Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

পরিবারকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে আসেন হন্ডুরাসের কিশোরী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ৩:৪৫ পিএম

গত বছরের অক্টোবর মাসে মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস থেকে শরণার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন নাহিন নামে কিশোরী। পরিবারকে না জানিয়েই গোপনে ঘর ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় সে নিজের মায়ের কাছ থেকেও বিদায় নিয়ে আসেননি বলে জানিয়েছে সেই কিশোরী। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত নাহিনের এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানা যায়।
সাক্ষাৎকারে নাহিন বলেন, ‘আমি আমার মাকে শেষবারের মতো বিদায়ও জানাইনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর বিষয়ে তার সঙ্গে আগে থেকে কিছুই শেয়ার করতে পারিনি।’ হন্ডুরাস থেকে শরণার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এ কিশোরী আরও বলেন, ‘মাকে যদি এ বিষয়টি জানাতাম তাহলে তিনি বলতেন, যেও না। এটা সম্পূর্ণ বিপজ্জনক একটি সিদ্ধান্ত। মূলত সে কারণে আমি আর জানানোর সাহস পাইনি। আসার সময় পুরোটা পথ কাঁদতে কাঁদতে এসেছি।’
সাধারণ এক নাগরিক থেকে আচমকা শরণার্থী হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরী বলেন, ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন আমার চাচাতো বোনের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে যাত্রা শুরু করেছিলাম।’ নাহিন আরও বলেন, ‘একদিন হঠাৎ করে আমার চাচাতো বোন আমাকে বলেছিলেন, তারা বাসে করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমাচ্ছেন এবং আমি চাইলে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারি। এমনকি আমার যাওয়ার খরচ সেই চাচাত বোনই দেবেন বলেছিলেন। যেতে চাইলে কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানীয় চার্চের সামনে উপস্থিত হতে হবে।’ কিশোরীটি আরও বলছেন, ‘এদিকে অর্থের অভাবে হন্ডুরাসে আমার পড়াশোনা প্রায় বন্ধের পথে। সবমিলিয়ে পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলাম। মূলত সে কারণেই বোনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’
উল্লেখ্য, হন্ডুরাস থেকে শরণার্থী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এ কিশোরী ভেবেছিলেন, দেশটিতে প্রবেশের পর সে তার মাকে অন্তত সাহায্য করতে পারবেন। যদিও এখনো সেই স্বপ্ন ম্লান হয়নি তার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হন্ডুরাস
আরও পড়ুন