Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেনি ববির রেজিস্ট্রার মনিরুল

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মনিরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় অব্যহতি নিতে বলেছিলো সিন্ডিকেট। কিন্তু তা না করে একাধিকবার ছুটি নিয়ে কালক্ষেপণ শুরু করলে কর্তৃপক্ষ মনিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ববি কর্তৃপক্ষের এই আদেশ উচ্চাদালত থেকে স্থগিত করার আদেশ নিয়ে গতকাল কর্মস্থলে যোগদান করতে আসেন তিনি। কিন্তু তার যোগদানপত্র গ্রহণ না করে ভিসি প্রফেসর ড. এস.এম ইমামুল হক তা আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে বরখাস্ত হওয়া রেজিস্টার মনিরুল ইসলাম গতকাল (বুধবার) কর্মস্থলে যোগদান করতে আসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি বিশ^বিদ্যালয়ে চাকরি প্রত্যাশী এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক আচারণের অভিযোগ ওঠে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তখন বিশ^^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মনিরুল ইসলামের বিচার দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী চাকুরী প্রত্যাশীও ববি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ফোরাম, সিন্ডিকেটের সভায় অভিযোগ পর্যালোচনা করে মনিরুল ইসলামকে দোষী সাবস্ত্য করে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তবে সরাসরি অব্যহতি না দিয়ে সিন্ডিকেট মনিরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় অব্যহতি নেওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু মনিরুল ইসলাম তা না করে বার বার ছুটি নিয়ে টালবাহানা করছিলেন। এ অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ববি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. হাসিনুর রহমান অনতিবিলম্বে অব্যহতি নেওয়ার জন্য মনিরুল ইসলামকে চিঠি দেন। কিন্তু ওই চিঠিও আমলে না নেওয়ায় ২০ জানুয়ারি ভিসি প্রফেসর ড. এস.এম ইমামুল হক রেজিস্ট্রারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার পর মনিরুল ইসলাম উচ্চাদলতে গিয়ে বরখাস্তাদেশের বিরুদ্ধে রিট পিটশন করলে বিজ্ঞ আদালত তা স্থগিত করেন।
উচ্চাদালতের ওই আদেশ নিয়ে গতকাল বেলা ১১ টায় মনিরুল ইসলাম প্রথমে ভিসির কক্ষে যান এবং আদালতের ওই আদেশ দেখিয়ে কাজে যোগদান করতে চান। কিন্তু ভিসি তাকে যোগদান করতে দেননি। এক পর্যায়ে মনিরুল ইসলাম ড. হাসিনুর রহমানের কক্ষে গিয়েও যোগদান করতে আসার কথা জানান। কিন্তু বিষয়টি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জানাজানি হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে মনিরুলকে কোনোভাবেই যোগদান করতে না দিতে আহŸান জানান। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন বরখাস্ত হওয়া রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম।
বরখাস্ত হওয়া রেজিস্টার মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এ কারণে তিনি আদালতের ™^ারস্থ হয়েছেন। কিন্তু আদালতের রায় অনুযায়ী তাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বিষয়টি নিয়ে আবারও আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বরিশাল

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ