Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সরকারি চাকরি নয় সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কোটিপতি তিন কর্মচারী

সেলিম আহমেদ, সাভার থেকে | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। একাধিকবার দুদক অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না দুর্নীতি। সাব-রেজিস্ট্র্রার অফিসের রেকর্ড কিপার বাবুল মিয়া, উমেদার আব্দুর রহিম ও নকলনবিশ মামুন কায়সার কয়েক বছরেই কোটিপতি বনে গেছেন। অথচ তারা সরকারী কোনো কর্মচারী নন। সাব-রেজিস্ট্রারের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেন। দুদকের অভিযানের পর থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, বাবুল মিয়া, আব্দুর রহিম ও মামুন কোনো সরকারী কর্মচারী না। তারা সাব-রেজিস্ট্রারের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। তবে তাদের হাতেই জিম্মি এ অফিস। একসময় ঠিকমতো খাবার পেত না, আর এখন তারা লাখ লাখ টাকার মালিক।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, রেকর্ড কিপার বাবুল মিয়ার দায়িত্বে থাকে মূল্যবান দলিল ও ফাইলপত্র। তার বিরুদ্ধে প্রায়ই দলিল পত্রের গোপন নথি বাইরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এভাবেই তিন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
বাবুল মিয়ার পৌর এলাকার ২৮/৬ দক্ষিণ দড়িয়াপুর মহল্লায় ৬ তলা একটি বাড়ি, আশুলিয়া বাড়ি ও প্লট, নোয়াখালী জেলার ল²ীপুরে বাড়ি ও জমি রয়েছে। রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্সও। যার সবই দুর্নীতির মাধ্যমে রোজগার করা টাকার। কিন্তু চতুর বাবুল নিজ ও পরিবার সদস্যদের নামে সব সম্পত্তি করেছেন। নিজের বাড়ি থাকা সত্তে¡ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পেছনে ভাড়া থাকেন।
তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে রেকর্ড কিপার বাবুল মিয়া বলেন, প্রায় ২০ বছর যাবৎ চাকুরী করছি। কিছু কিছু টাকা জমিয়ে ও বড় বড় কোম্পানীর সাথে জমি কেনাবেচায় সহযোগিতা করে এসব সম্পত্তি করেছি। তবে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কোনো নথি টাকার বিনিময়ে বাইরে কোথাও দেইনি।
নকলনবিশ মামুন কায়সার এখন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নেতা। তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে দলিলের তথ্য বিক্রি করে কুমিল্লায় কয়েক বিঘা জমি ও বাড়ি করেছেন। এছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্সও রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
উমেদার আব্দুর রহিম সরকারী কর্মচারী না হয়েও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রারের আস্থাভাজন হওয়ায় তার সব দুর্নীতি ও আন্ডারভ্যালু দলিলের টাকা রহিমের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। সে থেকেই রহিম আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। সাভারে তিনি একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে যান। কিন্তু একাধিক বিয়ে ও মামলায় জড়িয়ে পড়ে কয়েকটি বাড়ি বিক্রি করে দেন। তবে এখনও থেমে নেই তার দুর্নীতি।
সম্প্রতি রাজধানীতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুর্নীতির বিষয় নিয়ে দুদকের গণশুনানি হয়। এসব বিষয়ে নড়েচড়ে বসে দুদক। তারা কয়েক দফায় অভিযান পরিচালনা করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দুর্নীতিবাজরা। তারা এখন বাঁচার পথ খুঁজছেন। দুদকের কবলে যাতে তাদের না পড়তে হয় এজন্য বিভিন্ন মহলে তদবিরও করছেন বলে জানা গেছে। সাভার সাব-রেজিস্ট্রার আবু তালেব সরকারের কাছে তার অফিসের রেকর্ড কিপার, উমেদার ও নকলনবিশের কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সরকারি চাকরি


আরও
আরও পড়ুন