Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে গড়তে হবে বৃহত্তর ঐক্য

বগুড়ায় মির্জা ফখরুল

মহসিন রাজু, বগুড়া থেকে | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১৪ এএম, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর দেশে প্রকৃত পক্ষে কোন নির্বাচনই হয়নি, হয়েছে নির্বাচনের নামে প্রহসন। ওই নির্বাচন আমরা সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাখ্যান করেছি। এই নির্বাচনী প্রহসন প্রমাণ করেছে, ১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি তথা ২০ দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক।
মির্জা ফখরুল গতকাল বুধবার দুপুরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে স্থানীয় হোটেল কনফারেন্স রুমে বগুড়া সদর বিএনপি আয়োজিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক শুভেচ্ছা সভায় এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমার কাছে কারাবন্দী নেত্রীর নির্দেশনা এসেছে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সব দ্বিধাদ্বন্দ¦ ভেদাভেদ ভুলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট এবং এর বাইরে যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে সবাইকে সাথে নিয়ে গড়ে তুলতে হবে বৃহত্তর ঐক্য।
ফখরুল বলেন, এই মুহূর্তে দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করায় হবে আগামী দিনে আমাদের মূল কাজ। বগুড়া সদর থানা বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সাবেক সভাপতি পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জি এম সিরাজ, ফজলুল বারী তালুকদার বেলালসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ।
শুভেচ্ছা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন এক অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ মন খুলে কথা পর্যন্ত বলতে পারছেনা। নির্বাচনের আগে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে দমন পীড়ন অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে নির্বাচনের পরও তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে তথাকথিত মহাবিজয়ের পর আওয়ামী লীগ বড়বড় কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে তারা জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুবর্ণচরের ধর্ষিতা নারীকে দেখতে গেলে হাসপাতালে এত মানুষ উপস্থিত হয় যে সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নোয়াখালিসহ যেখানেই গিয়েছি সেখানেই নেমেছে জনতার ঢল। এবারের ভোটে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও ভোট দিতে পারেনি। গণতন্ত্র ও ভোটপ্রিয় ৯৯ শতাংশ মানুষই এখন আওয়ামী লীগের বিপক্ষে চলে গেছে।
তিনি বলেন, গ্লোবাল পলিটিক্সে এখন গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে আমাদের নতুন করে পথ চলা ঠিক করতে হবে। শহীদ জিয়ার দেখোনো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতির বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে ।
মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অনুষ্ঠিত এই সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কি হয়েছিল বিএনপি মহাসচিবের সাথে বগুড়ায় ?
বগুড়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাথে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুলের বাগবিতন্ডা বা হাতাহাতির যে সংবাদটি গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে ভিপি সাইফুল ইনকিলাবকে বলেছেন, তার সাথে দলের মহাসচিবের কোন কথা কাটাকাটি হয়নি। ঠাকুরগাঁও থেকে দলের মহাসচিব ঢাকা ফেরার পথে বগুড়ায় যাত্রা বিরতীর সময় স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীদের সাথে একটি মত বিনিময়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি ঢাকায় থাকায় আয়োজনটি করার কথা দলের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন চানকে দিয়ে পরবর্তী ফলোআপ তাকে জানানোর কথা বলে দেন। তবে সেক্রেটারি আয়োজন করে বিষয়টি সভাপতিকে না জানানোয় তিনি অন্য মাধ্যমে জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে বগুড়ায় পৌঁছে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মহাসচিবের সামনেই জয়নাল আবেদীন চানের কাছে জানতে চান কেন মহাসচিবের প্রোগ্রামের কথা তাকে জানানো হলো না। জবাবে সেক্রেটারি চান যে ব্যাখ্যা দেন তাতে সন্তষ্ট না হওয়ায় দুজন হোটেল মম ইনের লিফটের ভিতরে বাগবিতন্ডায় জড়ান। দুজনের বিতন্ডা থামাতেই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ভিপি সাইফুলের গায়ে হাত দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন। ঠিক এসময় লিফটের দরজা খোলা হলে উপস্থিত ফটো সাংবাদিকরা ছবিটি তোলেন ও বিভিন্ন মিডিয়ায় তা মহাসচিবের সাথে বাগবিতন্ডা হিসেবে কোনো কোনো মিডিয়ায় তা প্রচারিত হয় ।
সভাপতির ওই বক্তব্য সম্পর্কে সেক্রেটারি চানও বলেন, আসলে মহাসচিবের সাথে কারো কিছু হয়নি হওয়ার প্রশ্নও ওঠে না আসলে প্রোগ্রাম নিয়ে আমার সাথে সভাপতি ভিপি সাইফুলের কথাকাটি হয়েছে। আর সভাপতি বেশি উত্তেজিত হওয়ায় তিনি তাকেই থামিয়ে দিয়েছেন মাত্র।



 

Show all comments
  • Mohammed S Islam Arif ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
    স্যার আপনারা শুধু ঐক্যের ডাকই দিয়ে গেলেন। কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে দেখলাম না।
    Total Reply(0) Reply
  • আমিন মুন্সি ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
    এত দুর্বল নেতৃত্বে কিভাবে বৃহত্তর ঐক্য গড়া সম্ভব। আপনারা আগে নিজেদের প্রস্তুত করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • রাজনীতি নিছক ছলনা ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    তাতো বুঝলাম। কিন্তু বৃহত্তর ঐক্য হবে কিভাবে, একটু বলবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • রাজনীতি নিছক ছলনা ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    একমত!!! তবে আশাবাদী হতে পারলাম না।
    Total Reply(0) Reply
  • বিপ্লব হোসেন ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
    গণতন্ত্র আর ফিরবে না, ভারতে বেড়াতে গেছে, তারা কাছে পেয়ে গণতন্ত্রকে এমন রেপ করা করেছে যে, বাচ্চা জন্ম নিতে গিয়ে মারা গেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • সত্য তিঁতা ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
    ফ্যাসিবাদী সরকার হটাতে হলে বিপ্লব করতে হবে, তাছাড়া কোনো পথ নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • সোহেল রানা ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ২:০৪ এএম says : 0
    শিগগিরই ভারতবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলুন। যত দেরি করবেন গোলামি ততই পাকাপোকত হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি

১ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন