Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০ হিজরী।

আলোর উৎসব ‘ফেট দু লুমিয়ের’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯, ৮:৫৫ পিএম

ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে প্রতিবছর আলোর উৎসবের আয়োজন করা হয়৷ সেই সময় পুরো শহরটাই যেন এক মিউজিয়ামে পরিণত হয়৷ আর তা দেখতে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ ছুটে যান সেখানে৷ গত ডিসেম্বরে ‘ফেট দু লুমিয়ের’ নামে পরিচিত এই আলোর উৎসবকে ঘিরে আশিটির বেশি লাইট ইন্সটলেশন বসানো হয়েছিল৷ এগুলোর নকশা, মিউজিক সবমিলিয়ে শহরটি যেন এক ওপেন-এয়ার থিয়েটারে পরিণত হয়েছিল৷

‘ফেট দু লুমিয়ের’ উৎসবের একটি ধর্মীয় অতীত আছে৷ সপ্তদশ শতকে প্লেগ রোগের প্রকোপ থেকে শহরের বাসিন্দারা রক্ষা পেলে ভার্জিন মেরির একটি প্রতিমূর্তি স্থাপনের অঙ্গীকার করেছিল লিয়ঁ৷ পরে সেই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়৷ প্রতি বছরের শুরুতে ঐ ঘটনার স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হতো৷ এখন মোমবাতির পাশাপাশি রাইনের পাড়ের ফরাসি শহরটি আলোয় সেজে ওঠে৷ ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন চলে আসছে উনিশ শতক থেকে৷ দিনের আলো ফুরিয়ে এলে লাইটিং আর্টিস্টরা বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে আলো ফেলে নানা রকম ইল্যুশন তৈরি করেন৷

সান ও রোনে নদী দুটি লিয়ঁতে এসে মিশেছে৷ একেক নদীর পানির উপরিভাগ একেক রকম হওয়ায় বিভিন্ন রংয়ের প্রতিফলন ঘটে দারুণ দৃশ্য তৈরি হয়৷ উৎসবের পরিচালক ডামিয়েন ফন্টেইন বলেন, ‘লিয়ঁর নাগরিকরা দেড়শ’ বছর আগে যেমন আতশবাজির আয়োজন করতো, আমরা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তার পুনরাবৃত্তি করি৷ এভাবে আমরা শহর কর্তৃপক্ষকে সম্মান জানাই৷ সেই সঙ্গে সম্মান জানাই ভার্জিন মেরি ও তার আধ্যাত্মিক শক্তিকে, যা আজও এখানে অনুভূত হয়৷’

লিয়ঁ ক্যাথেড্রালেরলাইট শো-টি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি৷ পর্তুগালের ওকোবু আর্ট স্টুডিও পানিতে রঞ্জক পদার্থ, কালি ও ফুল ছড়িয়ে বিমূর্ত পেইন্টিং তৈরি করেছিল৷ শিল্পী নুনো মায়া বলেন, ‘এটি সবুজ থেকে নীল হয়ে হলুদ থেকে মাল্টিকালার হয়৷ আমরা শেষ করেছি গোলাপি দিয়ে, যা লিয়ঁতে বেশ পরিচিত একটি রং৷ এর মাধ্যমে আমরা লিয়ঁর প্রতি সম্মান জানিয়েছি৷’ সূত্র: ডি ডব্লিউ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন