Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

হোলি আর্টিজানে হামলায় ৩৯ লাখ টাকা সংগ্রহ

ভারত থেকে আনে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক , কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা , চার্জশিটভুক্ত মামুনুর রশিদ গাজীপুর থেকে গ্রেফতার

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেয়ার নতুন করে পরিকল্পনা করেছিল বাইরে থাকা মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে আবু মুহাজির (৩০)। হোলি আর্টিজান হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর পর এই পরিকল্পনা করেছিল তারা। গতকাল রোববার কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান। এর আগে শনিবার রাতে গাজীপুরের বোডবাজারের একটি বাসা থেকে মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গতকাল র‌্যাবের পক্ষ থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে অপর একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ডায়েরি, চারটি খসড়া মানচিত্র এবং নগদ এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, মামুনুর ৩৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিল। এই হামলার জন্য ভারত থেকে সে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করে। মামুনুর র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে এ সব জানিয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে মামুনুরের নেতৃত্বে একটি জঙ্গি দল ভারত যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ। র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আমরা মামুনুরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ত্রিশালের মতো জঙ্গি ছিনতাই পরিকল্পনা করেছিল তারা। ত্রিশালের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গিদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল তারা। মূলত হোলি আর্টিজান হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। জেএমবির আমির আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই আওয়ালের ভাগ্নে হওয়ায় রিপনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সংগঠনে। রিপনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। সে ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদরাসায় পড়ালেখা করে। ২০১৩ সালে ডা. নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে জেএমবির শীর্ষ ও নেতৃত্ব দানকারীদের অন্যতম এবং একাংশের আমির। জেএমবির এই অংশের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে মামুনুর।
তিনি আরো জানান, বিকাশের দোকান লুট করে ছয় লাখ টাকা, সিগারেটের দোকানে লুট করে এক লাখ এবং গাইবান্ধা থেকে এক লাখ টাকাসহ মোট আট লাখ টাকা জেএমবির আমির সারোয়ার জাহানের কাছে পৌঁছে দেয় সে। সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গেও পরিচয় হয় তার।
মামুনুরের বরাত দিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গিনেতা তামিম চৌধুরীর সঙ্গে সারোয়ার জাহানের একটি বৈঠকের সমঝোতা চুক্তি প্রস্তুত করা হয় ২০১৫ সালে। ওই সমঝোতার ভিত্তিতে সারোয়ার জাহানকে আমির নির্বাচিত করা হয়। তার সাংগঠনিক নাম দেয়া হয় শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। হোলি আর্টিজানে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের জন্য মামুন ভারতে আত্মগোপনে চলে যায়। সে জেএমবিকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ফের বাংলাদেশে আসে। সম্প্রতি তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
হোলি আর্টিজানে হামলার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, তারা ২০১৫ সালে গাইবান্ধায় মিটিং করে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা করে। মামুন হামলার জন্য তিনটি একে টু ও একটি পিস্তল সরবরাহ করেছিল। জঙ্গি মারজানের মাধ্যমে সরোয়ার জাহানকে এসব পাঠায় মামুনুর। হোলি আর্টিজানে হামলার আগের দিন বারিধারায় মিটিং করেছিল জঙ্গিরা। এ ছাড়া নির্বাচনের আগেও নাশকতার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জেএমবি বর্তমানে কার নেতৃত্বে চলছে জানতে চাইলে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে জঙ্গি সালেহীন সক্রিয় ও সংগঠিত করার কাজে আছে। জামিনে থাকা ও পলাতক জঙ্গিরা জেএমবিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হোলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন রেস্তোরাঁকর্মী। হোলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় ২১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে আরো আটজন নিহত হন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জঙ্গি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ