসলাম জিহাদ অথবা স্ত্রীদের সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত যে বিধান কায়েম করেছে, তা প্রাচীন অন্ধকার যুগের বল্গাহীন জীবনযাত্রাকে পবিত্র ও নির্মল করতে সক্ষম হয়েছে। জিহাদ শুধুমাত্র আক্রান্ত হলে কাফিরদের বিরুদ্ধেই বৈধ করা হয়েছিল। অন্যথায় অকারণে রক্ত ঝরানোর অনুমতি ইসলামে নেই।
মনে করুন, একটি গোত্র ইসলামগ্রহণ করেছে। তারপর কোনো মুসলিম সেই গোত্রের প্রতি হাতিয়ার উঠাতে পারত না। এমন কি তাদের ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের প্রতিও হস্ত সম্প্রসারণ করতে পারত না। ইসলামের এই বিধি-বিধান তাদের নির্মল জীবন যাত্রার দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং পূর্ববর্তী উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাত্রার পথকে চিরতরে রুদ্ধ করেছে।
ইসলামপূর্ব যুগে আরবদের মাঝে একক ও অভিন্ন ধর্মাদর্শের কোনো প্রতিচ্ছায়া বা নমুনা বিদ্যমান ছিল না। সকল গোত্রই ছিল মূর্তিপূজার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। তারা মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে একরকম ভ‚মিকা পালন করলেও সব সময়মই একে অন্যর ওপর লুটপাট চালাত। নারী-শিশু নির্বিশেষে দাস বানিয়ে বিক্রি করে দিত। পক্ষান্তরে ইসলামে জিহাদ পরিচালনার জন্য যে সকল নিয়ম-নীতির প্রবর্তন করা হয়, তা পূর্বে আরবদের মাঝে মোটেই ছিল না। তা ছাড়া জিহাদে শুধুমাত্র আশেপাশে অবস্থানকারী গোত্রের লোকেরাই অংশগ্রহণ করত। সুতরাং দূরে বহুদূরে অবস্থানকারী গোত্রসমূহ এ থেকে কোনো ফায়দাই হাসিল করতে পারত না।
অনুরূপভাবে জিহাদে যে সকল দাসী বন্দী হতো, তাদেরকে নিজেদের ব্যবহারে খাটানোর পথ তখনই উন্মুক্ত হতো, যখন একমাস অতিবাহিত হয়ে যেত। অথবা গর্ভবতী মহিলারা সন্তান প্রসব করত। কিন্তু ইসলামপূর্ব যুগে বিজয় অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধ বন্দিনীদের ওপর যথেচ্ছাচার চালানো হতো এবং এই কর্মটি ছিল তাদের অহঙ্কারের বস্তু।
ইসলামপূর্ব যুগে বিয়ের জন্য স্ত্রীদের কোনো সীমা-সংখ্যা ছিল না। একসাথে আটজন অথবা ১০ জনকেও তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করত। ইসলাম তাদেরকে চার সংখ্যায় আবদ্ধ করে ফেলে এবং তাও কঠিনতম শর্তের সাথে যে, সকল স্ত্রীদের সাথে ন্যায়-নীতি ও ইনসাফ বজায় রাখতে হবে। কোনো মতেই বেইনসাফি করা যাবে না।
তাই দেখা যায় যে, আরবদের পূর্ববর্তী যাবতীয় অনিয়ম-অনাচার, অবিচার ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও চিন্তা-ভাবনাকে ইসলাম সমূলে উৎপাঠন করতে সক্ষম হয়েছিল বলেই তা আরব ও আজমে গ্রহণীয় ও বরণীয় হয়ে উঠেছিল। সুতরাং এ কথা জোর গলায় বলা যায়, ইউরোপের গবেষকদের এতদসংক্রান্ত ধারণা সম্পূর্ণই ভুল এবং পরিত্যাজ্য।



 

Show all comments
  • Zulfiqar Ahmed ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    পাশ্চাত্যের মুসলমানদের সম্পর্কে একটি অমূলক ধারণা হল, পাশ্চাত্যে বসবাসকারী মুসলমানরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উপর গোপনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। মুসলিমবিদ্বেষী সংগঠন ‘কৃশ্চিয়ান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ এর প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন ময়ার দাবি করেন, আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে গোপন প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে, যাতে মুসলমানরা সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তিনি তার বই ‘টুইলাইট ইন আমেরিকা’তে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের ইসলামবার্গে এরূপ একটি প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামবার্গ মূলত একটি শান্ত শহরতলী, যেটি আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলিমদের দ্বারা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক শহরের তৎকালীন বর্ণবাদের ভয়াবহ বিষবাষ্প হতে রক্ষার জন্য তারা এখানে এসে বসবাস শুরু করেছিলো। ময়ারের দাবি নিউইয়র্কের পুলিশ কর্তৃপক্ষও প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তারা নিয়মিতই এ অঞ্চলে আসা যাওয়া করে এবং আইনশৃংখলা রক্ষায় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পেয়ে থাকেন।
    Total Reply(0) Reply
  • আমিন মুন্সি ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
    ইসলাম শান্তি, মানব-প্রেম, ন্যায়বিচার, বুদ্ধিবৃত্তি, যুক্তি, সংলাপ ও পরমত-সহিষ্ণুতার ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও পাশ্চাত্যে ইসলামকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার সমর্থকদের ধর্ম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশ্চাত্য তাদেরই মদদপুষ্ট একদল বিভ্রান্ত মুসলমানদের সহিংস আচরণকে এই বিষাক্ত প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এভাবে পশ্চিমা সরকারগুলো ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক আতঙ্ক জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে যাতে তাদের জনগণ ইসলামের সত্যিকারের রূপ ও শিক্ষা সম্পর্কে অচেতন থাকে এবং ভুলক্রমেও এ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট না হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • তানভীর আহমাদ ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    এতসব বিষাক্ত প্রচারণা সত্ত্বেও পাশ্চাত্যের সত্য-পিয়াসী অনেক মানুষ ইসলামের আসল রূপ সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণা চালাতে গিয়ে এ ধর্মকে সত্যিকারের ঐশী ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং শান্তি, ন্যায়বিচার, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতায় পরিপূর্ণ এই ধর্মের বাস্তবতাগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। কানাডীয় নও-মুসলিম মিসেস লারা হলেন এমনই এক সৌভাগ্যবান ব্যক্তিত্ব।
    Total Reply(0) Reply
  • সোহাগ ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    বর্তমানে পশ্চিমাবিশ্বে ইসলামকে সর্বাধিক গুরুতর সন্ত্রাসবাদের উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় একে সম্পূর্ণ অবান্তর ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নাইন ইলেভেনের পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় মোট এক লক্ষ নব্বই হাজার মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৭ জন ইসলামী চরমপন্থীদের হাতে নিহত হয়েছে। অপরদিকে ইউরোপোল নামক অপর একটি সংস্থা দেখিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০১৩ মাঝামাঝি সময়ে সমগ্র ইউরোপে সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাত্র ০.৭ শতাংশ ইসলামী চরমপন্থীদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • সত্য পথের পথিক ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    ইসলাম বিশেষ কোনো জাতি, অঞ্চল বা দেশের ধর্ম নয়। এ ধর্ম কেবল প্রাচ্যের বা পূর্ব দেশীয় লোকদের কিংবা মুসলিম দেশগুলোর ধর্ম নয়। যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো দেশে ও যে কোনো পরিস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারেন। আসলে পশ্চিমা শক্তিগুলোই এ প্রচারণা চালাচ্ছে যে, ইসলাম বিশেষ অঞ্চল বা জাতির ধর্ম যাতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এ ধর্মের প্রভাব কমানো যায়। অথচ ইসলামের শিক্ষাগুলো সব যুগের সব দেশের ও সব শ্রেণীর মানুষের জন্য সর্বোত্তম বিধান এবং কর্মসূচি দিয়েছে। এমনকি এই ধর্ম অন্য ধর্মগুলোর অনুসারীদেরও এই আহ্বান জানায় যে, আসুন আমরা এই চিন্তাগত মতৈক্যে পৌঁছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ বা উপাস্য নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • তাসলিমা বেগম ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই বর্তমানে ইসলামকে বুঝতে দায়েশ বা আইসিসের কার্যক্রমকে বিবেচনা করেন। প্রকৃতপক্ষে, আইসিস শুধু অনৈসালিমকই নয়, বরং এটি ইসলাম বিরোধীও। ২০১৫ সালের প্রথম আট মাসে ইরাকের নয় হাজারের মত মুসলমানের মৃত্যুর জন্যও দায়ী ছিলো সংগঠনটি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার জন্যও সংগঠনটি তাদের দায় স্বীকার করেছে। মসজিদের মত পবিত্র স্থানও তাদের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি।
    Total Reply(0) Reply
  • তাসলিমা বেগম ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি নামক একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক দাবি করেছে, ২৫ শতাংশ আমেরিকান মুসলিম অপর আমেরিকান নাগরিকদের প্রতি সহিংসতার সমর্থনকারী। সংস্থাটি প্রকৃতপক্ষে ফ্রাঙ্ক গেফানি নামক একজন চিহ্নিত মুসলিম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবি দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের গবেষণার জন্য পরিচালিত জরিপে মাত্র ছয়শত জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছিলো। এর বিপরীতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশদ গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের মধ্যে মাত্র ০.০০৬৬২৫ শতাংশ চরমপন্থী ধারণা লালন করে।
    Total Reply(0) Reply
  • নীল আকাশ ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি নামক একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক দাবি করেছে, ২৫ শতাংশ আমেরিকান মুসলিম অপর আমেরিকান নাগরিকদের প্রতি সহিংসতার সমর্থনকারী। সংস্থাটি প্রকৃতপক্ষে ফ্রাঙ্ক গেফানি নামক একজন চিহ্নিত মুসলিম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবি দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের গবেষণার জন্য পরিচালিত জরিপে মাত্র ছয়শত জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছিলো। এর বিপরীতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশদ গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের মধ্যে মাত্র ০.০০৬৬২৫ শতাংশ চরমপন্থী ধারণা লালন করে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ