Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

সোনার বাংলার আয় কমেছে

এনআইডিতে টিকিট বিক্রি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

পূর্ব ঘোষণা এবং কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই জাতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখানোর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি পদ্ধতি চালু করায় সোনার বাংলা ট্রেনের যাত্রী কমতে শুরু করেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ট্রেনটির ঢাকা স্টেশনে গড়ে প্রতিদিন ৩১ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে প্রতিদিন ৫৬ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কমেছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, টিকিট বিক্রি ও তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত জনবল না বাড়িয়ে এনআইডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। এনআইডি যাচাইয়ের সফটওয়্যার তৈরি না করা পর্যন্ত নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরও সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা স্টেশনে ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলার টিকিট বিক্রি হয় ৫ লাখ ৪ হাজার ৪৮৫ টাকা। ঢাকা থেকে ১৬ জানুয়ারি ট্রেনটির সাপ্তাহিক বিরতি ছিল। ১৫ জানুয়ারি এবং ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ দিনে টিকিট বিক্রি হয় ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ টাকা। অর্থাৎ ঢাকায় ট্রেনটির দৈনিক গড় আয় কমেছে ৩১ হাজার টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টেশনে ১০ থেকে ১৪ জানুয়ারি ৫দিনে ঢাকামুখি সোনার বাংলার টিকিট বিক্রি হয় ৫ লাখ ৬১ হাজার ১৫২ টাকা। ১৫ জানুয়ারি থেকে এনআইডি কার্ড দেখিয়ে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওই দিন চট্টগ্রামে ট্রেনটির সাপ্তাহিক বিরতি ছিল। ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেনটির টিকিট বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৯২ টাকা। অর্থাৎ এনআইডি ব্যবহারের পর চট্টড়ুাম স্টেশনে ট্রেনটির গড় আয় কমেছে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা।
পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গণপরিবহনে এনআইডি ব্যবহার পার্শ্ববর্তী দেশেও নেই। তবে উন্নত বিশ্বের কেনো কোনো দেশে পাসপোর্ট দেখিয়ে ওই দেশের নাগরিকরা সংরক্ষিত আসনের আগাম টিকিট কিনে থাকেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে এনআইডি ব্যবহার করতে সাধারণ মানুষ অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি।
সূত্র জানায়, টিকিট বিক্রি এবং তল্লাশির সঙ্গে কাউন্টারে বুকিং সহকারী, চলন্ত ট্রেনে ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) এবং স্টেশনের গেইটে টিকিট সংগ্রাহক (টিসি) যুক্ত। কেউ বিনা টিকিটে ভ্রমণ করলে টিটিই এবং টিসি তা শনাক্তের মাধ্যমের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। মাঝে মধ্যে চলন্ত ট্রেন বা নির্দিষ্ট স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়। আদালত তখন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কারাদন্ড বা জরিমানা করে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বুকিং সহকারী ৩০৮ জনের পরিবর্তে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮৯ জন। টিকিট বিক্রি করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এনআইডি পরীক্ষা করার সময় তাদের নেই। কালোবাজারিরা একটি এনআইডি ব্যবহার করে দিনে একাধিকবার টিকিট কিনলে তা যাচাই করার সুযোগ নেই। এতে করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশনে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কালোবাজারিরা ৫ থেকে ৭ বার পর্যন্ত টিকিট সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করতে টিটিই যেখানে ১৮০ জন প্রয়োজন, সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫ জন। এতে অনেক আন্তনগর ট্রেন চলছে টিটিই ছাড়া। এ ছাড়া পর্যাপ্ত টিকিট সংগ্রাহক বা টিসি নেই। টিসি পদে পূর্বাঞ্চলে ১০২টি জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৮ জন।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, এনআইডি যাচাইয়ের সফটওয়্যার না বসিয়ে এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না দিয়ে টিকিট বিক্রির নতুন সিদ্ধান্ত চালু করা হয়েছে। এতে রেলের রাজস্ব আয়ে ধস নামবে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তিনি কালোবাজারি কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ট্রেনের আগাম টিকিট ১০ দিনের বদলে ৩ দিন আগে বিক্রির নিয়ম চালু করেন। এ ছাড়া ই-টিকিটিং বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি তিনিই চালু করেন। তখন এনআইডি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেও সমস্যা হতে পারে ভেবে তিনি পিছিয়ে যান। তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সময়ে করা কোটা পদ্ধতির অপব্যবহার করে টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আমলে আগাম টিকিট ১০ দিনের বদলে ৩ দিন আগে বিক্রির নিয়ম চালু হওয়ায় কালোবাজারিদের উৎপাত কমে গিয়েছিল। কাউন্টারে সহজে টিকিট পেয়েছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিদায়ী মন্ত্রীর আমলে আগাম টিকিট বিক্রি ৩ দিনের পরিবর্তে আবার ১০ দিন করা হয়। এতে কালোবাজারিদের দাপট বেড়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সোনার বাংলা দেশের সবচেয়ে স্মার্ট ট্রেন। শিক্ষিত লোকেরা এটিতে ভ্রমণ করেন। এ জন্য আমরা পাইলট প্রকল্প হিসেবে ট্রেনটি বেছে নিয়েছি। নতুন পদ্ধতি সবেমাত্র চালু হলো। এতে যদি রেলের আয় কমে, তাহলে পুরোনো পদ্ধতিতে চলে যাব।
এদিকে কালোবাজারি বন্ধে ট্রেনের টিকিট কেনায় এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা গত রোববার জানিয়েছেন নতুন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিট কেনার নতুন পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে রেলওয়ে। #



 

Show all comments
  • Muhammad Shafiuddin ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
    সোনার বাংলায় দুর্নীতি ভর করছে
    Total Reply(0) Reply
  • Jashim Uddin ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
    ঢাকা থেকে বিকেল ছয়টায় একটা ট্রেন যদি চট্টগ্রামের পথে চালু করা যেতো তবে অনেক ভালো হতো।।।।।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রেন

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ