Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

দমন-পীড়নাতঙ্কে সিয়ানের মুসলিমরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

চীনের শানশি প্রদেশের রাজধানী সিয়ান। এই শহরের অধিবাসী ১ কোটির কাছাকাছি। কোটি পূর্ণ হলে শহরটি ‘মেগাসিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত হবে। সপ্তম শতাব্দীতে এই সিয়ান অঞ্চলে মুসলিমরা বসতি গড়তে শুরু করে। ট্যাং রাজবংশের আমলে চ্যাংগান নামে পরিচিত এই শহরে মুসলিম ব্যবসায়ীদের প্রথম আগমন ঘটে। তাদের অনেকে চীনা হান নারীদের বিয়ে করে এখানেই বসবাস শুরু করেন। এদের বংশধররা হুই নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা চীনের ৫৬টি নৃতাত্তি¡ক গোষ্ঠীর একটি। সিয়ানের মোট মুসলিম অধিবাসীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের মতো। এদের বেশিরভাগই সিয়ানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিতি মুসলিম কোয়ার্টারে বাস করেন। তবে সিয়ানের সা¤প্রতিক ঘটনাবলী মুসলিমদের আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে তুলেছে। পূর্বে মুসলিম কোয়ার্টারের সদর দরজায় চীনা ও আরবি হরফে নাম লেখা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তা সরিয়ে শুধু চীনা বর্ণে লেখা হয়েছে। সিয়ান শহরের বৃহত্তম মসজিদের একজন কমিটি মেম্বার বলেন, মসজিদে চীনের পতাকা উত্তোলনের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন সরকার দলীয় কর্মকর্তারা। তবে তিনি এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে মসজিদে একটি পতাকা স্থাপন করতে রাজি হন। পরে সেখানে কয়েকটি দলীয় পোস্টারও টানানো হয়। এছাড়া তাকে মুসলিম শিশুদের গ্রীষ্মকালীন স্কুল বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছিল। এই স্কুলে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। স্কুল বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ তাকে ‘জিনজিয়াংয়ের সন্ত্রাসীদের’ (মুসলিম) অবস্থা স্মরণ করিয়ে সতর্কও করেছে। সম্প্রতি চীনের ওয়েইজু অঞ্চলের গ্র্যান্ড মসজিদ ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই খবরে সিয়ানের মুসলিমরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। সরাসরি এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিলেও তাদের প্রতিটা ক্ষণ এখন আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে কাটে। যদিও চীনের সংবিধানে সব ধর্মের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। সিয়ানের মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, আমি মনে করি এসব নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকার থেকে আসেনি। এগুলো স্থানীয় কিছু কর্মকর্তার কাজ। সিয়ানসির রাস্তায় খাবার বিক্রেতা আয়শা মা মুসলিমদের বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক করেন। গার্ডিয়ান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন


আরও
আরও পড়ুন