Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ সু চি’র, রাখাইনে নিহত ১৩

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহ দমন অভিযানে সংঘর্ষে ১৩ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য হতাহত হওয়ারও খবর জানানো হয়েছে। রাখাইন পরিস্থিতি আবার অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল তুন তুন নি শুক্রবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি ২০১৯’র মধ্যে রাখাইনে আটবার সংঘর্ষ হওয়াসহ পাঁচটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়েছে। ওই সব স্থান থেকে শত্রু যোদ্ধাদের ১৩টি লাশ এবং তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন সেনাও হতাহত হয়েছেন।” সেনাবাহিনীর কতজন সেনা হতাহত হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ সংখ্যা জানার কোনো প্রয়োজন নেই।” বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে মিয়ানমারের বাইরে অবস্থান করা দলটির এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, সেনাবাহিনীর উদ্ধার করা ৫ টি লাশ ‘আমাদের যোদ্ধাদের নয়’। অপর এক খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মতো আরাকান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এ তথ্য ফাঁস করেন। এদিকে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার টালবাহানা করছে বলে আবারও সমালোচনা করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ খুঁজতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার সংগঠন আসিয়ান। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতন, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকেই দায়ী করলেও তা অস্বীকার করে এসেছেন তিনি। এবার খোদ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানালেন, রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের মতো করেই রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি। রোহিঙ্গাদের মতো বিদ্রোহীদেরও শাস্তি পাওয়া উচিৎ বলেও সু চি মন্তব্য করেন বলে জানান সামরিক এই কর্মকর্তা। মিয়ানমার মিলিটারি ইনফরমেশন কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জেনারেল তুন তুন নি বলেন, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি নির্দেশ দিয়েছিলেন। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল বিদ্রোহী বৌদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধেও একই রকম অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যাতে করে আন্তর্জাতিক মহল আমাদের পূর্বের অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারার জন্য মিয়ানমার ও দেশটির নেত্রীকেই দায়ী করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে দেশটির আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ অবস্থায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান আন্তোনিও গুতেরেস। রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ