Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

নির্বাচন আ.লীগকে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে

শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে চিরদিনের জন্য দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নয়, আওয়ামী লীগেরই পরাজয় হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরাজয় মনে করলেই পরাজয়। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত হয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের ভাইদেরকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আমাদেরকে জনগণকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু তা সম্ভব না। কারণ শহীদ জিয়া আমাদেরকে একটি পরিচিত দিয়েছেন। তার নাম মুছে ফেলার কথা যারা বলেন তারা বাতুলতা করেন। আজকে দেশের এই যে উন্নয়ন তার ভীত শহীদ জিয়ার হাতে গড়া। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণেই দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। মানুষ অনাহারে দিন কাটিয়েছেন। বাসন্তী তার ইজ্জত ঢাকতে পারেনি। আজকেও দশ বছর ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সমাজতন্ত্রের নামে তারা সেসময় কি লুট করেছিলেন তা জানি। গার্মেন্টস, কৃষি, শিল্প সব কিছুই জিয়াউর রহমানের হাতে সূচনা। তারা ক্ষমতা ছাড়তে চাননা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, হতাশার কোনো জায়গা নেই। এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। শহীদ জিয়া আমাদের সে শিক্ষা দিয়েছেন। যারা হতাশ, তারা কখনো জিয়াউর রহমানের অনুসারী হতে পারে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জিয়াউর রহমানের জীবনীকে তিনটি ভাগ করে বলেন, সৈনিক, প্রেসিডেন্ট ও রাজনৈতিক জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমান সফল। বিশ্বের আর কোথাও এ ধরনের নেতার জীবনে এ ধরনের সমাহার ঘটেছে বলে আমি জানিনা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। দেশের সীমানা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর যখন দেশবাসী দিশেহারা তখন ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান জাতিকে নতুনভাবে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। মৃত্যুর পর তার জানাযার নামাজে যে পরিমাণ লোক হয়েছিল তা দেশের ইতিহাসে বিরল। অতীতে কারো জানাযার নামাজে এতো লোক হয়েছিল কিনা বা আগামীতেও হবে কি না জানি না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি দেশের মানুষকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। খাল কাটা কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করেন। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্প‚র্ণ করেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতারা ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে তারা ব্যর্থ সেখানেই শহীদ জিয়াউর রহমান সফল। এজন্য তারা তাকে আজো ভয় পায়। ৩০ ডিসেম্বর তার সর্বশেষ প্রমাণ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক শহীদ জিয়া তার অবস্থানেই থাকবেন। ২৫ মার্চের পর দেশে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছিল সেসময় কঠিন সাহস নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। এ নিয়ে ৯৬ সালের আগে কেউ প্রশ্নও তুলেনি। তিনিই বাংলাদেশের মানুষকে একটি আদর্শ দিয়েছেন। সেটি হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এই আদর্শের ভিত্তিতে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত। আজো আছে এবং আগামীতেও থাকবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুইটি কারণে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তার একটি ছিল- নির্বাচনে গেলে হয়তো একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিএনপির এই যে হাজার হাজার লাখ, লাখ নেতাকর্মী উজ্জীবিত হবে। ফলে দলের ভেতরে গতি সঞ্চারিত হবে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে- আমরা সবাই জানি যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে অন্তত পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা সরকার করবে এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু না আমরা সংলাপে যাওয়ার পর আশ্বাস দেয়া হলো যে আর গায়েবি মামলা ও গ্রেফতার করা হবেনা। অথচ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ড. মঈন খান বলেন, শহীদ জিয়ার অবদান বহুমাত্রিক। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ থেকে চাল বিদেশে রফতানি শুরু করেন। তার অবদান বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তিনি শহীদ হওয়ার পর তার সততার কারণে বিশ্বের প্রভাবশালী টাইম ম্যাগাজিনে তার ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ ছাপানো হয়েছিল।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আব্দুল মান্নান, ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আযম খান, আতাউর রহমান ঢালী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিলকিস জাহান শিরিন, এমরান সালেহ প্রিন্স, খন্দকার মাশুকুর রহমান, কাজী আবুল বাশার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আব্দুল খালেক, আনোয়ার হোসাইনসহ বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ