Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বিএনপিতে পুনর্গঠন তরুণ নেতৃত্বে

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি গঠনের পর সবচেয়ে বড় পরাজয়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় তারা। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন থাকলেও সেটিকে কাজে লাগাতে না পারায় দলের নীতিনির্ধারণী নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ত্যাগী ও নির্যাতিতরা। নির্বাচনের পরদিন থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত, দলে কোনঠাসা থাকা নেতার এবং তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। দায়িত্বে থাকা সিনিয়র নেতাদের যেসব জায়গায় ব্যর্থতা রয়েছে তা তুলে ধরেন। ফলে দলে একধরণের অস্থিরতাও তৈরি হয়। তাই এই ক্ষোভ প্রসমনে এবং দলকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল করতে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। এজন্য ভোটের পর থেকেই স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, কেন্দ্রীয় নেতারা পৃথক পৃথকভাবে সিরিজ বৈঠক করছেন। প্রতিটি বৈঠকে নেতাদের সাথে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে যুক্ত হচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুনছেন নেতাদের পরামর্শ এবং তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মতামতও দিচ্ছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাইকমান্ড। যদিও দলের চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকায় জাতীয় কাউন্সিল সম্ভব হবে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ করা হবে। পাশাপাশি বিএনপির জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোতে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভোটাভোটিতে যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে। একই সময়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দলের মতো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও পুনর্গঠন করবে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে না পারলে দল কখনোই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকে না। যেটি এবার সকলে অনুভব করেছেন। আর সেই তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচনে বাণিজ্য ও পকেট কমিটি করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই এবার কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। যেখানে কাউন্সিলররা তাদের ভোটে নেতা নির্বাচিত করবেন। এর ফলে একদিকে যেমন ত্যাগী, যোগ্য নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। অন্যদিকে কমিটি গঠনে বানিজ্য ও পকেট কমিটি নির্ধারণের কোন সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, যে কোন জায়াগায় একটি কমিটি উপর থেকে চাপিয়ে দিলে যে ফল আসবে তার চেয়ে অনেকগুণে ভাল ফল আসবে যদি কর্মীরা তাদের নেতা নিজেরাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে।
নেতারা মনে করছেন- দল পুনর্গঠন হলে ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতারা মূল্যায়িত হবেন। হতাশা কেটে যাবে, নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হবেন। নতুন নেতৃত্ব আসলে গতিশীলতা ফিরবে। তখন আন্দোলনে নামতে পারবেন তারা। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তার মতামত গ্রহণ করবেন।
দল পুনর্গঠনের এই আভাস ইতোমধ্যে দলের নীতি নির্ধারণী নেতারা দিয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সেজন্য আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমগ্র দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। এখন আমাদেরকে জনগণকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, হতাশার কোনো জায়গা নেই। এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে। কমিটি ঘোষণার সময়ই ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের শিলংয়ে আছেন।
এছাড়া দলটির ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির হারুনার রশিদ খান মুন্নু, ফজলুর রহমান পটলসহ সাতজন মারা গেছেন। ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং ইনাম আহমেদ চৌধুরী। নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি কমিটি ঘোষণার পরই ফাঁকা। নির্বাহী কমিটির সাতটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের মধ্যে দুটি ফাঁকা। সহ-যুববিষয়ক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদটি এখনো ফাঁকা। এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মারা গেছেন চারজন। নির্বাহী কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ মন্ডল দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বেচ্ছাসেবক দলেরও একই অবস্থা। কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের আরও বেহাল অবস্থা। এসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের দাবি অনেক আগে থেকেই করে আসছেন নেতাকর্মীরা।
দল পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় কাউন্সিল করার কথা ভাবছে না বিএনপি। তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পাঁচটি শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে সম্মতিও দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। কেননা স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাদেরও স্থায়ী কমিটিতে স্থান দিতে চায় দলটি। একইসঙ্গে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ, দলের ভাইস-চেয়ারম্যানসহ নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদও পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, দল গোছানোর কাজ শেষ না করেই শেষ পযন্ত নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। ফলে জেলা-উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠন করতে হবে। হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হাজার হাজার নেতাকর্মীর পুনর্বাসন করতে হবে। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করবেন। সর্বোপরি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ হয়েছি নতুনদের জন্য আমাদের সরে যেতে হবে। তৃণমূলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এখন দলকে পুনর্গঠন ও নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে অভয় দিতে হবে। তাদের মাঝে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের যাদের বয়স হয়েছে তারা সরে যাবো। কিন্তু এই দলটিকে তো রাখতে হবে। দুই তিন মাসের মধ্যে আবারো দল পুনর্গঠন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।#



 

Show all comments
  • Mahabub Alam Khan ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১০ এএম says : 1
    ভূয়া নির্বাচন করে প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতাসীনরাই পরাজিত হয়েছেন !
    Total Reply(0) Reply
  • hahriar Islam Sakin ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১১ এএম says : 0
    Of course, why not?
    Total Reply(0) Reply
  • Mirza Hussain ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১২ এএম says : 1
    b n p porjitho hoi nai hoche awamilge
    Total Reply(0) Reply
  • Monir Uddin Ahmed Badal ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৩ এএম says : 0
    The level of thinking that creates problem can not solve problem..needs higher level Thinking. So BNP needs guidelines from experts-leadership, communication, marketing, propaganda and mass movement experts advise, suggestions and planning. .
    Total Reply(0) Reply
  • Akhearul Alam ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৩ এএম says : 1
    কাউন্সিল হলেও কোন লাভ নাই, এসব নেতারা ই টাকা খেয়ে জেলায় জেলায় আবার পকেট কমিটি দিবে, এসব কমিটির আন্দোলনের কোন খোজ থাকবে না, পদ নিয়ে গিয়ে কম্বল মুরি দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাবে , (বিগত কাউন্সিলের পরে খুব দেখেছি) তখন যেই লাউ সেই কদু হিসেবে আন্দোলন হবে ঈদের পর, সেটা কোন ঈদ? তা পরে জানিয়ে দেয়া হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mashud Abdullah ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৪ এএম says : 0
    Was BNP failed alone or else? Are they going to say something similar or as usual?
    Total Reply(1) Reply
    • Ashraf ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:১৮ এএম says : 1
      The Election Was stolen
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 1
    আজ থেকে তিরিশ বছর, আওয়ামিলিগ বিলুপ্তের পথে থাকবে, লিখে রাখেন যদি এভাবে চলতে থাকে।
    Total Reply(0) Reply
  • msIqbal ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 2
    বিএনপির এখন 'নীরব সংক্রান্তি' চলছে! বিএনপি এখন আন্দোলনে নীরব, মিটিং-মিছিলে নীরব, এমনকি বিএনপি এখন স্বপ্নও দেখে নীরবে! নীরব ভোটের অলীক স্বপ্ন ভেঙে যাবার পর সাতবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচবার (!?) সরকার গঠন করা বিএনপিকে আজ ''বিরোধী দল'' নির্ধারণী ম্যাচে লড়তে হচ্ছে!!
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
    অভূতপূর্ব নিষ্ঠুরতা আর ভোট ডাকাতি করে সরকার ক্ষমতায় আছে। বিএনপি নেতৃত্বের দোষ নয়। দোষ নয় জনগণেরও।
    Total Reply(0) Reply
  • Ghotok Ferdous. ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
    অবশ্যই বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে সেটা ফখরুল সাহেব নয়। এরা দু'জনও নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    দল ও দেশের জন্য যারা জীবন দিতে প্রস্তুত বিএনপির উচিৎ তাদের নেতৃত্বে আনা কোন সুবিধাবাদিদের দিয়ে দেশ , দল কিংবা মানুষ বাঁচাতে পারবেনা।
    Total Reply(0) Reply
  • ডি জেড এম হাসান বিন শফিক (সোহাগ) ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১:৩৫ পিএম says : 0
    বিএনপির ঢাউস মার্কা কমিটি না করে, পরীক্ষীত ত্যাগী, বুদ্ধিদীপ্ত,সমাজে গ্রহনযোগ্য লোকজন দিয়ে কমিটি গোছাতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আব্দুস সালাম ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ৭:৪৪ এএম says : 0
    বি এন পি থেকে দালালদের সরানো দরকার এবং ঐক্য ফ্রন্ট ভেংগে দলকে শক্তিশালী করা দরকার ডক্টর কামাল বি এন পির সাথে থাকলে বি এন পি এগুতে পারবেনা
    Total Reply(0) Reply
  • Master Nasir uddin ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ৩:২৮ পিএম says : 0
    Right time, right direction. b.n.p must take care study, tangibility, unity, discipline. powerful action and bravo. so go ahead.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২১ জানুয়ারি, ২০১৯, ৮:১৭ এএম says : 0
    সবসময় আমি দেখেছি বিএনপি সরাসরি বিশুদ্ধ পানি পান করে না তার সবসময়ই কাদা ঘেটে তারপর জল খায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমি দেখেছি প্রতিটি রাজনৈতিক দল দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করেই দলকে সেই ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। এতে যদি দলের নীতির পরিবর্তন আনতে হয় সেটাও দল করে থাকে, আবার নেতৃত্বের পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করার প্রয়োজন হলে সেটাও করে থাকে। কিন্তু বিএনপি বাংলাদেশে একমাত্র শক্তিশালী বৃহত্তর বিরোধী দল হওয়াতে এই দলের মাথারা দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছে নিজেদের স্বার্থে এটাই দেখে আসছি বহু বছর থেকে। আর এই জন্যেই আজ বিএনপি সাধারন মানুষের কাছে নিঘৃত হয়ে আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন তারা নিজেদের গা বাচাতে অনেক কিছুই বলছে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের ভুল ঠিকই বুঝেছে এবং সেই মতে এবার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ ভাল কথা বলেছেন বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। এখন দেখা যাক পরিশেষে কি হয় কারন এনারা যতই গলা বাজি করুক না কেন এনাদের কথার কোনই ফল হবে না যতক্ষন না লন্ডন থেকে তারেক রহমান অনুমতি না দেন......... আবার অনেকে মনে করেন জেলখানায় অবস্থান রত খালেদা জিয়া জেলখানায় বসে হুকুম দিলেই হয়ে যাবে আসলে তা নয়। আসল কথা হচ্ছে তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া খালেদা জিয়াও কিছুই করেন না এটাই সত্য। কাজেই ওনাদের কথা শুনে আমি যদিও অনেক কথা লিখেছি কিন্তু এর কোনই ফল হবে না যদি তারেক রহমান এসব করার জন্যে অনুমতি না দেন। এখন আমরা অপেক্ষা করছি বিএনপির সর্বশেষ পরিণতি দেখার জন্যে। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ আমাদের দেশের সাধারন জনগণকে বুঝার এবং সেই ভাবে চলার ক্ষমতা দান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন