Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদন

গত বছর সহিংসতার শিকার সাড়ে ৪ হাজার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

২০১৮ সালে সারা দেশে ৪ হাজার ৫৬৬টি শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৫৪টি শিশু অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে এবং ৮১২ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)।
ওই প্রতিবেদন বলা হয়, দেশে কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ২০১৮ সালে ২৯৮টি শিশু আত্মহত্যা করেছে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১৩। শিশুদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।
শিশু ধর্ষণের পরিস্থিতি তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭১ শিশু। এর মধ্যে ৯৪টি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, ২৮টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৬০টি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণের পর অপমান সইতে না পেরে ৬টি শিশু আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়া একই বছরে ৪৩টি শিশু ইভটিজিং ও ৮৭টি শিশু যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে হত্যার শিকার হয়েছে ৪১৮টি শিশু, যা ২০১৭ সালে ছিল ৩৩৯টি। অর্থাৎ শিশুহত্যা বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। হত্যার শিকার ৪১৮টি শিশুর মধ্যে ৮১টি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে, ৫৩টি শিশু বাবা-মায়ের হাতে খুন হয়েছে, ৩১টি শিশুকে পিটিয়ে মারা হয়েছে এবং ৬টি শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৬২৭ শিশু এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬০৬টি শিশু। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, শিশু অধিকার রক্ষায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। শিশুদের জন্য একটি অধিদপ্তর গঠন করার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের চিফ টেকনিকাল এডভাইজর শর্মিলা রাসুল বলেন, কাঙ্খিত লক্ষ অর্জনে শিশুর প্রতি সহিংসতা নির্ম‚ল ও সব ধরণের সহিংসতা প্রতিহত করতে হবে। বিএসএএফের চেয়ারপারসন খাজা শামসুল হুদার সভাপতিত্বে সংস্থাটির পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ প্রতিবেদন উপাস্থাপন করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন