Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী খুনের ৫ দিন পেরুলেও পুলিশ অন্ধকারে

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ৭:৩৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে হত্যার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঘাতককে গ্রেফতার বা সনাক্ত করতে পারেনি। এ নিয়ে নিহতের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত শনিবার দুপুরে বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার ত্রিবেণীপুল সংলগ্ন মাবিয়া ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে নৃশংস ভাবে গৃহবধূ নাঈমা রহমানকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক। দিনে দুপুরে বন্দর থানার মাত্র তিনশ গজ দূরে এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষ করে হত্যাকান্ডের পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। বলতে গেলে পুলিশ এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুরোপুরি অন্ধকারেই রয়েছে।
এদিকে স্ত্রী খুনের খবর পেয়ে থাইল্যান্ড থেকে গত রোববার দেশে ফিরে আসেন আনিসুর রহমান। কী কারণে তার স্ত্রী খুন হয়েছেন সে বিষয়ে তার কোন ধারণাই নেই। কারা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সে বিষয়েও তিনি কিছু বলতে পারেননি। তবে ঘটনার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতককে গ্রেফতার করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ছোট দুই ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তায় তার কপালে চিন্তার ভাজ লক্ষ্য করা গেছে। তবে তিনি জানতে চান, কেন তার স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, মামলাটি উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই। তারা কাজ করছেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা তদন্তে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। একটি বিষয়কে সামনে রেখেই তারা তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে সেই বিষয়টি কি তা তিনি প্রকাশ করেননি। ঘটনার পর লাশের পাশ থেকে উদ্ধার করা মানিব্যাগ এবং সেই ব্যাগে থাকা এক ব্যক্তির ছবিটি কার সেটি সনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তিনি বলেন, অপরাধী অপরাধ করে একস্থানে বসে থাকে না। আমরা শিগগিরই এ ঘটনায় ভাল একটা কিছু দিতে পারবো। ঘাতক যে নিহতের পরিচিত সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তা না হলে বাসার তালা কোথায় রাখা হয় সেটি ঘাতকের জানার কথা ছিল না। হত্যাকান্ড ঘটিয়ে ঘাতক বাইরে থেকে ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করেই পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে গৃহবধূ নাঈমা রহমানকে তার ভাড়া ফ্ল্যাটে কুপিয়ে হত্যার পর লাশের পরিধেয় কাপড়ে অগ্নিসংযোগ করে ফ্ল্যাট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় ঘাতক। নিহতের দশম শ্রেণিতে পড়ুয় মেয়ে আনুশী দুপুরের খাবার খেতে বাসায় ফিরে দেখে ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। সে নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে দেখে ঘরের ভেতর থেকে পোড়া গন্ধ বেরুচ্ছে। শয়ন কক্ষে গিয়ে আনুশী তার মায়ের নিথর দেহে আগুন জ¦লতে দেখে। বাথরুম থেকে পানি এনে আগুন নিভিয়ে চিৎকার করলে পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশের পাশ থেকে রক্তমাখা বটি, একটি মানিব্যাগ এবং একটি সিগারেট উদ্ধার করে।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় একজনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নারায়ণগঞ্জ

১৯ জুলাই, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ