Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০ হিজরী।

আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল শুরু

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

আফগানিস্তানে চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য রোববার নমিনেশন দাখিল করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিলো তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘানি ও আব্দুল্লাহর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা করা হয়।

২০ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এ পর্যন্ত যে ১৪ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ঘানি ও আব্দুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানের ১৭ বছর যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারই মধ্যে এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। তালেবানরা দেশের প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এক সংক্ষিপ্ত ঘানি বলেন, আমরা শান্তি আনবো। কিন্তু এর জন্য ভিক্ষা করবো না। তিনি দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করারও অঙ্গীকার করেন।
২০১৪ সালে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন ঘানি ও আব্দুল্লাহ। ফলে দ্বিতীয় দফা ভোট নিতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভোটের ফল ঘোষণার আগেই আব্দুল্লাহ গণহারে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরুর হুমকি দেন। তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির মধ্যস্থতায় একটি ঐক্য সরকার গঠিত হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনকে রানঅপ ভোটের ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রাখতে রাজি করান। এতে ঘানিকে বিজয়ী করা হয়েছিলো বলে মনে হয়।
পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘানির নাম ঘোষণা করা হলেও আব্দুল্লাহকে নতুন সৃষ্ট পদ প্রধান নির্বাহী করা হয়। এই ব্যবস্থা দুই বছর কর্যকর থাকবে বলে ধরা হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বহাল রয়েছে। ফলে সরকারের মধ্যে গভীর বিভক্তি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। আব্দুল্লাহ জানান যে তিনি নির্বাচিত হলে একজন প্রধান নির্বাহী রাখবেন। অন্যদিকে ঘানি এই পদ বিলুপ্ত করবেন বলে জানিয়েছেন। এমন এক সময় এই নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে যখন প্রায় প্রতিদিনই তালেবান ও আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর হামলায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। রোববার পূর্বাঞ্চলীয় লোগার প্রদেশে তালেবানদের আত্মঘাতি বোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৮ সদস্য নিহত হয়। প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ নাসের ঘাইরাত জানান, ওই হামলায় প্রাদেশিক গভর্নর ও গোয়েন্দা প্রধানকে টার্গেট করা হয়। তবে দুজনই বেঁচে গিয়েছেন। মিডিয়ায় পাঠানো এক বিবৃতিতে তালেবানরা হামলার দায় স্বীকার করেছে। সূত্র : এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন