Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

’২৪ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার পোশাক রফতানির আশা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, ২০২৪ সালে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরী পোশাক রফতানি করা সম্ভব। বর্তমানে দেশের মোট রফতানির ৮১ দশমিক ২৩ ভাগ আসে তৈরী পোশাক রফতানি থেকে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যআয়ের দেশে পরিনত হবে। এ সময় তৈরী পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাধ্য ধরা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরী পোশাক রফতানিতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতের রফতানি বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। ব্যাংকের লোন সহজ ও সুদের হার কমানো প্রয়োজন। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান এখন ৩২ ভাগ। দ্রুতগতিতে দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশের উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠতে বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজক সংস্থা সেমস গ্লোবাল এবং চায়নার সাব-কাউন্সিল অব টেক্সটাইল ইনডাষ্ট্রি টেক্স এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী ‘১৫তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন এন্ড ফেব্রিক শো-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

টিপু মুন্শি বলেন, দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এবং ভারত থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। দেশের এগিয়ে যাবার জন্য সকল ক্ষেত্রে কাজ চলছে। দেশে শিল্পায়নের জন্য চাহিদা মোতাবেক সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মেলায় ২২টি দেশের ৩৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে নিত্য নতুন প্রযুক্তি, সুতা, ডেনিম,নিটেড ফেব্রিক্স, ফ্লিস, ইয়ার্ন এন্ড ফাইবার, রং, রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং উদ্ভাবনী কাঁচামাল। মেলা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সন্ধা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
সেমস্গ্লোবালের কর্ণধার মেহেরুন এন. ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ এর ফাষ্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মনসুর আহমেদ এবং চায়নার সাব-কাউন্সিল অব টেক্সটাইল ইনডাষ্ট্রি টেক্স এর পরিচালক সেন জেন।

ওষুধ ক্রয়ে আগ্রহী ফিলিপাইন
এদিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে গতকাল অপর এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি তাঁর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ভিসেন্ট ভিভেনসিও টি বানদিলোর সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিপাইন বাংরাদেশ থেকে ওষুধ ক্রয় করতে আগ্রহী। এ মূহুর্তে প্রায় সাত মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ওষুধ রফতানি হলেও, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ফিলিপাইন বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক সামগ্রী, এ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং ও চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেবা খাতে ফিলিপাইনের কিছু জনবল বাংলাদেশে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্পেশাল ইনোকনমিক জোনে পিলিপাইন বিনিয়োগ করবে। বর্তমানে ফিলিপাইনের সঙ্গে বাংরাদেশের বাণিজ্য খুব বেশি নয়। বাংলাদেশ ফিলিপাইনে প্রধানতঃ তৈরী পোশাক শিল্পের এক্সেসরিজ, ওষুধসহ কিছু পণ্য রফতানি করে আসছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ফিলিপাইনে ৪৭ দশমিক ০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডণার মুল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে ৮ দশমিক ০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য আমদানি করেছে। উভয় দেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পোশাক রফতানির
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ